December 7, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

মিঠাপুকুরে ভুয়া কাজীর হাতে ২ হাজার বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রি

মিঠাপুকুরে ভুয়া কাজীর হাতে ২ হাজার বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রি

মিঠাপুকুরে ভুয়া কাজীর হাতে ২ হাজার বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রি

রুবেল ইসলাম,মিঠাপুকুরঃ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ভূয়া নিকাহ্ রেজিস্ট্রার সেজে ৭ বছরে বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রি করে কোটি টাকা আয় করেছেন এনামুল হক নামে কাজী। এই সময়ে তিনি ২ হাজারেরও বেশি নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রি করেছেন। সম্প্রতি জানা গেছে তিনি একজন ভুয়া কাজী। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন আমিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি।
গত ২৬ শে আগস্ট আলোচিত অভিযোগটি উঠেছে-উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নে দক্ষিণপাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নানের পুত্র কাজী এনামুল হকের বিরুদ্ধে।ভুয়া রেজিস্ট্রারি নিয়োগ দেখিয়ে কাজির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।এতে সহযোগিতা করছেন জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক অফিসের কিছু কর্মচারী।তবে এই বিষয়ে উভয় উভয়কে দোষারোপ করছেন।
অভিযোগকারী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মুন্ডপাশা গ্রামের আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে আমিরুল ইসলাম মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন)আইনে ১৯৭৪(১৯৭৪ সনের ৫২ নং আইন)এর ৪ ধারানুযায়ী নং-বিচার-৭/২এন/২০০৪-৪৪২ নং স্মারেেক কাজীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সেই স্মারক জালিয়াতি করে দীর্ঘ ৭বছর ধরে কাজীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন এনামুল হক।তিনি আরও বলেন-তৎকালীন সময়ে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগপ্রাপ্ত সঠিকতা প্রসঙ্গে ও তার বিরুদ্ধে বিচার-৭/২এন-৬৯/২০০৪-২৬৫ স্মারকে ৮ই মার্চ ২০১৭ সালে জেলা রেজিস্ট্রারকে ফৌজদারি মামলার নির্দেশ দেন সিনিয়র সহকারী সচিব জি.এম.নাজমুল শাহাদাৎ।কিন্তু তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার অর্থের বিনিময়ে কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।জানা যায়-গত ১৬ই ফেব্রয়ারী ২০১৪ সালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান কাজী আব্দুল ওয়াদুদ(৪৫)।তার মৃত্যুর পর থেকে ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে কাজীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
নামপ্রকাশে অনিশ্চুক স্থানীয় বাসিন্দা জানান-এনামুল কাজী এলাকায় ৮-১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাল্যবিবাহ পড়িয়ে থাকেন।এছাড়া বিভিন্ন ধরণের ঝামেলার বিয়ে অনেক অর্থের বিনিময়ে রেজিস্ট্রোর করেন বলে দাবী তাদের।
এই বিষয়ে এনামুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। আবু তালেব মিয়া ও ইদ্রিস আলী নামে দুজনকে সাব কাজীর দায়িত্ব দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি।
মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজার আব্দুস ছালাম বলেন-ময়েনপুর ইউনিয়নের কাজী এলামুল হকের কোন ফাইল তার অফিসে নেই ।জেলা রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত অনুমতি ও সরকারী মূল্য পরিশোধ না হওয়া পযর্ন্ত আমাদের কাছ থেকে বই পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।তাহলে বই পেল কিভাবে এমন প্রশ্নে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসকে দায়ী করেন তিনি।
জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল সালাম প্রামাণিক জানান-তিনি এই বিষয়ে অবগত নন।ইতিপূর্বে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি এই কাজ করেছেন। তার অফিসের সুপারিশ ছাড়া মুদ্রণ শাখা কখনই কোন বই হস্তান্তর করেন না। কাজী বই কিভাবে পেল এমন প্রশ্নে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।