July 29, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন আদেশ রোববার

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন আদেশ রোববার

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন আদেশ রোববার

অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ও দণ্ডবিধি ভঙ্গের অভিযোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা মামলায় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী রোববার (২৩ মে) মামলাটির জামিন আদেশ দেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহের ভার্চুয়াল আদালত জামিন আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ বলেন, কোনো মানুষ আইনের উর্ধ্বে নয়। আসামির বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা করা হয়েছে সেটা জামিন অযোগ্য। আর তাকে জামিন দিলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটবে। আসামির কাছ থেকে আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এজন্য তাকে জামিন দেয়া ঠিক হবে না।

রোজিনা ইসলামের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি বলেন, এজাহারে সেরকম কোনো আলামতের বর্ণনা নেই। যে আলামতের কথা বলা হচ্ছে, তা পরে ম্যানিপুলেট করা। ব্রিটিশ আমলের যেই ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনে এ মামলা করা হয়েছে, বাংলাদেশে সেই আইনের ব্যবহার অত্যন্ত কম। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও এ আইন প্রয়োগের তেমন নজির নেই। ভারতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এ আইন ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তাই এ মামলায় আসামি জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার আসামি রোজিনা ইসলামের পক্ষে তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী ও প্রশান্ত কুমার কর্মকারসহ অন্য আইনজীবীরা জামিন শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আদেশ পরে দেবেন বলে জানান।

রোজিনার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার তখন বলেছিলেন, আদালত আমাদের কথা শুনেছেন। শুনানি পর্যালোচনা করে পরে রায় দেবেন। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যেই রায় দেয়ার চেষ্টা করবেন।

এর আগে মঙ্গলবার মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রোজিনার পাঁচদিনের রিমান্ড নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার। এ সময় আসামিপক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। এরপর আদালতে রিমান্ড আবেদন খারিজ করে বৃহস্পতিবার জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

এদিকে গত সোমবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিবের দফতরে ঢুকে দাফতরিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজ শরীরের বিভিন্ন স্থানে লুকানো এবং মোবাইলের মাধ্যমে ছবি তোলেন রোজিনা ইসলাম। তখন একান্ত সচিব দাফতরিক কাজে সচিবের কক্ষে ছিলেন। এ সময় সচিবের দফতরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মো. মিজানুর রহমান তাকে বাধা দেন। পরে অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেসা বেগম, উপ-সচিব জাকিয়া পারভীন, সিনিয়র সহকারী সচিব শারমিন সুলতানা, সচিবের একান্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা, সিনিয়র সহকারী সচিব মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম, অফিস সহায়ক মো. মাহফুজুল ইসলাম, সোহরাব হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন এবং অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেসা বেগম তল্লাশি করে তার কাছ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজ এবং ডকুমেন্টসের ছবি সম্বলিত মোবাইল উদ্ধার করেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, ডকুমেন্টগুলো তিনি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে শাহবাগ থানার নারী পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে জিম্মায় নেন।

মন্ত্রণালয়ের লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, সম্প্রতি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের জন্য চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সই হয়। যেসব বিষয় অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এসব বিষয় যদি জনসম্মুখে চলে আসে তাহলে ওইসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্টের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার একান্ত সচিব (পিএস) মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞার (সিনিয়র সহকারী সচিব) কক্ষে থাকা ‘রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি থেকে কাগজ সরানোর’ অভিযোগে সাংবাদিক রোজিনাকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। তারপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই কক্ষ থেকে রোজিনাকে নিয়ে যায় শাহবাগ থানা পুলিশ।