October 25, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

চিরিরবন্দরের পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাটচাষি॥

চিরিরবন্দরের পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাটচাষি॥

চিরিরবন্দরের পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাটচাষি॥

চিরির বন্দর, দিনাজপুর প্রতিনিধি
আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল। চারিদিকে পানি বর্ষার পানি থৈ থৈ করার কথা। অথচ ভরাবর্ষা মৌসুমের আষাঢ় মাস পেরিয়ে শ্রাবণ মাসেও বৃষ্টির দেখা নেই। তবে কখনও কখনও আকাশে কালো মেঘে ছেয়ে গিয়ে দু’এক ফোটা বৃষ্টি হয়। কিন্তু কৃষকের হতাশার আকাশের কালো মেঘ কাটে না। আবহাওয়ার এমন বৈরী তার মাঝে বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন পাট চাষিরা। কাঙ্খিত বৃষ্টির অভাবে বিঘিœত হচ্ছে পাট জাগ দেয়া নিয়ে। চিরিরবন্দর উপজেলায় বৃষ্টির অভাবে নদীনালা, খালবিল, পুকুরসহ জলাশয়গুলো পানিশুন্য থাকায় কৃষকরা পাট জাগ দিতে পারছেন না। অনেক কৃষকপাট কেটে জমিতেই ফেলে রেখেছেন। এখন পাট কাটার ভরা মৌসুম হলেও কৃষকরা পানির অভাবেতা কাটতে বিলম্ব করছেন। অনেকে জমি থেকে পাট কেটে আঁশ তোলার জন্য নদী, খাল ও ডোবার পানিতে প্রক্রিয়াজাতের ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু পাটের প্রক্রিয়াজাতকরণে বা পাট জাগ দিতে বাঁধ সেধেছে প্রকৃতি। ভরাবর্ষা মৌসুমেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি পাতনা হওয়ায় পাট চাষিরা পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অনেক কৃষক পাট জাগ দিয়ে তাতে শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি সেচ দিচ্ছেন।

চিরিরবন্দরের পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাটচাষি॥

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চিরিরবন্দর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ৬২৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এর মধ্যে তোষা জাত ৬১৭ হেক্টর এবং দেশি জাতের ১২ হেক্টর জমি রয়েছে।
স্থানীয় চাষিদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর পাটের বাজার দর ভালো না থাকায় এটি চাষ করে লোকসান গুণতে হয়ে চাষিদের। অপরদিকে, অনা বৃষ্টির কারণে এ সোনালী আঁশ কৃষকদের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে পাটের দর কমে যাওয়ার কারণে চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন তারা। বর্তমানে দেশে পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধিতে সরকারি ভাবে উদ্যোগ নেয়ার ফলে আবারো সুদিন ফিরে এসেছে পাট চাষিদের। এ বছর পাটের বাজার ভালো থাকায় আশানুরুপ দাম পাবেন বলে মনে করছেন তারা।

উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের জোতসাতনালা গ্রামের পাটচাষি অলিমদ্দিন জানান, ‘তিনি দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। চলতি বছর প্রতি বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনের জন্য অন্তত ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতিমণ পাট ২৫-২৬’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

ফতেজংপুর ইউনিয়নের পাট চাষি মজিবর রহমান বলেন, ‘চলতি বছর পানির অভাবে পাট জাগ দেয়া নিয়ে চিন্তার মধ্যে আছি। অনেকেই পানির অভাবে পাট কাটছেন না। অনেকেই বৃষ্টির জন্য আকাশের দিকে তাঁকিয়ে আছেন। তারপরেও পর্যাপ্ত বৃৃষ্টি হলে পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছড়ানো, পাট ও পাট কাঠি শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করবেন চাষিরা।’

ইসবপুর ইউনিয়নের বিন্যাকুড়ি গ্রামের ইয়াকুব আলী বলেন, ‘এ সময় আমন ধান রোপণ ও পাটজাগ দেয়ার জন্য বৃষ্টির পানির খুবই প্রয়োজন। এ বছর ভরা বর্ষা কালেও তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। যেসব পাট কেটে রেখেছেন সেগুলোও রোদে শুকিয়ে লালচে রঙ ধারণ করছে। অনেকেই জমিতেই পাটনা কেটে রেখে দিয়েছেন।’
উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জোহরা সুলতানা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। এখন পাটকাটার উপযুক্ত সময়। ইতি মধ্যে অনেক চাষি পাটকাটা শুরু করেছেন। কৃষকরা অপেক্ষায় আছেন, বৃষ্টি হলে তারা পুরো দমে পাটকাটা শুরু করবেন। তবে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত না হলে রিবন পদ্ধতিতে পাট পঁচালে অল্প খরচেতা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে পাটের মানও ভালো হয়।’