September 22, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

বীরগঞ্জে জমাট বাধা ইউরিয়া সার নিয়ে ডিলাররা বিপাকে

বীরগঞ্জে জমাট বাধা ইউরিয়া সার নিয়ে ডিলাররা বিপাকে

বীরগঞ্জে জমাট বাধা ইউরিয়া সার নিয়ে ডিলাররা বিপাকে

খায়রুন নাহার বহ্নি, বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধি ঃ দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে বস্তার ভিতরে জমাট হয়ে গেছে কৃষি কাজে ব্যবহৃত ইউরিয়া সার। এ সব জমাট বাধা সার কৃষকেরা না কেনার কারণে বরাদ্ধকৃত সার উত্তোলন এবং বিক্রয় নিয়ে বিপাকে পড়েছে ডিলার ও সার ব্যবসায়ীরা। জমাট বাধার কারনে সারের গুনগত মান নিয়ে কৃষকদের মাঝে শংকা তৈরী হলেও সারের গুনগত মান সঠিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিস।
কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে ২৯হাজার ৬শত হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর বিপরীতে উপজেলায় মোট ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে ৫হাজার ৮শত ২২মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত ৩হাজার ২২মেট্রিক টন ইউরিয়ার সার উত্তোলন করা হয়েছে। উত্তোলনের অপেক্ষায় রয়েছে বরাদ্ধের ৩৬ হাজার বস্তা সার।
জমাট বাধা সারের গুনগত মান নিয়ে শংকা প্রকাশ করে মোহনপুর ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামের কৃষক তহিদুল ইসলাম জানান, ৩বস্তা ইউরিয়া সার কিনেছেন প্রতি বস্তা ৮০০টাকা দরে। বাড়ীতে নিয়ে এসে বস্তা খুলে দেখতে পায় সা জমাট বাধা। পরে বাড়ীতে জমাট ভেঙ্গে জমিতে দিতে হয়েছে। এতে খরচ বেশি পড়ে যায় এবং সময় বেশি লেগেছে। জমাট বাধার কারণে সারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় সারের পরিমান বেশি দিতে হয়েছে।
একই কথা জানিয়ে সুজালপুর ইউনিয়নের ভাদুরিয়া গ্রামের মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, অনেক ছুটাছুটির করেও কোথাও স্বাভাবিক সার পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে জমাট বাধা সার কিনতে বাধ্য হয়েছি। সারের বস্তায় জমাট হয়ে এতটা শক্ত হয়েছে যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জমাট ভাঙ্গতে হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ স্বীকার করে সার ব্যবসায়ী রীনা এন্টাপ্রাইজের মালিক গোবিন্দ আগরওয়ালা বলেন, সারের বস্তায় জমাট হয়ে যাওয়ার কারণে কৃষকেরা সার না কিনে জমাট ছাড়া সারের সন্ধানে ছুটছে। এতে বাহ্যিক ভাবে সারের সংকট মনে হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ববং বরাদ্দের বেশির ভাগ সার পড়ে আছে। জমাট বাধার কারণে কেউ নিতে চাচ্ছে না। তাই এই সার নিয়ে বিপাকে পড়েছি। সরকারী বিক্রয় মূল্য বস্তা প্রতি ৮শত টাকা হলেও শুধুমাত্র ক্রেতার অভাবে প্রতি বস্তা সার ৭৬০টাকা দরে বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছি। এ মাসে বরাদ্দ পেয়েছি ১৩৬মেট্রিক টন ইউরিয়া সার। উত্তোলন করেছি ১৭মেট্রিক টন। জমাট বাধা সারের কারণে ক্রেতা না থাকায় বরাদ্দকৃত বাকি সার উত্তোলন করতে পারছিন। আগামী মাসের বরাদ্দ নিয়ে এখন মহা বিপদে আছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবুরেজা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, জমাট বাধা সার ক্রয়ের ব্যাপারে কৃষকদের অনীহার বিষয়টি আমরা জেনেছি। সার জমাট বাধলেও গুনগত মান নিয়ে কোন সমস্যা নেই।