September 17, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

সোনালী আঁশ চাষে স্বপ্ন বুনছে পীরগঞ্জের কৃষক

সোনালী আঁশ চাষে স্বপ্ন বুনছে পীরগঞ্জের কৃষক

সোনালী আঁশ চাষে স্বপ্ন বুনছে পীরগঞ্জের কৃষক

পীরগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধিঃ
দেশের ‘সোনালি আঁশ খ্যাত পাট তার অতীত ঐতিহ্য হরিয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। সময়ের বিবর্তনে পাটের কদর কমেছে অনেক। পাটের সে সোনালি অতীত কেবলই ইতিহাস। কয়েক বছর আগে পাটের দাম তেমন একটা না পাওয়াই পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা পাট চাষ কমে দেয়।
সুদিন ফেরার স্বপ্নে বিভোর পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। গত বছরের চেয়ে চলিত বছর পাটের বেশি চাষ করেছেন এই উপজেলার পাট চাষীরা। আশা-নিরাশার দোলাচলে প্রতিবছর লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেই পাটচাষ করেন উপজেলার কয়েক শত কৃষক। শুরু থেকে উৎপাদন খরচ বেশি ও পাটগাছ থেকে আঁশ ছাড়ানোর শ্রমিক সংকটের মধ্যে কাঙিক্ষত দাম না পাওয়াতে হতাশ ছিলো কৃষকরা।
তবে বর্তমানে পাটের বাজার দর পেয়ে খুশি উপজেলার পাট চাষীরা। পাট ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, প্রতি মন পাট ২হাজার ৫শত থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছে চাষীরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে প্রায় ২ হাজার ৩শত হেক্টর জমিতে তোষা এবং দেশী পাট চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ৮শত মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্ঠরা।

সোনালী আঁশ চাষে স্বপ্ন বুনছে পীরগঞ্জের কৃষক


উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের পাট চাষী আব্দুল খালেক জানান, গত বছরে প্রত্যেক মণ পাট বিক্রি হয়েছে,২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ৮ থেকে ১১ মণ।
টুকুরিয়া ইউনিয়নের চাষী রহিম উদ্দিন বলেন, পাট চাষের শুরুতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাট বড় হতে দেরি হয়েছে। পরে বৃষ্টি হওয়াতে শুধু পাট গাছ বড় হয়েছে। আঁশ তেমন মোটা না হওয়ায় ফলন একটু কম হয়েছে। তবে দাম ভালো পাওয়ায় লাভ হয়েছে। এরকম বাজার থাকলে আগামীতে আরও পাট চাষ করবো।
এ বিষয়ে উপজেলা পাট কর্মকর্তা চায়না খাতুন বলেন, সোনালী আঁশ খ্যাত পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ ফিরে আনতে গত বছর দুই হাজার জন কৃষকের মাঝে সার বীজ প্রদান করা হয়। এ বছর কৃষকের আগ্রহ এবং উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে ২ হাজার ৯শত কৃষকের মাঝে সার বীজ প্রদান করা হয়। তিনি আরও জানান, চলিত মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হওয়ায় লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। গত বছরের চেয়ে এ বছর পাটের দামও ভাল।এমন দাম পেলে আগামীতে পাট চাষে আরও আগ্রহী হবেন কৃষকরা। কৃষি কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষে ট্রেনিং দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি সহকারী কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামান সরকার জানান, পাট একটি পরিবেশবান্ধব অর্থকারী ফসল এবং পাটের বহুবিধ ব্যবহারের ফলে বিশ্ব বাজারে পাটজাত পণ্যেও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক পাটের মুল্য ভাল পাচ্ছে। ফলে নতুন কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছে।