April 11, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

উন্নয়নের গতিধারা যথেষ্ট সচল, মানুষ তার সুফল পাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নের গতিধারা যথেষ্ট সচল, মানুষ তার সুফল পাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নের গতিধারা যথেষ্ট সচল, মানুষ তার সুফল পাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনতার ক্ষমতা জনতার হাতে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি আমরা। ক্ষমতা এখন জনতার হাতে যার ফলে আমাদের উন্নয়নের গতিধারা যথেষ্ট সচল হয়েছে এবং মানুষ তার সুফল পাচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

জাতির পিতার ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় বাংলাদেশ বললে সবাই এমনভাবে ভাব দেখাত যে, এই বাংলাদেশ শুধু মানুষের কাছে হাত পেতে চলে। তখন আমার খুব আত্মসম্মানে বাঁধত এবং কষ্ট লাগত। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পাওয়া দেশকে এরকম অবহেলার চোখে দেখা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। বিশ্বের দরবারে এখন বাংলাদেশ মর্যাদার আসন পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণরা চাকরি পেয়ে যাতে দেশের ভেতরে থাকতে পারেন, সে পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। দেশে আরো অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে। আর ফসলি জমি যাতে নষ্ট না হয় (ধান পাট গমের জমি) এর জন্য ইউনিয়ন ভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান করা হবে। ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান বা ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। 

তিনি বলেন, সব ইউনিয়নের জন্য ভূমি ভিত্তিক পরিকল্পনা করা হবে। যাতে যে কেউ এখানে-ওখানে ঘরবাড়ি উঠাতে না পারে। এটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

আজকের এনইসি সভায় অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি অনুমোদন দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নতুন ইকোনমিক জোন করার ঘোষণা দেন।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে দারিদ্র সমস্যা মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কর্মসূচিকে উচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া এবং সুবিধাভোগীদের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এসব জেলাগুলোতে কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আয় বৃদ্ধির জন্য কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ সেবার ওপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।  

এ পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে নতুন এক কোটি ১৬ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। এই ধারাবাহিকতায় ২০২১ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২০, ২০২২ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২২, ২০২৩ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২৯, ২০২৪ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৩২, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ধরে পরিকল্পনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, ৫ দশমিক ২ শতাংশ, ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সবশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নেমে আসবে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে একশ’টি ইকোনমিক জোন তৈরি করা হচ্ছে। এর বাইরেও আরো ইকোনমিক জোন করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে আরো কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দিয়েছেন।