April 18, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বিদ্যালয়গুলো না খোলা পর্যন্ত তার সরকারের অনলাইন শিক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি অন্য বই পড়া, শরীরচর্চা ও খেলাধুলা অনুশীলন এবং সাংস্কৃতিক চর্চা করার জন্য গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক স্তর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে শিক্ষার্থীদের মানসিক শিক্ষার বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে সকল শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বইপুস্তক পড়তে এবং খেলাধুলা করতে বলেন। 

শেখ হাসিনা বলেন, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সময় কাটাতে এবং তারা শরীর চর্চা বা খেলাধুলা যাতে করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে করে ছেলে-মেয়েদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যটা ভাল থাকবে। এদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়ার জন্য তিনি অভিভাবকদেরকে অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, যারা অভিভাবক বা বাবা-মা রয়েছেন তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো আপনারা বাচ্চাদেরকে সময় দেবেন। কারণ, করোনাভাইরাস যেমন আমাদের কষ্ট দিচ্ছে তারপরেও হাজার কাজের চাপের মধ্যেও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন, এই সুযোগটার আপনারা সদ্ব্যবহার করবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটু সময় কাটাবেন এবং তাদের শরীর চর্চাটা যেন হয়, সেজন্য একটু খেলাধুলা যাতে করতে পারে সেই ব্যবস্থাটা নিতে হবে। এতে করে ছেলে-মেয়েদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যটা ভাল থাকবে। সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (জুম, ম্যাসেঞ্জার, ফেইসবুক গ্রুপ, ইউটিউব) ব্যবহারের মাধ্যমে ক্লাস রেকর্ডিং করে কিশোর বাতায়ন, শিক্ষক বাতায়ন এবং ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কাজেই ঘরে বসে আমাদের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগ্রহণ করতে পারছে।

তার সরকার যখনই বিদ্যালয়গুলো খোলার বিষয়ে চিন্তা শুরু করলো তখনই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা আসার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের কথা চিন্তা করেই স্কুল না খুলে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছি। এর মধ্যে যদি অবস্থা ভাল হয় তাহলে স্কুল খোলা হবে, না হলে আমরা খুলবো না।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও যথাসময়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই তুলে দিচ্ছে সরকার। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সর্বমোট ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ খানা পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন কয়েক জন প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের কয়েক জন শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যপুস্তক তুলে দেন।

আগামীকাল শুক্রবার থেকে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় বই বিতরণ শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তিনদিন করে মোট ১২ দিন ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নতুন বই বিতরণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো.আমিনুল ইসলাম খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম নিজ নিজ মন্ত্রীকে বই বিতরণে সহযোগিতা করেন।

গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৯৪ হাজার ২৭৫ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদ্রী) শিশুদের জন্য পাঁচটি ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ২৮৮টি বই বিতরণ করা হবে। তবে, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাদের ভাষায় শুধুমাত্র বাংলা বই পাবে। এবার ৯ হাজার ১৯৬ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বই বিতরণ করা হবে।

অন্যদিকে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবার বইয়ের প্রচ্ছদে নতুনত্ব আনা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের ব্যাক পেজে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন স্থিরচিত্র ক্যাপশনসহ সংযোজন করা হয়েছে। গত ২০১০ সাল থেকে চলতি বছর (২০২০ সাল) পর্যন্ত এই ১০ বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে প্রায় ৩৩১ কোটি ৪৭ লাখ বই সারাদেশে বিতরণ করা হয়েছে।