September 21, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

মহামারি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

মহামারি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

মহামারি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা মহামারির প্রকোপ কমিয়ে আনতে আগামীতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। মহামারি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।
রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভুটানের মধ্যে প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে, সামনে এগোনোর পথে নতুন কিছু বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই। সারাবিশ্বেই বিভিন্ন দেশ ও জাতি করোনা সংক্রমণের নতুন ধাপ অতিক্রম করছে। স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও জনজীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, এই অজানা শত্রু মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে একযোগে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।

ভুটান বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে বিশেষ স্থানে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থায়ী আসন জুড়ে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভুটানের ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেদিন আমরা শুনলাম ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে এটা এমন একটা অনুভূতি ছিল যেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। সেই অনুভূতি ছিল উত্তেজনাকর, উৎসাহ ব্যঞ্জক ও আনন্দময়। সেই সময় ওই বন্দিশালায় কিছু না থাকায় মেঝেতে বসেছিলাম। আমরা সব দুঃখ ভুলে গেলাম। আমরা হাসতে, চিৎকার করতে এবং কাঁদতে শুরু করেছিলাম। সেটা আমি কখনও ভুলতে পারব না। সেদিন আমরা দীর্ঘ সময় বন্দি অবস্থায় যে দুর্ভোগে ছিলাম তা ভুলে গিয়েছিলাম।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভুটানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আরো অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে পারি। বাংলাদেশ সবসময় তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আমরা বাংলাদেশের চিলমারী বন্দরের উন্নয়ন করছি, নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও ভুটানের জন্য উন্মুক্ত। শুধু তাই নয় আমাদের তিনটি বন্দর চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা- ভুটান চাইলে ব্যবহার করতে পারবে। আমাদের সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে তার উন্নয়ন করা হচ্ছে, যা ভুটানের জন্য উন্মুক্ত।

পারস্পরিক সুবিধা এবং নাগরিকদের সামগ্রিক উন্নতি ও কল্যাণের জন্য দুই দেশের মধ্যে অসাধারণ সম্পর্ককে আরো অর্থবহ করে তুলতে পিটিএ স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

এ সময় বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমি প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এবং ভুটান প্রান্ত থেকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী টান্ডি দর্জি উপস্থিত ছিলেন।