April 19, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

শিক্ষার্থীদের জীবন চলমান থাকুক, সেটিই আমরা চাই: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের জীবন চলমান থাকুক, সেটিই আমরা চাই: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের জীবন চলমান থাকুক, সেটিই আমরা চাই: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি বছর যেন নষ্ট না হয়ে যায়, সে কারণেই আগের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মূল্যায়নভিত্তিক ফল প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী যারা, তাদের জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হয়ে যাক— সেটা তো আমরা চাই না। তাদের জীবনটা চলমান থাকুক, সেটিই আমরা চাই। সে কারণেই আমরা এই ফলাফলটা ঘোষণা দিলাম। আমি আশা করি যে, সবাই এই ফলে আনন্দিত হবে এবং তাদের পড়ালেখা অব্যাহত থাকবে।

শনিবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি আকারে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েছে। আমরা এই ভাইরাস মোকাবিলা করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই পরিস্থিতি থেকে যখন মানুষ মুক্তি পাবে, তখন আবার যথারীতি নিয়মিত ক্লাস হবে এবং আমাদের শিক্ষার্থীরা সবাই ক্লাসে যেতে পারবে। যারা প্রমোশন পাচ্ছে, তারা আগামী দিনে পড়ালেখা করবে এবং পরবর্তী পরীক্ষার ফলাফলের ওপর তাদের ভাগ্য নির্ভর করবে।

চলমান পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা না নিয়ে সবাইকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা ও এসএসসি-জেএসসির ফলের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়নের মাধ্যমে এইচএসসি’র ফল ঘোষণা নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই অনেক কথা বলছেন। আমার মনে হয়, খুব বেশি কথা বা এটা নিয়ে বেশি তিক্ততা তৈরি করা উচিত না। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে— আমাদেরকে ছোট শিশু ও ছেলেমেয়েদের জীবনের দিকে তাকাতে হবে। তারা যেন কোনোভাবেই হতাশাগ্রস্ত না হয়ে পড়ে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, এমনিতেই ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। এটি তাদের জীবনে একটি বড় বাধা তৈরি করছে। সেক্ষেত্রে যদি আবার এই ফল নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা হয় বা ফল দেয়ার পদ্ধতি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা হয়— এগুলো তাদের জন্য মানসিক চাপ হয়ে দাঁড়াবে। তাই যারা এ ধরনের কথা বলছেন, তাদের বিরত থাকার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি। আর করোনাকালে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যেন অব্যাহত থাকে, তার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ও নিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা যেটুকু শিক্ষা পেয়েছে, সেই শিক্ষার ফল বা শিখন ফল দিয়ে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য তারা নিজেদের তৈরি করতে পারবে। তারা যদি এভাবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে রাখতে পারে, তবে তাদের ভবিষ্যত শিক্ষাক্রম চালু থাকবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকবে— এ প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের ফলে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা, শিক্ষকরা এবং অন্যান্য কর্মচারীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে অর্থাৎ তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদানের জন্যই এই ব্যবস্থাগুলো নিতে আমরা বাধ্য হয়েছি।

তিনি বলেন, সেন্টিমেন্টাল হয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন— ক্লাস করবেন, পরীক্ষা দেবেন। কিন্তু এগুলো করতে গিয়ে কেউ যদি সংক্রামিত হয়, তার দায়-দায়িত্ব কে নেবে? যারা এই পদ্ধতিতে রেজাল্ট দেয়ার সমালোচনা করছেন, তারা কি নেবেন দায়িত্ব? নিশ্চয়ই নেবেন না। তখন তারা নতুনভাবে আবার সমালোচনা শুরু করবেন। আমাদের সবচেয়ে দুর্ভাগ্য যে, কিছু লোক কিছু একটা করতে গেলেই খুঁত বের করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ফলাফলের বিষয়টি তারা চিন্তাও করেন না।

বিভিন্ন শ্রেণিতে মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে বার্ষিক পরীক্ষার পরিবর্তে অ্যাসাইনমেন্ট পদ্ধতি প্রচলন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশে একটা নতুন ধরনের পদ্ধতি। এটি এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মেধার মূল্যায়ন করার ভালো সুযোগ রয়েছে। আমি মনে করি এটা বিজ্ঞানসম্মত ও যৌক্তিক পদ্ধতি, খারাপ কিছু নয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ভাল থাকুক, আমরা সেটা চাই। তাছাড়া এখন আধুনিক প্রযুক্তি বের হয়েছে। সেই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা আমাদের জীবনমান উন্নত করতে চাই।

বক্তব্য রাখার আগেই মাউস ক্লিকের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেলসহ শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এই ফল গ্রহণ করেন।