January 26, 2022

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়েরা মনে আকাশ ছোয়া সপ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়েরা মনে আকাশ ছোয়া সপ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়েরা মনে আকাশ ছোয়া সপ্ন


জসিম উদ্দিন ইতি ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
‘এ’ ও ‘বি’ নামে দুটি গ্রুপ। ১০ সদস্যবিশিষ্ট দুটি গ্রুপ নিয়ে দুটি টিম
গঠন করা হয়। চার ইনিংসের এই খেলায় প্রত্যেক টিমকে দুইবার রানার ও দুইবার
চেজার হতে হয়। প্রত্যেক ইনিংসের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয় ৯ মিনিট। চেজার
থাকা অবস্থায় রানারের সদস্য নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে প্রতিপক্ষকে স্পর্শ
করতে পারলেই পয়েন্ট। প্রতি ইনিংসে পয়েন্ট হিসাব করে চার ইনিংস পর ঘোষণা
করা হয় বিজয়ী দল।
খেলাটির নাম খো খো। একজন আরেকজনকে স্পর্শ করার সময় আওয়াজ করে বলতে হয়
‘খো’। ভারতের প্রাচীন এ খেলাটি দেশের জেলা শহরগুলোতে খুব বেশি দেখা না
গেলেও তৃণমূল পর্যায়ে দেখা যায়।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা স্কুল বড় মাঠে তৃণমূল পর্যায়ে সপ্তাহব্যাপী খো খো
প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। ছেলে খো খো খেলোয়াড়দের পাশাপাশি প্রশিক্ষণে মেয়ে
খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ চোখে পরার মতো ছিল। সব বাধা উপেক্ষা করে নিজের
যোগ্যতা প্রমাণে প্রশিক্ষণে তৎপর ছিল মেয়ে খো খো খেলোয়াড়েরা।
সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে চলতি মাসের ২৪ ডিসেম্বর। বছরের শুরুতেই
জাতীয় পর্যায়ে শুরু হতে যাচ্ছে খো খো প্রতিযোগিতা। জাতীয় দলে অংশগ্রহণ ও
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করেছেন
ঠাকুরগাঁওয়ের খো খো খেলোয়াড়েরা।
খেলোয়াড় রুমা বলেন, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। অনেকে
নানা ধরনের মন্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলে। কেন ছেলেদের পোশাক পরে আমরা
খেলাধুলা করি? কিন্তু আমরা তা উপেক্ষা করে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য এই
খেলাটি খেলি। বাকি খেলাগুলোর চেয়ে এই খেলাটি আমাদের জন্য সহজ। ইতোমধ্যে ২
জন মেয়ে খেলোয়াড় জাতীয় দলে খেলছে। আমরা আশাবাদী জাতীয় দলে খেলার সুযোগ
পাব।
খো খো খেলোয়াড় জান্নাত বলেন, খো খো আমাদের জন্য নতুন খেলা। খেলাটি অনেক
সুন্দর। শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখা দরকার। আমরা আশা করছি নিজ জেলা ও দেশের
জন্য আমরা ভালো কিছু করতে পারব।
খেলোয়াড় বিপ্লব বলেন, খো খো খেলা আমাদের জন্য অনেক ভালো। আমি মনে করি যদি
জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে আমাদের সবরকম সহযোগিতা করা হয় তাহলে আমরা জাতীয়
দলে খেলতে পারব।
খো খো খেলোয়াড় রাজু বলেন, এটি আমাদের জেলায় নতুন খেলা। জেলা ক্রীড়া
সংস্থা আমাদের সহযোগিতা করছেন। যদি সব উপকরণসহ সহযোগিতা করে তাহলে আমরা
জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাব। নিজের জেলা ও দেশের মানকে আরও ভালো জায়গায়
নিয়ে যেতে পারব।
ঢাকা থেকে আগত খো খো খেলার জাতীয় কোচ সোহাগ ইসলাম বলেন, খোখো খেলার জাতীয়
পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ চলছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশিক্ষণ চলছে।
এখানকার সব খেলোয়াড়েরা বেশ আগ্রহী ও পরিশ্রমী। যদি জেলা ক্রীড়া সংস্থা
থেকে সব সহযোগিতা করা হয় তাহলে তারা জাতীয় দলে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
খো খো জাতীয় দলের নারী কোচ সাইফুর রহমান বলেন, ২০১৬ সাল থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে
শুরু হয়েছে খেলাটি। ইতোমধ্যে ২ জন মেয়ে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে ছেলে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি মেয়েদের আগ্রহ ভালো। ছেলেদের
তুলনায় মেয়েরা বেশ এগিয়ে আছে। আশা করছি আগামী প্রতিযোগিতায় ঠাকুরগাঁও
থেকে জাতীয় দলে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে অনেকে।