May 16, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

গাইবান্ধার লক্ষীপুরবাসীর অভিনন্দনে সিক্ত মেডিকেলে চান্স পাওয়া তিন মেধাবী শিক্ষার্থী

গাইবান্ধার লক্ষীপুরবাসীর অভিনন্দনে সিক্ত মেডিকেলে চান্স পাওয়া তিন মেধাবী শিক্ষার্থী

গাইবান্ধার লক্ষীপুরবাসীর অভিনন্দনে সিক্ত মেডিকেলে চান্স পাওয়া তিন মেধাবী শিক্ষার্থী

গাইবান্ধা ঃ ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে (এমবিবিএস) ১ম বর্ষের মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন লক্ষীপুরের তিন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের পরিবারে চলছে আনন্দের বন্যা। এ থেকে বাদ নেই এলাকাবাসীও।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনয়ন একটি অনগ্রসর এলাকা। শিক্ষাাক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও সরকারি উচ্চ পদস্থ পদে চাকুরিজীবির সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। ফলে ঘরে ঘরে বেকারত্বের অভিশাপ থাকলেও এবারে ২০২০-২০২১ শিকক্ষাবর্ষে (এমবিবিএস) ১ম বর্ষে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে তিনজন কৃতি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়ে আনন্দের বন্যায় ভাসিয়ে দিলেন তাদের পরিবারসহ লক্ষীপুরবাসীকে। তিনজন শিক্ষার্থী হচ্ছেন বাবা মৃত মোহাম্মদ আলী খাঁন লিটন ও মা মোছা. রেবেকা সুলতানার মেয়ে নুদরাত জাহান খাঁন তৃজি। সে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তৃজি এসএসসিতে গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

লক্ষীপুরের উজিরধরনীবাড়ি এলাকায় জন্ম নেয়া তৃজি ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তার বাবা মারা যান। তার বাবার স্বপ্নছিলো সে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। আজ তার বাবার সে স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এজন্য সে তার বাবার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। তৃজির সফলতার পেছনে তার মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি বলে সে জানায়। এছাড়া স্কুল কলেজের শিক্ষকসহ নিকট আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের এ কৃতিত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। এ প্রতিবেদকের কাছে তৃজির মা রেবেকা সুলতানা বলেন, আজ তৃজির বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন। তৃজি যেন কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে। তার ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান খাঁনও যেন মানুষের মতো মানুষ হতে পারে এ জন্য সকলের দোয়া কামনা করেছেন।
লরিন সুলতানা ঐশীর বাড়ি লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের লেংগাবাজারের কলেজ পাড়ায়। বাবা আব্দুল লতিফ সরকার ও মা আবেদা সুলতানা সুমি। দুজনেই শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। লরিন এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে গাইবান্ধা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হয়ে রংপুর সরকারি কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হন। সেখানেও সে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
লরিন বলেন, বাবা মার স্বপ্নছিলো আমি ডাক্তার হই। তাদের সে স্বপ্নপূরণের পথে রয়েছি। আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যে, সফলভাবে কৃতিত্বের সঙ্গে ডাক্তারি পড়া সম্পন্ন করে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি। লরিনের বাবা-মা তার সন্তানের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

লক্ক্ষঈপুর ইউনিয়নের লেংগাবাজার কলেজ পাড়ার আব্দুস সালাম ও আনোয়ারা বেগমের পুত্র আশরাফুল ইসলাম লেংগাবাজার বিএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি, এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে রংপুর কারমাইকেল কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হন। সেখানে কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

সে ডাক্তারী পড়া শেষ করে দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান। এজন্য তিনি সকলের দোয়া চেয়েছেন। তার বাবা মা তার সন্তানের জন্য এলাকাবাসীসহ সকলের দোয়া চেয়েছেন। এ প্রতিবেদককে আশরাফুল জানায়, তার এ কৃতিত্বের পেছনে তার বাবা মা, স্কুল কলেজের শিক্ষক, সহপাঠীসহ অনেকের অবদান রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, লরিন ও আশরাফুল দুজনে আপন চাচাতো ভাইবোন। তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান রাজশাহী পুলিশের উপ-কমিশনার আবু আহম্মেদ আল মামুন। তিনি তার অভিনন্দন বার্তায় জানান, জীবনের অপর নাম সংগ্রাম। এর পেছনে রয়েছে অনেক ত্যাগ-তীতিক্ষা, আনন্দ বেদনা ও অক্লান্ত পরিশ্রম। এসব কিছুকে মেনে নিয়ে সফলতার সিঁড়ি বেয়ে আকাঙ্খার শৃঙ্গে আহরণ করে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে। তবেই সফলতা সার্থক হবে। এলাকার একজন সন্তান হিসেবে আমার প্রত্যাশা উক্ত তিন মেধাবী তাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হবেন এবং এলাকাবাসীকে আরও গর্বিত করবেন। এই তিন শিক্ষার্থীর কৃতিত্বে শিক্ষক, সাংবাদিকসহ পেশাজীবিসহ অনেকেই অভিনন্দন জানিয়েছেন।