December 1, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

ভয় পেতে চান? দেখতে পারেন এই সিনেমাগুলো

ভয় পেতে চান? দেখতে পারেন এই সিনেমাগুলো

ভয় পেতে চান? দেখতে পারেন এই সিনেমাগুলো

ডেস্ক: আপনি কি ভূতের ছবি দেখতে ভালোবাসেন? আর সেই ছবি দেখার পর রাতের বেলা বাথরুমে যেতে ভয় পান? হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গিয়ে মনে হয় পাশে কিংবা খাটের তলায় কেউ লুকিয়ে আছে? ভূতের ছবি দেখতে দেখতে পাশের ঘরে আওয়াজ হলে ভয়ে সিঁটিয়ে যান? তাহলে দয়া করে নীচের লেখা হলিউড ছবিগুলি দেখবেন না। কারণ এগুলো দেখার পর আপনি কোন দুনিয়ায় চলে যাবেন তা কেউ জানে না।

এই সব ভয়ের ছবি নিয়ে নানা কিংবদন্তি রটনাও রয়েছে। কোনও ছবি দেখে নাকি দর্শক ভয় পেয়ে হার্ট ফেল করেছেন আবার কোনও ছবি দেখে নাকি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন কেউ কেউ। সেসব দাবি অবশ্য আদৌ কতটা সত্যি তা নিয়ে কেউ বিশেষ তদন্ত করেনি। তা কোন ছবিগুলি দেখে মানুষ এত ভয় পেয়ে থাকেন?

দ্য এক্সরসিস্ট (THE EXORCIST)

১৯৭৩ সালের ছবি এক্সরসিস্ট। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ের সিনেমা বলে অনেকেই দাবি করেন। যদিও আজকের প্রজন্ম এই ছবি দেখে বিশেষ ভয় না পেলেও যে সময়ে ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল সেই সময় এর চেয়ে ভয়ানক ছবি কেউ দেখেননি। কিশোরীর শরীরে প্রবেশ করেছে এক পিশাচ। নানা ভাবে তাকে এবং তার পরিবারকে উত্যক্ত করছে সেই পিশাচ। ভয়ানক সব অঙ্গভঙ্গি, হিংস্রতা এবং স্পেশাল এফেক্টস্ সেই সময়ের দর্শককে বাকরুদ্ধ করে ফেলেছিল। এর বক্স অফিস কালেকশন ছিল অসাধারণ। সেরা ছবি সহ মোট নয়টি বিভাগে অস্কার নমিনেশন পেয়েছিল এই ছবি। ২টি বিভাগে জয়ীও হয় এক্সরসিস্ট। পরবর্তীকালে এই ছবির অনুসরণে একাধিক সিনেমা তৈরি হয়েছে।

হেরিডেটারি (HEREDITARY)

পরিবারে অশরীরীর প্রভাব। আর এই নিয়েই ছবি তৈরি করে ২০১৮ সালে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন পরিচালক অরি অ্যাস্টর। ছবির গল্পকারও তিনি। ছবির পরতে পরতে রয়েছে ভয়। সঙ্গে যথাযথ সাউন্ড এফেক্ট আপনাকে ভয় পাইয়েই ছাড়বে। মিনিয়েচার শিল্পী অ্যানি গ্রাহামের চরিত্রে টোনি কলেট ছিলেন অনবদ্য।সেই বছর সেরা ছবি তো বটেই সেরা অভিনেত্রী হিসেবেও বাজিমাত করেছিল হেরিডিটারি। ছবি দেখার পর বেশ কিছুদিন কিন্তু ঘুমোতে পারবেন না।

দ্য কনজিউরিং (THE CONJURING)

ভয়ের ছবির তালিকায় তিন নম্বরে রাখা যায় ২০১৩ সালের দ্য কনজিউরিং ছবিটিকে। দুই প্রেততত্ত্ববিদ এড এবং লরেন ওয়ারেনের জীবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হযেছে কনজিউরিং। ভয়, মৃত্যু, অলৌকিকতা, হিংস্রতা, সবই রয়েছে এই ছবিতে। ছবির সাউন্ড এফেক্ট এবং স্পেশাল এফেক্ট যেন একেবারে বাস্তব। আর তা দেখেই বেজায় ভয় পেয়েছেন দর্শক। পরবর্তী সময়ে কনজিউরিং-এর সিক্যুয়েলও তৈরি হয়েছে।

দ্য শাইনিং (THE SHINING)

বিখ্যাত লেখক স্টিফেন কিং-এর উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৮০ সালে তৈরি হয়েছিল দ্য শাইনিং। ভৌতিক সিনেমার জগতে এটি একটি ক্লাসিক নিদর্শন। চিত্র সমালোচকরা আবার দ্য শাইনিং-কে ক্লাসিকদের মধ্যে সেরার তকমা দিয়ে থাকেন। পুরোনো দিনের ছবি হলেও এই ছবি দেখে আজকের প্রজন্মের গায়েও কাঁটা দেয়।

দ্য টেক্সাস চেইনসো ম্যাসাকার (THE TEXAS CHAINSAW MASSACRE)

টেক্সাসের এক সমাধি ক্ষেত্রে তদন্তে যায় একদল যুবক যুবতি। সেখানে এক অপরিচিত মহিলার সঙ্গে আলাপ হয় তাদের। নির্দীিষ্ট স্থানে পৌঁছোনোর সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয় নানা রহস্যময় পরিস্থিতি। শুরু হয় অলৌকিক নানা ঘটনা। শুরু হয় মৃত্যুর মিছিল। ১৯৭৪ সালের এই ছবি দেখে আজও একই রকম রোমাঞ্চ জাগে। ছবির দৃশ্যগুলি দম বন্ধ করে দেয় দর্শকের। মনে জোর না থাকলে এই ছবি দেখা ভুল হবে।

দ্য রিং (THE RING)

২০০২ সালের সুপারহিট হরর ফিল্ম দ্য রিং। ১৯৯৮ সালের জাপানি ছবি রিং-এর রিমেক এটি। সাদা পোশাক পরা কালো লম্বা চুলে মুখ ঢাকা এক তরুণীর ভিডিও। সেই ভিডিও যে দেখছে সাতদিনের মধ্যেই তার মৃত্যু হচ্ছে। এই ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা দেখতে দেখতে শিউরে ওঠে দর্শক। ছবির চরিত্রগুলির মতো প্রতি মুহূর্তে মৃত্যু ভয় যেন তাড়া করে বেড়ায় দর্শককেও।

হ্যালোউইন (HALLOWEEN)

বাংলার ভূত চতুর্দশীই বোধ করি ওদেশের হ্যালুইন। ভূত চতুর্দশীতে যেমন মা-ঠাকুমারা রাতের বেলা বাইরে বেরোতে মানা করেন তেমনই হয়তো হ্যালুইনেও ওদেশের মা-ঠাকুমারা ছোটোদের সাবধান করে দেন। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয় না। ১৯৭৮ সালের হ্যালুইন শিড়দাঁড়াকে হিম করে দেবে। সাতের দশকে এধরনের ছবি আশা করাই যেত না। সিনেমাটি সাতের দশকের হলেও তার প্রেক্ষাপট ছয়ের দশক। এক হ্যালুইনের রাতে ছয় বছরের ছোটো মাইকেল তার দিদিকে ছুরি দিয়ে খুন করে। তাকে পাঠানো হয় রিহ্যাবে। বছরের পর বছর সেখানে থেকেও তার বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয় না। মাইকেল কি সত্যিই অপরাধ করত নাকি কেউ ওকে দিয়ে অপরাধ করাতো? সেই নিয়েই এগিয়ে চলেছে হ্যালুইনের গল্প। ছবি দেখতে গেলে বুকের পাটা লাগবে।

সিনিস্টার (SINISTER)

অপরাধের জায়গায় গিয়ে তদন্ত করে তা নিয়েই লেখালিখি করার অভ্যাস এক ক্রাইম রাইটারের। সেই মতো স্বপরিবারের নতুন এক বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি। এই বাড়ির প্রাক্তন বাসিন্দা এক পরিবার খুন হয়েছিল। এর সেই পরিবারের এক ছোটো সদস্য খুনের পর থেকেই নিঁখোজ। বাড়িতে বসবাসের পর থেকে নানা অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হন লেখন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কোনও অদৃশ্য শিশুর হাতে আঁকা নানা ছবি তাঁকে খুনের ক্লু দিতে থাকে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে এরকম ঘটনা বহু পরিবারের সঙ্গেই ঘটেছে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে খুন হেয়েছেন এবং একটি ছোটো সদস্য নিখোঁজ। অদ্ভুত রহস্যময় পরিস্থিতি কাটিয়ে তার সমাধান করে ফেলেন ক্রাইম রাইটার। গল্পের বাঁধুনি দর্শককে যেমন বসিয়ে রাখবে তেমন ভয়ও দেখাবে।

ইনসাইডাস (INSIDIOUS)

২০১০ সালের ছবি ইনসাইডাস। নতুন বাড়িতে উঠে যাওয়া এক পরিবারের গল্প এটি। মা-বাবা-ছেলে-মেয়ে। ছেলেটি কোমায় আচ্ছন্ন। প্রথম কিছুদিন সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু তারপরই বাড়িতে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে শুরু করে। কোমায় আচ্ছন্ন ছেলেটি হঠাৎ করেই সুস্থ হয়ে যায়। তার হাত দিয়েই হতে থাকে নানা অলৌকিক ঘটনা। ছবির বক্স অফিস কালেকশন যেমন অসাধারণ তেমনই ভয়ানক ছবির ভয়াল ছবির দৃশ্য এবং সাউন্ড এফেক্ট।

ইট (IT)

মুখে রঙের আল্পনা আঁকা সং বা ক্লাউনকে আচমকা দেখলে ভয় তো লাগবেই। ২০১৭ সালের ইট ছবিতে ভয়ানক ক্লাউনটি যখন তখন চমকে দেবে দর্শককে। ১৯৭৩ সালের এক্সরসিস্ট ছবির সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল এই ছবি। এক পরিত্যক্ত ভাঙাচোরা বাড়িতে এক রহস্যজনক ভিডিও টেপ পায় একদল কিশোর। প্রোজেক্টরে ছবি চালিয়ে সেখানেই প্রথম ভয়ানক দর্শক ক্লাউনের দেখা পায় তারা। কী কারণে ওই ভয়ানক ক্লাউন কিশোরের দলকে তাড়া করে বেড়াতো তার জন্য ছবিটি দেখতে হবে। আর ছবি দেখতে গেলে নিজের হার্টের দশা একবার পরীক্ষা করে নেবেন।