April 10, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

সহশিল্পীদের স্মৃতিতে আবদুল কাদের

সহশিল্পীদের স্মৃতিতে আবদুল কাদের

সহশিল্পীদের স্মৃতিতে আবদুল কাদের

মঞ্চ ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা আবদুল কাদের আজ শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের চরিত্র ‘বদি’ চরিত্রের জন্য জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শোবিজ অঙ্গনে। 

বিদায়ের দিনে আবদুল কাদেরকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তার সহশিল্পী।

পরিবারের সদস্যকে হারালাম: ফেরদৌসী মজুমদার
আবদুল কাদেরকে কখনো পরিবারের বাইরের কেউ মনে হয়নি। সবসময় মনে হয়েছে ও আমার পরিবারের একজন, পরিবারের ঘনিষ্ঠজন। আমি আমার পরিবারের এক সদস্যকে হারালাম। আমাকে সে ভাবী ডাকত। কিন্তু আমি তাকে ভাইয়ের চোখে দেখতাম।

কাদেরকে দেখলেই মন ভালো হয়ে যেত: আসাদুজ্জামান নূর
চেন্নাইয়ের হাসপাতালে থাকার সময় আবদুল কাদের আমার সঙ্গে দুই দিন ভিডিও কলে কথা বলেছিল। খুব আকুতি করে বলেছিল- ঢাকায় ফিরতে চাই। তারপর তো ঢাকায় ফিরে আসে। ঢাকায় এসেও হাসপাতাল থেকে একদিন ফোনে কথা বলেছিল আমার সঙ্গে। সত্যি কথা বলতে চেন্নাইয়ের হাসপাতাল থেকে বলে দিয়েছিল আর কিছু করার নেই। এ কথা কাদেরের পরিবারের সদস্যরা জানতেন। আমিও জানতাম। আমাদের আসলে কিছুই করার ছিল না অপেক্ষা করা ছাড়া। এটাই বাস্তবতা।

একটি মঞ্চ নাটকের পুরোটা মুখস্থ বলতে পারত: রামেন্দু মজুমদার
আবদুল কাদের ১৯৭৪ সাল থেকে আমাদের নাটকের দল থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। শুরু থেকেই দলে সে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। কারণ- অভিনয় ও সাংগঠনিক ক্ষমতা দুটিই তার মধ্যে ছিল। যে কারণে দীর্ঘ দিন আমার নাটকের দলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছে।

মঞ্চে যখন যে চরিত্র তাকে দেওয়া হত সেটাই করত। সব ধরণের চরিত্রে অভিনয় করতে পারত। সব শিল্পী এটা পারে না। সে পারত। অভিনয় গুণটা অসম্ভব রকমের ছিল।

মেয়ের বিয়েতে আমাকে পেয়ে খুব খুশি হয়েছিল: দিলারা জামান
সকালবেলা মন খারাপ করা খবরটি শোনার পর কেমন যেনো লেগেছে। মনে হয়েছে খুব কাছের মানুষকে হারালাম। আমরা শিল্পীরা তো সব মিলিয়ে একটি পরিবারই। পরিবারের একজন চলে গেল। আমি বলব বড় অসময়ে চলে গেল।

শিল্পীর বাইরে বড় একজন কর্মকর্তা ছিল। কিন্তু শিল্পের প্রতি মনটা পড়ে থাকত সবসময়। তাই তো অভিনয় কখনো ছাড়েনি। ওর সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। কত স্মৃতি জমে আছে। অভিনয়ে একটু বিরতি পড়লেই ওর হাসিমুখ আর গল্প শুরু হত। এতটাই হাসাতে পারত, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়।

দরজা খুলে দেখি কাদের ভাই দাঁড়িয়ে আছেন ক্যামেরা হাতে নিয়ে: সুবর্ণা মুস্তাফা
কাদেরের স্মৃতি চারণা করে একটি অজানা এক অধ্যায়ের গল্প জানালেন। সুবর্ণা লিখেছেন, ১৯৮৬ সালে ফরীদি (অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদি) আর আমি ভারত যাচ্ছিলাম। সেই যাত্রার ফ্লাইট ছিলো পরদিন। আগের দিন দরজায় নক পড়লো। দরজা খুলে দেখি কাদের ভাই দাঁড়িয়ে আছেন ক্যামেরা হাতে নিয়ে।

তিনি সেটা আমাদের দিয়ে বললেন, ভারত যাবা, সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখবা আর ছবি তুলবা….। এই হলো কাদের ভাই।

সে আমার আপনের চেয়েও আপন একজন: আফজাল শরীফ
জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ এর সেই মামা-ভাগ্নের জনপ্রিয় জুটির মামা আবদুল কাদের চলে গেলেন আজ না ফেরার দেশে। তার এই মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে ভাগ্নে আফজাল শরীফের।

আফজাল শরীফ কান্না কণ্ঠে বলেন, সহ্য করার মতো না। ২০টি বছর একসঙ্গে কাজ করেছি। সে আমার আপনের চেয়েও আপন একজন। নিয়মিত যোগাযোগ হতো যে অল্প ক’জনের সঙ্গে তাদের একজন ছিলেন তিনি।