October 28, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

মিয়ানমারে সু চির দল বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে সামরিক জান্তা

মিয়ানমারে সু চির দল বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে সামরিক জান্তা

মিয়ানমারে সু চির দল বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে সামরিক জান্তা

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি’র দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি পার্টিকে (এনএলডি) বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে দেশটির সামরিক জান্তার নিয়োগ দেয়া নির্বাচন কমিশন।

শুক্রবার এক কমিশনারকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাও এ খবর দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

জান্তা-নিযুক্ত কমিশনের দাবি, গত বছর নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে এনএলডি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে সু চি’র দল বিলুপ্ত করার এ সিদ্ধান্ত হয়েছে; এনএলডিসহ একাধিক দল বৈঠকটি বয়কট করে, জানিয়েছে মিয়ানমার নাও।

জান্তা সমর্থিত ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশনের (ইউইসি) চেয়ারম্যান থেইন সোয়ে সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, এনএলডি যে জালিয়াতি করেছে তা বেআইনি।

“এ কারণে আমরা দলটির নিবন্ধন বাতিল করে দেবো। যারা এমনটা (জালিয়াতি) করেছে তাদেরকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বিবেচনা করা হবে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি,” বলেছেন তিনি।

মিয়ানমার নাও-র এই খবর নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জান্তার মুখপাত্র এবং গণতন্ত্রপন্থি জাতীয় ঐক্যের সরকারের কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গণতন্ত্রপন্থি এ ছায়া সরকারে সু চি’র দল এনএলডির সদস্যরাও আছেন।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট পার্টির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে তাদের প্রতিনিধিরাও আছেন।

বৈঠকটি এখনও চলছে, এবং সেখানে এনএলডিকে বিলুপ্ত করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

নবেম্বরের নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে দাবি করে এ বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে।

ওই নির্বাচনে সু চি’র দল বড় ধরনের জয় পেয়েছিল; তখনকার নির্বাচন কমিশন নবেম্বরের ভোটে কোনো ধরনের কারচুপির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিল।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে শুরু হয় অভ্যুত্থানবিরোধী ব্যাপক আন্দোলন। টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট, আইন অমান্য কর্মসূচি, রাতে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিসহ নানান ধরনের প্রতিবাদে দেশটির লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।

আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগে এখন পর্যন্ত ৮০০-র বেশি মানুষের প্রাণ গেছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনার্স।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দেশটিতে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীর তুমুল লড়াইও দেখা যাচ্ছে।

টালমাটাল এ পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা জেনারেলদের মধ্যে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়ার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানে গ্রেফতার হওয়া সু চি এখনও বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা চলছে। এর মধ্যে ঔপনিবেশিক আমলের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তার ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডও হতে পারে।

৭৫ বছর বয়সী সু চি এখন নিরাপত্তা রক্ষীদের উপস্থিতিতে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পেয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে জাতীয় ঐক্যের সরকার ‘জনপ্রতিরক্ষা বাহিনী’ নামে একটি বাহিনী গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সুর চড়ছে দাতা দেশগুলোরও। সম্প্রতি টোকিওতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেছেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তারা সেখানে সহায়তা পাঠানোর নিয়ম নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করবেন।