October 25, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

সাই‌কেলটির দাম সাড়ে ৮ কোটি টাকা!

সাই‌কেলটির দাম সাড়ে ৮ কোটি টাকা!

সাই‌কেলটির দাম সাড়ে ৮ কোটি টাকা!

পরিবেশ বান্ধব বাহন হিসেবে পুরো বিশ্ব জুড়েই খ্যাতি রয়েছে বাইসাইকেলের। শারীরিক নানান উপকারিতা থাকার পাশাপাশি দামে সস্তা হওয়ায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে এই বাহন। তবে এমন কিছু বাইসাইকেলও রয়েছে, যার দাম কয়েক লাখ ডলার থেকে শুরু করে কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তেমনি একটি বাইসাইকেল হলো ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের তৈরি এক্সট্রিম মাউন্টেইন বাইক, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য বেভারলি হিলস এডিশন’। 

সাইকেলটির দাম ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে দামি মাউন্টেইন বাইক হিসেবে পরিচিত। ‘দ্য হাউজ অব সলিড গোল্ড’ নামের একটি কোম্পানি স্বর্ণের এই বাইসাইকেলটি তৈরি করেছে। কোম্পানিটি এমন ১৩টি বাইসাইকেল বানিয়েছে। যার প্রত্যেকটিতে কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। বাইসাইকেল হলো ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের তৈরি

বাইসাইকেল হলো ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের তৈরিসাইকেলের স্টিয়ারিং থেকে শুরু করে গিয়ার বক্স পর্যন্ত সব জায়গাতেই ব্যবহার করা হয়েছে স্বর্ণ। ফ্রেমে থাকা ‘দ্য হাউজ অব সলিড গোল্ড’ এর লোগোটি ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬০০টিরও বেশি ব্ল্যাক ডায়মন্ড এবং ৪.৫ ক্যারেট স্বর্ণ। সিটে ব্যবহার করা হয়েছে চকলেট ব্রাউন রঙের অ্যালিগেটর। যা দেখতে অসম্ভব রকমের সুন্দর। এছাড়াও সাইকেলের সঙ্গে যুক্ত করা আছে একটি পানির বোতল। যাতে রয়েছে গোল্ড এবং চকলেট রঙের মিশেল। হস্তশিল্পের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২৪ কেজি ওজনের এই সাইকেলটির সব কাজ সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে প্রায় ৭৫০ ঘণ্টা।

দামের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এই বাইসাইকেলটির নাম ‘ট্রেক বাটারফ্লাই ম্যাডন’। এটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে আসল প্রজাপতির ডানা। ড্যামিয়েন হারস্টের ডিজাইন করা এই সাইকেলটির দাম পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় চার কোটি ১৬ লাখ টাকা। ২০০৯ সালে ‘ট্যুর ডি ফ্রান্স’ রেসের লেন্স আর্মস্ট্রং নামের একজন বিখ্যাত সাইক্লিস্ট সর্বপ্রথম এটি ব্যবহার করেছিলেন।  ফ্রেমে থাকা `দ্য হাউজ অব সলিড গোল্ড` এর লোগোটি ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬০০টিরও বেশি ব্ল্যাক ডায়মন্ড এবং ৪.৫ ক্যারেট স্বর্ণ

ফ্রেমে থাকা `দ্য হাউজ অব সলিড গোল্ড` এর লোগোটি ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬০০টিরও বেশি ব্ল্যাক ডায়মন্ড এবং ৪.৫ ক্যারেট স্বর্ণকার্বন ফাইবার দিয়ে বানানো কাঠামোর পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এই সাইকেলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে শত শত প্রজাপতির ডানা। এটি নিয়ে ড্যামিয়েন বলেছিলেন, প্রজাপতির ডানাগুলো যাতে চাকচিক্য ধরে রাখতে পারে, তাই আমি ছবি ব্যবহার না করে আসল প্রজাপতি ব্যবহার করেছি। তবে প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন তার এমন কাজের বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তারা এটিকে ভয়ানক বর্বরতা বলেও আখ্যা দিয়েছে। 

‘দ্য হাউজ অব সলিড গোল্ড’ এর মতোই আরেকটি বিখ্যাত বিলাসী পণ্য নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হলো যুক্তরাজ্যের ‘গোল্ড জেনি ডট কম’। তারাও ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে একটি রেসিং সাইকেল বানিয়েছে। যার দাম তিন লাখ ৯৩ হাজার মার্কিন ডলার। সাইকেলটির পুরো কাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম এবং ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২৪ কেজি ওজনের এই সাইকেলটির সব কাজ সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে প্রায় ৭৫০ ঘণ্টা

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২৪ কেজি ওজনের এই সাইকেলটির সব কাজ সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে প্রায় ৭৫০ ঘণ্টাএমনকি গিয়ারবক্সেও রয়েছে সোনার চাকচিক্য। উজ্জ্বলতা বাড়াতে বেশ কিছু জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে হীরক খণ্ড। যার ফলে রাতের বেলাতেও দূর থেকেই এটিকে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। তবে গোল্ড জেনি কোম্পানির এমন স্বর্ণ পৃথিবীতে নতুন কিছু নয়। সাইকেলের আগেও তারা সোনা আর হীরার প্রলেপ দেয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন এবং ঘড়িসহ বেশ কিছু বিলাসী পণ্য ইতিপূর্বে বাজারজাত করেছে। 

পৃথিবীর চতুর্থ দামী বাইসাইকেলটির নাম ‘ট্রেক ইয়োশিমোটো নারা’। নিলামে যার দাম উঠেছিল দুই লাখ মার্কিন ডলার। ঘোষিত জাপানি শিল্পী ইয়োশিমোটো নারা বাচ্চাদের ভালো লাগার কথা ভেবেই এই সাইকেলটি ডিজাইন করেছিলেন। তাই এটির গায়ে আঁকা হয়েছে বিভিন্ন কার্টুনের ছবি। আর এটিতে চড়েই বিখ্যাত সাইক্লিস্ট লেন্স আর্মস্ট্রং ‘ট্যুর দি ফ্রান্স’ রেসের ১৮ তম স্টেজে অংশ নিয়েছিলেন। আর এজন্যই নিলামে তোলা এটির দাম এত বেশি হাঁকানো হয়েছিল।