April 16, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

একজন সাদা ও সুন্দর মনের মানুষ ছাত্রলীগের - নোবেল

একজন সাদা ও সুন্দর মনের মানুষ ছাত্রলীগের - নোবেল

একজন সাদা ও সুন্দর মনের মানুষ ছাত্রলীগের – নোবেল

মোল্লা তানিয়া ইসলাম তমাঃ মানুষের মন অস্তিত্বশীল হলেও তাকে দেখা বা স্পর্শ করা যায় না। মন যেহেতু চোখে দেখা যায় না, তাই মনের কোনো রং আছে কিনা এখনো তা জানা যায়নি । কাজেই মনের রং আছে যেমন বলা যাবে না তেমনি নাইও বলা যাবে না । তবে মানুষের ধারণায় মনের দুটি রংয়ের অস্তিত্ব রয়েছে । আবার সেই একই ধারণায় মনের রং অনুযায়ী মানুষকে ‘সাদা মন’ ও ‘কালো মন’ এই দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে । সাদা মনের বলতে ভালো মনকে ও কালো মনের বলতে খারাপ মনকে বুঝানো হয়ে আসছে । আমরা জানি সাদাকে শান্তি ও মঙ্গলের প্রতীক এবং কালোকে শোক আর অমঙ্গলের প্রতীক মনে করা হয় । সেই মনে করা হয় থেকেই সাদা মনের মানুষ কথাটার উৎপত্তি । আত্মমর্যাদাগত দিক দিয়ে সকল মানুষেরই সাদা মনের মানুষ হওয়ার কথা । কোনো মানুষের মন কালো বা কুৎসিত হলে সেটা তার মনুষ্যত্বের বিচ্যুতি । এ বিচ্যুতি মানুষের সহজাত নয় । মানুষের জন্য কালো মন একটি পদস্খলন । অবমাননার বিষয় । সাদা মনের মানুষ হওয়াই মানুষের জন্য স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত আচরণ । কারো মন কালো না হলেই তিনি সাদামনের মানুষ, তা বলা যাবে না । যার মনে কোনো পাপ নেই, যিনি তার শ্রেষ্ঠ আত্মমর্যাদা সম্পর্কে অবগত, যিনি পরোপকারকে কর্তব্য মনে করেন, যিনি সত্যবাদি ও ন্যায়নিষ্ঠ, যিনি কুটিলতা ও অহংকার থেকে মুক্ত, যিনি মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন, যার মনে অন্যের সর্বনাশের চিন্তা নেই, তিনিই সাদা মনের মানুষ । একজন সাদা মনের মানুষ সকল সৃষ্টির জন্যই নিরাপদ । তাই আজ এই ধারনা থেকে একজন আওয়ামীলীগ প্রেমি সাদা মনের মানুষের সন্ধান পেয়েছি । তিনি হলেন মাদারীপুরের ছাত্রলীগের অহংকার ও পৌর ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি, বহু গুনেগুণান্বিত, জাতীয় ও স্থানীয় যে কোন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নিজের অর্থ এবং বিশাল কর্মী বাহিনী দ্বারা উক্ত প্রার্থীকে জয়লাভ করানোর অন্যতম কারিগর, এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সুখ দুঃখের অংশীদার, একজন করোনা যোদ্ধা, একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ এবং মাদারীপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডের জন প্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নোবেল বেপারী । তিনি একজন সাদা মনের মানুষ, খোলামনে সবাইকে ভালোবাসেন, সবার ভালোবাসায় নিজেও ধন্য হয়েছেন । জনাব নোবেল বেপারী অন্যের আনন্দে নিজে আনন্দিত হন, অন্যের ব্যথায় হন ব্যথিত । তার মনের উদারতার পাত্র থাকে কানায় কানায় পূর্ণ । শুধু নিজের চিন্তা না করে তিনি এলাকার সকল মানুষের সুখের চিন্তা করেন । সকলের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেন । সব ভালো কাজের মাধ্যমে তিনি আনন্দ পান । তার কথা-মানুষ মানুষের জন্য । সাদামন সাহসের আধার । তাই তার মত একজন সাদা মনের মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে ছাড়া আর কাউকে ভয় পান না । তিনি বলেন, মানুষের কালো মন একটি মানসিক ব্যাধি । এই ব্যাধির মহামারি না হলেতো আমাদের সমাজে সাদামনের মানুষের এতো আকাল হতো না । যাহোক সাদা মনের মানুষের এই আকাল মানব সভ্যতার ভারসাম্যের জন্য আজ হুমকী হয়ে গেছে । এই হুমকী মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনার আগেই আমাদের সাবধান হতে হবে । আমাদেরকে মানবিক মূল্যবোধের মূলধারায় আবার ফিরে যেতে হবে । একটা সমাজের সবাই একযোগে খারাপ হয়ে গেলে সে সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে । সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে মানব সভ্যতাও ধ্বংস হয়ে যাবে । তখন কালো-সাদা কোনো মনের মানুষেরই সেই ধ্বংস থেকে বাঁচার কোনো উপায় থাকবে না । সাদা মনের মানুষের এতো আকাল সত্বেও আমাদের চারপাশে এদের অস্তিত্ব একেবারে নেই- সেকথা বলা যাবে না । অল্পসংখ্যক এরা আছেন বলেই এখনো মানবসভ্যতা টিকে আছে । মানুষ তো অমর নয় । আমার চিন্তা হচ্ছে এই অতি অল্পসংখ্যক এরা যদি এক এক করে চলে গিয়ে সব ফুরিয়ে যান, তখন কি হবে তাই নিয়ে । মানব সভ্যতার অস্তিত্বের জন্যই এটি আজ বড় গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ । এরা ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের আরো অনেক অনেক সাদামনের মানুষের আজ বড়ই প্রয়োজন । সাদামনের মানুষ তো আকাশ থেকে পেড়ে আনা যাবে না । আমাদের কালো মনকেই ঘষে-মেজে সাদা করতে হবে মানবসভ্যতার স্বার্থেই । মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ প্রাণী বলে মানুষ চেষ্টা করলেই সব পারে । সাধনা করলে কালোমনকেও সাদা করা সম্ভব । জনাব নোবেল বেপারী আরও বলেন, কালোমনকে কি করে সাদা করতে হয় সেটা সবাই জানেন । না জানলে আমি বলে দিচ্ছি-আমাদেরকে আবার মানুষ হতে হবে । মন থেকে মুছে ফেলতে হবে অমানিশার অন্ধকার । ঝেড়ে ফেলতে হবে সকল পঙ্কিলতা আর সংকীর্ণতা । পাপকে সজোরে ‘না’ বলতে হবে । সহজ-সরল আর আনন্দময় জীবনে আমাদেরকে আবার ফিরে যেতে হবে। মানুষ সবই পারলে, এটা না পারার কোনো কারণ নেই । মানুষের সহজাত স্বভাবে মানুষকে ফিরে এসে নিজেকে সাদামনের মানুষ করার সংগ্রাম শুরু করতে হবে । আবার সাদামনের মানুষদের সুন্দর মনের অধিকারীও হতে হয় । নইলে শুধু সাদামন মানুষকে যেন খানিকটা হলেও অসম্পূর্ণ করে রাখে । তাই সাদামনের পাশাপাশি একজন মানুষ যদি সুন্দর মনের অধিকারীও হতে পারেন তবে তাতে সাদা ও সুন্দরের তথা মনুষত্ব্যের ষোলকলা পূর্ণ হয় । এই পৃথিবীতে সৌন্দর্য্যরে পূজারী সবাই। স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও সুন্দর পছন্দ করেন । পৃথিবীতে নানারকম সৌন্দর্য্য রয়েছে। কোথাও প্রকৃতি সুন্দর, কোথাও মানুষ সুন্দর, কোথাও পাখি সুন্দর । সারা পৃথিবীজুড়ে এমন হাজারো সৌন্দর্য্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে । সুন্দরের যেন কোনো শেষ নেই । মানুষের মাঝেও অনেক রকম সৌন্দর্য্য আছে। মানুষের মধ্যে কারো চেহারা সুন্দর, কারো পোশাক সুন্দর, কারো আকৃতি সুন্দর, কারো চুলের স্টাইল সুন্দর, কারো বা কথা সুন্দর। এখানে যতরকম সৌন্দর্য্যরে কথা বলা হয়েছে তার সবই যদি একজন মানুষের মাঝে থাকে তবুও সে সৌন্দর্য্য পূর্ণাঙ্গ হবে না, যদি সেই মানুষের মনটা সুন্দর না হয় । মানুষের মনের সৌন্দর্যই আসল সৌন্দর্য্য । মনের পবিত্রতাই মনের সৌন্দর্য্য। একটা সুন্দর মন মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য । সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ প্রাণী বলে সকল মানুষের মনই সুন্দর হওয়ার কথা । এক কথায় যে মনে কোনো পাপ ও কু-চিন্তা নেই তাই সুন্দর মন । মানুষের সহজাত প্রবণতা সুন্দর মন অসুন্দর মন হয় ষড়রিপুর থাবায় । এই ষড়রিপুই মানুষের মনে পাপ ও কু-চিন্তা উসকে দিয়ে মানুষের মনের পবিত্রতা নষ্ট করে । আর মনের পবিত্রতা নষ্ট হলেই মানুষের মন হয় অসুন্দর । একজন সুন্দর মনের মানুষ হতে পারা রীতিমতো সৌভাগ্যের ব্যাপার । মনের সৌন্দর্য্য কেউ এমনি এমনি পান না । এটি তাকে অর্জন করতে হয় চর্চা তথা সাধনার মাধ্যমে । একজন কালো নিগ্রোর মন সুন্দর হতে পারে, আবার খাঁটি আর্য কোনো সুপুরুষের মন সুন্দর নাও হতে পারে । কোনো মানুষের চেহারা দেখে তার মনের সৌন্দর্য্য বুঝা প্রায় অসম্ভব । তাইতো গানের কথা- মুখ দেখে ভুল করো না, মুখটা তো নয় মনের আয়না । মানুষের মনের সৌন্দর্য্য প্রকাশ পায় তার আচরণের মাধ্যমে, তার চিন্তার মাধ্যমে, তার কথা ও কাজের মাধ্যমে । মানবমনের পরিচ্ছন্নতা তার মনকে সুন্দর করে, পবিত্র করে। কোনো অনৈতিক, নোংরা কথা কিংবা কাজ সুন্দর মনের মানুষ করতে পারে না । তার দ্বারা অন্য মানুষের কিংবা পশু-পাখির কোনো ক্ষতি হতে পারে না । প্রকৃতি থাকে তার থেকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ । একজন সুন্দর মনের মানুষ এ পৃথিবীর সকল সুখ যেভাবে উপভোগ করতে পারেন অন্যরা তা পারেন না । অন্যকে সাহায্য করে এরা আনন্দ পান । অন্যকে সুখী করে এরা কৃতার্থ বোধ করেন। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রের কল্যাণে এরা নিজেদের অকাতরে বিলিয়ে দিতে পারেন । মনের সৌন্দর্য্য মানুষকে দেশপ্রেমেও উজ্জীবিত করে । পক্ষান্তরে অসুন্দর মনের মানুষেরা পৃথিবীতে অযথা কলহ, যুদ্ধ ও অশান্তি ডেকে আনে। এদের মন থাকে হিংসা-বিদ্বেষে পরিপূর্ণ। এরা কারো ভালো সইতে পারে না । সর্বদা অন্যের অনিষ্ট চিন্তা করতে করতে এরা একসময় মানসিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে । এরা নিজেরা সবসময় অশান্তিতে থাকে এবং অন্যদেরকেও অশান্তি দিতে পছন্দ করে । মানসিক দীনতার কারণে এরা নিজের দেশকেও ভালোবাসতে পারে না । এরা সর্বদা পরের ক্ষতি করতে করতে নিজের ক্ষতি নিজেই ডেকে আনে । পৃথিবীর যত বিভেদ, যত রক্তপাত, যত অসহায় মানুষের বুকফাটা আর্তনাদ, তার সবই অসুন্দর মনের কারসাজি । পৃথিবীর সব মানুষের মন সহজাত সুন্দর হলে এ পৃথিবীটাই স্বর্গে পরিণত হতো ! সৃষ্টির সকল জীবের চাইতে মানুষের মন সুন্দর হবে, এটাই তো শ্বাশত প্রত্যাশা । সকল মানুষের মনই সুন্দর থাকার কথা । সুন্দর মন বলে মানুষের গর্ব করার কিছু নেই। মানুষ সকল জীবের শ্রেষ্ঠ কাজেই তার মন সুন্দর থাকাই স্বাভাবিক । কারো মন অসুন্দর হলে এটাই বরং আশ্চর্যের কথা । এই আশ্চর্য কথাই এখন রূঢ় বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে । এখন সারা পৃথিবীজুড়ে যত বিবাদ, রক্তপাত আর মানুষের বুকফাটা আর্তনাদ সবই অসুন্দর মনের কারসাজি । বিশ্বজুড়ে এখন সুন্দরের চাইতে অসুন্দরের কদর বেশি। এখন বড় দুঃসময়, তাই সুন্দরেরা বনে আর অসুন্দরসব নগরজুড়ে। আসলে বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, এখন সর্বত্রই অসুন্দরের ছড়াছড়ি । সুন্দর মনের কোনো কদর নেই এখন । ফলে দিনে দিনে সুন্দর মনের অনুকূল পরিবেশ ও সুন্দর মনের মানুষের সংখ্যা দুটোই আশঙ্কাজনক হারে কমছে । এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো সুন্দর মনের অভাবে সমাজে নৈতিক ও মানবিক অবক্ষয়ের অশুভ বিস্তার । অবক্ষয়ের কারণে আজ সারা বিশ্বে অশান্তির আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। এ আগুনে আজ আমরা সবাই জ্বলছি । এভাবে চলতে থাকলে হয়তো একদিন পুরো মানব সভ্যতাই জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। এ আগুন থেকে মানব সভ্যতাকে বাঁচাতে চাইলে সকল মানুষকে একযোগে সুন্দর মনের চর্চায় মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের সবাইকে সুন্দর মনের অধিকারী হওয়ার সংগ্রাম, আত্মশুদ্ধির সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে বিজয় অর্জন পর্যন্ত । এখন এই দুঃসময়ে এটা কামনারই সময়। এখনো যারা আছেন সাদা ও সুন্দর মনের মানুষ তাদের জানাই সালাম । জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক মানব জাতির, জয় হোক মাদারীপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড বাসীর ।