October 27, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

একটা ঘর চায় সোনাভান

একটা ঘর চায় সোনাভান

একটা ঘর চায় সোনাভান

সুলতান আহমেদ সোনা।- ভরা দুপুর বেলা সাংবাদিক রানা জামান যখন টুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গিয়ে বাইকটি থামালেন, তখন লক্ষ্য করলাম, দায়িত্বশীল কেউ ইউনিয়ন পরিষদে আসেননি। এমন সময় এক বৃদ্ধা সামনে এগিয়ে এসে বললেন, ‘বাবা হামার খুব কষ্ট, একটা ঘরের ব্যবস্থা করি দেও বাবা, ঝড়ি আলি ঘরোত থাকা যায়না, দেওয়া ডাকলি ভয় নাগে’।

বুড়িমা কী ভেবে আমাকে তার কষ্টের কথা শোনালেন জানিনা। তার কথা শুনে মনে কষ্ট পেলেও কিবা করতে পারি আমি! তাকে ঘর দেয়ার ক্ষমতা তো আমার মত সাংবাদিকদের হাতে নেই। ঘর দিতে পারেন এমপি সাহেব, উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব, ইউএনও সাহেব,পিআইও সাহেবরা। কে শুনবে আমার কথা। তারপরও মনোযোগ দিয়ে বুড়িমার কথা শুনেছি। একটা ফটোও তুলেছিলাম মোবাইল ফোনের ক্যামেরায়। আর ওই বৃদ্ধাকে কথা দিয়ে ছিলাম, তার কষ্টের বিষয়টি অবশ্যই আমি লিখবো। আজ লিখছি-

রংপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সোনাভান। তার বয়স এখন পঁচাত্তর। স্বামী আফছার আলী বেশ ক’বছর হলো মারা গেছেন। পুষ্টির অভাবে একটা চোখ অন্ধ তার। আপন বলতে তার একটা ছেলে সন্তান আছে। নাম সোলায়মান। ঢাকায় রিকসা চালায়। চারজন নাতিও আছে। ছেলের বউ, নাতি মিলে তাকে নিয়ে সংসারে ৭জন মানুষ! ছেলের আয়ে সংসার ভালো চলে না বলে, সোনাভানকে পৃথক করে দেওয়া হয়েছে। মেঙ্গে খেয়ে কোন মতে দিন পার করছেন সোনাভান। থাকার যে ঘরটি,সেটি সারাবার মত অর্থকড়ি তার নেই। আকাশে মেঘ ভাসলে, দেওয়া ডাকলে ভয় পায় সোনাভান। কারণ তার ভাঙ্গাঘরের ফুটো চালা দিয়ে বৃষ্টির জল পড়ে! বৃষ্টির সময় দিনটা পার হলেও রাতটা বড় কষ্টে কাটে তার। সোনাভান জানিয়েছেন,মৃত স্বামীর ৯ শতক জায়গা আছে। সেখানে একটা নিরাপদ ঘর হলে বাকী জীবনটা নাকি তার সুখেই কাটবে। আমরা সবাই জানি, দেশ এগুচ্ছে। দেশে প্রসস্ত সড়ক হচ্ছে, উঁচু উঁচু ভবন হচ্ছে, বিশাল বিশাল সেতু হচ্ছে । অসহায় মানুষরা সরকারের অনুদানে পাকা ঘর পাচ্ছে। সাহেবরা দামি দামি মটরগাড়ী পাচ্ছেন । বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ একদিন উন্নত, স্বনীর্ভর দেশ হবে। এই দেশে কেউ অভুক্ত থাকবেনা,গৃহহীন থাকবে না,কেউ ভিক্ষা করবে না। হয়তো তত দিন সোনাভানও বাঁচবে না। একটা ঘর পাবার আশায় সেই সুদিন দেখার অপেক্ষায় সোনাভান থাকবে কী ? বলছি,বর্তমানে সোনাভান একটা ঘরের দাবী জানিয়েছে, সেটা পুরণকরা কি একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার?