October 24, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে চরলক্ষ্মীপুরের কয়েক হাজার মানুষ ।।

একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে চরলক্ষ্মীপুরের কয়েক হাজার মানুষ ।।

একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে চরলক্ষ্মীপুরের কয়েক হাজার মানুষ

নদীতে সেতু না থাকায় নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা ।।

মাদারীপুর থেকে ফিরে মোল্লা তানিয়া ইসলাম তমাঃ মাদারীপুরের সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে আড়িয়ালখা শাখা নদের বিলপদ্মা নামের নদীটি । আর এই নদীর দু’পাশেই রয়েছে চরলক্ষ্মীপুর নামে বিশাল একটি গ্রাম । পাশের বলাইরচর নামক গ্রামটিও ছিলারচর ইউনিয়নের আওতাধীন । এসব এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস, যারা বিভিন্ন প্রয়োজনে নিয়মিত নদীটি পারাপার হন। কিন্তু নদীতে সেতু না থাকায় নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা । নদীটির দক্ষিণ পারের চরলক্ষ্মীপুর, বলাইরচর, হোসনাবাদ গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজনকে নদীটি পার হয়ে চিকিৎসা, শিক্ষা, হাট- বাজার করাসহ বিভিন্ন কাজে প্রতিনিয়তই আসতে হয় । এমনকি মাদারীপুর জেলা শহর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্যও নদীটি পাড়ি দিতে হয় । এসব এলাকার মানুষ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রভৃতি যানবাহনে যাতায়াত করে । কিন্তু সেতু না থাকায় নদী পার হওয়ার সময় তাদেরকে বিপাকে পড়তে হয়। এছাড়া কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্ভোগের মুখে পড়েন । স্থানীয়দের ভাষ্য, আবদুর রশিদ হাওলাদারের হাট ও দক্ষিণে চরলক্ষ্মীপুর মাঝ এলাকায় বিল পদ্মা নদীর উপর একটি সেতু নির্মিত হলে দুই পাড়ের মানুষের কষ্ট যেমন শেষ হতো তেমনই হাজারো মানুষের মধ্যে একটি মেলবন্ধন তৈরি হতো । আবদুর রশিদ হাওলাদারের হাট এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলা উদ্দিন মোল্লা বলেন, এই পয়েন্টে সেতু না থাকায় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের খুবই কষ্টের মধ্যে পড়তে হয় । কারন এই পাড়ের বাসিন্দাদের যেমন জায়গা- জমি নদীর ঐ পাড়ে রয়েছে তেমন নদীর ঐ পাড়ের বাসিন্দাদেরও এই পাড়ে জায়গা- জমি রয়েছে । তাই তাদের জীবিকার তাগিদে প্রতিক্ষণেই নদীটি পারাপার হতে হয় । এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তসহ সময়ও ব্যয় হচ্ছে । শিরিন জাহান হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী জান্নাত আক্তার বন্যার ভাষ্য, বর্ষাকালে আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয় । এমন কি নদীতে নৌকা পারাপারের জন্য নির্ধারিত সময়ের চাইতে ১ ঘণ্টা আগে বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে হয় । আবার স্কুল থেকে ফিরার সময় এই নৌকা পারাপারের জন্য অনেক সময় বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায় । মাদারীপুর সরকারী কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মহসিন আরিফ হাওলাদার কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন রকম সমস্যার মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করে আসছি । তার মধ্যে আমাদের অন্যতম একটি বড় সমস্যা নৌকা যোগে নদী পারাপার । আর এই নদী পারাপারের সমস্যার কারনে আমাদের এলাকার অনেক ছেলে মেয়ে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । বর্ষায় নদীতে প্রবল স্রোত থাকে । এতে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয় । যার কারনে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে যেতে দেয়না । জাসদ নেতা ওবাইদুর রহমান চুন্নু হাওলাদার, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আউয়াল হাওলাদার, সমাজ সেবক আবুল বাশার হাওলাদার একই সুরে বলেন, দেশে এখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । এই এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে । দুর্ভাগ্যবশত এই এলাকায় মাত্র একটি ব্রিজের অভাবে এলাকার মানুষ কোন রকম উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারছে না । এই এলাকার মানুষের রোগী বা কৃষিপণ্য পরিবহনে কি যে দুর্ভোগে পড়তে হয় তা নিজ চোখে না দেখে কেউ অনুভব করতে পারবেনা । বর্ষায় নদীতে প্রবল স্রোত থাকে। কমলমোতি শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয় । ইতি মধ্যে এলাকাবাসী স্থানীয় সাংসদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের এই পয়েন্টে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য আবেদন করেছেন বলে দাবী করেছেন অনেকে । আর তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে আগামী ১ বছরের মধ্যে এই পয়েন্টে একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দিবে বলে আশ্বস্ত করেছেন স্থানীয় সাংসদ । ছিলারচর ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল আলম বাবুল সরদার জানিয়েছেন, ব্রিজটি নির্মাণে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে । আসা করি দ্রুতই ব্রিজটি নির্মাণে স্থানীয় সাংসদসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন । বৃহত্তর এই জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর ।