January 28, 2022

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

কিশোরগঞ্জে চাড়ালকাটা নদী সোজা কারণে চার ফসলা জমি ব্যবহার কৃষকের মাথায় হাত

কিশোরগঞ্জে চাড়ালকাটা নদী সোজা কারণে চার ফসলা জমি ব্যবহার কৃষকের মাথায় হাত

কিশোরগঞ্জে চাড়ালকাটা নদী সোজা কারণে চার ফসলা জমি ব্যবহার কৃষকের মাথায় হাত

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নে চারালকাটা নদী সোজা করণে চার ফসলা জমি ব্যাবহার করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সৈয়দপুর।

উপজেলার ৩ নং নিতাই ইউনিয়নে গাংবের এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে চারালকাটা নদী। যা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আবার এসে সংযোগ হয়েছে বুড়িতিস্তা নদী বেলতলী বাজারের কাছে। পানি উন্নায়ন বোর্ড সৈয়দপুরের উদ্যোগ্যে চারালকাটা নদীর ৬৫.৮০০ কিঃ মিঃ থেকে ৭৬.০০০ কিঃ মিঃ মোট ৭ শত ৫০ মিটার চার ফসলা জমি ব্যবহার করে পানি উন্নায়ন বোর্ড সৈয়দপুর প্রায় ৭৫০ কিঃ মিঃ লুপ কাটিং করছে। কাজটি করছে বরগুনা উপজেলার মের্সাস আল মামুন এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, হোল্ডিং নং- ০৭, ওয়ার্ড ০২, পুলিশ লাইন রোড। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি প্রায় গত আট থেকে দশ দিন যাবৎ লুপ-কাটিং করছে।

সৈয়দপুর পানিউন্নায়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত প্যাকেজ নং -লুপ-১/চারালকাটা/ সৈয়দপুর, যার চুক্তিমূল্য ২ শত ৩৬ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা। কাজ শুরুর তারিখ ১৩/০৯/২১ ইং ও শেষ করার তারিখ ১০/০৬/২২ ইং পর্যন্ত দেওয়া রয়েছে।

ঐ এলাকার বিভিন্ন কৃষক এখন মাথায় হাতে দিয়ে শুধু কাঁন্না ছাড়া কিছুই করার নাই। তাদের যে জমি টুকু ছিল তাও চলে গেলো নদীর মধ্যে। একটু শ্বাকস্বজি করার জমিও নাই তাদের। ঐ এলাকার কৃষক জাহেদুল, রফিকুল, শফিকুল ও সেরাজুল এ রকম অনেক কৃষক না বুঝে তাদের চার ফসলা জমি পানিউন্নায়ন বোর্ডকে দিয়ে শুধু কাঁন্না ছাড়া কিছুই করার নাই। আফসোস করছে আর মাথায় হাতে দিয়ে বসে আছে।

এ পাশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লুপ-কাটিং এর মাটি বিক্রির ধুমে পড়েছে। তারা ঐ এলাকার যাদের পুকুর বা ডোবা আছে তাদের সাথে চুক্তি করে মাটি দিয়ে তা টাকার বিনিময়ে ভরাট করে দিচ্ছে। এতে সরকারী রাজস্বের লাখ লাখ টাকা ঠিকাদার ও পানিউন্নায়ন বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার পকেট ভরে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট শাখা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। যেন তিনি কিছুই যানেন না। অথচ তিনি সংশ্লিষ্ট কাজের শাখা ব্যবস্থাপক লুপ-কাটিং এর বালু কোথায় যাচ্ছে তিনি বলতে পারেন না। কারণ বাংলাদেশ পানিউন্নায়ন বোর্ডের কোন লোক না থাকায় এ রকম হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহ মোঃ মোফাককারুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনিও না জানার ভ্যান করেন, পড়ে বলেন ও পুকুর ভরাট ওখানে ঠিকাদার কন্টাক্ট নিয়েছে পড়ে লীজ দিয়ে বালু বিক্রি করবে।

সরজমিনে সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, নিতাই গাংবের গ্রামের সাবেক মেম্বার আলম হোসেনের ছেলে দুলু মিয়ার প্রায় এক একর জমির উপর একটি পুকুর ঠিকাদার তার নিজস্ব ২ টি ড্রামট্রাক দিয়ে সেখানে মাটি ফেলছে। এবং সেখানে কোন পানিউন্নায়ন বোর্ডের কর্মকর্তাতো দূরের কথা দেখাশোনার ও কোন অফিসিয়াল কেউ ছিল না। তাদের অনুপুস্থিতে ঠিকাদার তার ইচ্ছে মতকরে মনগড়া ভাবে কাজ করছে।
এ ব্যাপারে উপজেলার কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আউয়ালের সাথে কথা হলে তিনি বলেন যে জমি গুলো দিয়ে নদী খনন করা হচ্ছে সে জমি গুলো চার ফসলা জমি এ কথাটি সত্য। কারণ আমি নিতাই ইউনিয়নের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের দ্বায়িত্বে আছি। ঐ জমি গুলো চার ফসলা জমি এটা সত্য কথা বলে তিনিও স্বীকার করেন।