May 17, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

কৃষ্ণচুড়া সেজেছে আজ রক্তিম সাজে

কৃষ্ণচুড়া সেজেছে আজ রক্তিম সাজে

কৃষ্ণচুড়া সেজেছে আজ রক্তিম সাজে

খায়রুন নাহার বহ্নি, বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধি ঃ কৃষ্ণচূড়া “বৃক্ষ” জাতীয় উদ্ভিদ। যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া (উবষড়হরী ৎবমরধ) . কৃষ্ণচূড়া মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রঝরা বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়। যদিও জঙ্গলে এটি বিলুপ্ত প্রায়। বিশ্বের বিভিন্ন অ লে এটি জন্মানো সম্ভব হয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধক গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়া ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় সর্বোচ্চ ১২ মিটার হলেও শাখা-পল্লবে এটি বেশ অ ল ব্যাপি ছড়ায়। শুষ্ক অ লে গ্রীস্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিশীতোষ্ণন অ লে এটি চিরসবুজ। কৃষ্ণচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে।
কৃষ্ণচূড়া ফুলের রাজ্যে কৃষ্ণচূড়ার মতো এমন উজ্জ্বল রক্তিম বর্ণের ফুল বেশ দুর্লভ বটে। শীতের হিমেল সমীরণে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝড়ে যায়। বসন্তে- গ্রীস্মে গাছগুলো আবার ভরে উঠে রক্তিম লাল কমলায়। বৈশাখ মাসের প্রচন্ড গরমে যখন সবাই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখনই কৃষ্ণচূড়ার ডাল থোকা থোকা লাল- কমলাফুলে ভরে ওঠে। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। শুধু গ্রীস্মেই নয়, বর্ষায়ও কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে এই ফুল অপূর্ব মোহনীয় রূপে শোভা পায় । কৃষ্ণচূড়া ফুলে মুগ্ধ সৌন্দর্য পিপাসু, পথচারীসহ প্রেমিক প্রেমিকারা। সবুজ পাতার ফাঁকে উকি দিয়ে ফুলে ফুলে রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে গাছগুলো। মুগ্ধতা ছড়ানো ফুল গুলো যেন লাল রঙের আলপনায় সাজিয়ে রেখেছে প্রকৃতিকে। সেই সাথে গ্রীস্মের এ খররুদ্র তাপে কৃষ্ণচূড়ার লাল চাঁদোয়ার যেন ঝালক বিছিয়েছে গ্রামের পথ প্রান্তরে । বিশুদ্ধ অক্সিজেনের পাশাপাশি এসব গাছ দিচ্ছে ক্লান্ত দেহে ছায়া আর মনে প্রশান্তির পরশ।
গ্রীষ্মের এই আগুন ঝরা দিনে যেন লাল বেনারসি পড়া নববধূর সাজে কারো অপেক্ষায় আছে কৃষ্ণচূড়া। কিন্তু প্রকৃতির মাঝে এ বিচিত্র জাতের সৌন্দর্য মেলে ধরা বৃক্ষটি উজাড়ের মিছিলে নীরবে নিভূতে লোকচক্ষুর অগোচরে বিলুপ্তির পথে। যেসব গাছ এখনও কোন মতে আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে সেগুলো নাগরিক জীবনও কর্তৃপক্ষের অসচেতনতা ও অতি লোভ আর নগর পরিকল্পকদের ভুলে হারিয়ে যাচ্ছে। প্রবীণরা জানান, শেষ বয়সে এসেও আকাশে লাল গালিচা বিছানো এ বৃক্ষ আমাদের মন রাঙিয়ে তোলে । গ্রমীণ মেঠো পথের ধূলা-বালির এই গ্রীষ্মের খরতাপে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয় কৃষ্ণচূড়ার গাছগুলো। বীরগঞ্জ কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ সংলগ্ন,পানি উন্নয়ন র্বোড চত্তর ও খাদ্য গুদাম চত্বরে কষ্ণচুড়ার গাছগুলো মনের মাধুরি মিছিয়ে রক্তিম সাজে দাঁড়িয়ে আছে কালের স্বাক্ষি হয়ে। কৃষ্ণচূড়া নিয়েও রয়েছে কত গান ও কবিতা।
আশা ছিল, ভালোবাসা ছিল। আজ আশা নেই, ভালোবাসা নেই। এই সেই কৃষ্ণচূড়া যার তলে দাঁড়িয়ে হাতে হাত রেখে কথা যেত হারিয়ে। কিশোর কুমারের সেই বিখ্যাত গান আজো অনেকের হৃদয়ে দোল দিয়ে যায়।