October 24, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

গাইবান্ধায় নবজাতকের শরীর কেটে কার্টুনবন্দি করে মরদেহ হস্তান্তর

গাইবান্ধায় নবজাতকের শরীর কেটে কার্টুনবন্দি করে মরদেহ হস্তান্তর

গাইবান্ধায় নবজাতকের শরীর কেটে কার্টুনবন্দি করে মরদেহ হস্তান্তর

গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অদক্ষতায় নবজাতকের শরীরের বিভিন্ন স্থান কেটে ফেলায় মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে প্রসূতি মায়ের জরায়ূতেও কাটাছেড়া করায় তিনিও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ডিজিটাল হসপিটালে সিজারিয়ান অস্ত্রপচারের সময় এই ঘটনা ঘটে।
ওই প্রসূতি মায়ের নাম মমিনা বেগম (৩৫)। তিনি সাঘাটা উপজেলার ভরতখালি ইউনিয়নের সাকোয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী।
প্রসূতির স্বামী হাবিবুর রহমান জানায়, মঙ্গলবার সকালে তার স্ত্রী মমিনা বেগমের প্রসববেদনা উঠলে বেলা ১২টার দিকে তাকে নেয়া হয় বোনারপাড়া ডিজিটাল হসপিটালে। পরে রোগীর কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সাড়ে ১২টার দিকে তার সিজারিয়ান অস্ত্রপচার করে চিকিৎসক। অস্ত্রপচারে কন্যাসন্তানের বাবা হন হাবিবুর রহমান।
আর এই অস্ত্রপচার সম্পন্ন করেন হসপিটালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. খোরশেদুর রহমান পাপ্পু ও ডা. রাকিবুল হাসান রাকিব।
তবে অস্ত্রপচারের সময় চিকিৎসকের অদক্ষতায় নবজাতকের প্রসাবের দ্বারসহ বিভিন্নস্থান কেটে যায়। এরপর বিকেলে কার্টুনবন্দি করে নবজাতকের মরদেহ দেয়া হয় পরিবারকে। পরে সন্ধ্যায় নবজাতকটিকে বাড়িতে নিয়ে কার্টুন খুলে তার শরীরে কাটা ফাটার দাগ দেখে মৃত্যুর অভিযোগ তোলে স্বজনরা।
হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘এটি বুঝবের পাই নাই। বাড়িত নিয়ে যায়া টের পাছি। বাক্স খুলে দেখি প্রসাব আর পায়খানায় রাস্তা কাটি ফেলাচে। এটা দেখি হামি অজ্ঞান হয়া গেছি।’
প্রসূতির ভাতিজা নূর মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, ‘বাচ্চার সাড়া গাও কাটি ফেলাচে ডাক্তারে। এটা ডাক্তারের অদক্ষতার জন্যে হচে। চাচিরও জরায়ূ কেটে ফেলছে তারা। এটার তদন্ত দরকার।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কথা বলতে রাজি হয়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর দেখা মেলে অভিযুক্ত মেডিকেল অফিসার ডা. খোরশেদুর রহমান পাপ্পুর সঙ্গে।
তিনি জানান, প্রসূতির অস্ত্রপচারের সময় তিনি থিয়েটারে ছিলেন। আর অস্ত্রপচার সম্পন্ন করেন ডা. রাকিবুল হাসান রাকিব। তবে এর বেশি তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
দায়িত্বরত সেবিকা দিপা আকতার জানান, কোন এক পল্লী চিকিৎসক প্রসূতির শরীরের ১২টি ইনজেকশন প্যুশ করেন। এ কারণেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার পর মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।
তিনি জানান, ‘এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’