December 5, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

চরকাই গ্রামে ক্রয়কৃত জমির মালিকের বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও ভুমি প্রশাসন হয়রানি করায় সংবাদ সম্মেলন ॥

চরকাই গ্রামে ক্রয়কৃত জমির মালিকের বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও ভুমি প্রশাসন হয়রানি করায় সংবাদ সম্মেলন ॥

চরকাই গ্রামে ক্রয়কৃত জমির মালিকের বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও ভুমি প্রশাসন হয়রানি করায় সংবাদ সম্মেলন ॥

বিরামপুর, দিনাজপুর প্রতিনিধি।
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চরকাই গ্রামের মৃত সরফ উদ্দিনের পুত্র মোঃ আবুল হোসেন গতকাল শনিবার সকাল ১০.০০ টায় ফুলবাড়ী থানা প্রেসক্লাবে বিরামপুর ভুমি প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাব শালী ব্যক্তিরা হয়রানি করায় সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে আবুল হোসেন বলেন- বিরামপুর উপজেলার চরকাই গ্রামের বীরবল রায় (৭৫) এবং ডোমন রায় (৬৫) উভয়ের পিতা পিতা- মৃত: মদন রায়, মৃত: ক্ষুদু রায় (৮০), পিতা মৃত: রাম রায় এদের মৃত্যুর পর ঐ জমির ওয়ারিশ সুত্রে মালিক শ্রী পালুয়া রায় (৭০), মিঠু রায় (৭৫) অনিল রায় (৬০) এরা সকলে বিরামপুর উপজেলার চরকাই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। বিরামপুর উপজেলার চরকাই গ্রামের মৌজা পূর্ব জগন্নাথপুর জে.এল নং- ২৩২, খতিয়ান নং- ৭৩৮, ডি,পি নং- ৪৭৮, দাগ নং- ৮১৮, ৮২০ এবং ৮২১, রকম- ডাঙ্গা, জমির পরিমান- ২ একর ৪৮ শতক. উক্ত জমি ১৯৭৫ সালে আবুল হোসেন ও তার দুই ভাই আবু বক্কর ও আবু তাহের উভয়ের পিতা- মৃত: সরফ উদ্দিন তারা সমান অংশে উল্লেখ্য ব্যক্তিদের নিকট হইতে ক্রয় করেন এবং ফুলবাড়ী সাব-রেজিষ্টার অফিসে রেজিষ্ট্রারি করেন। যাহার দলিল নং- ২৪২৯, সাল- ১৯৭৫, ২৪১৩০ সাল- ১৯৭৫, ২৪১৩১ সাল- ১৯৭৫ এবং ২৪১৩২ সাল- ১৯৭৫। উক্ত জমি ভোগ দখল করে আসছেন। উক্ত জমি ১৩/০২/১৯৮৬ সালে বিরামপুর সহকারি ভুমি অফিসে খারিজ করেন। যাহার চলমান মাঠপর্চা রয়েছে। ডি,পি নং- ৪৭৮ তারিখ: ১৭/০৫/২০১৮, ডি,পি নং- ৫৬০তারিখ: ১৭/০৫/২০১৮।
মোঃ আবুল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান- উক্ত জমি বন বিভাগ দাবি করলে তিনি সহকারি জেলা জজ দিনাজপুরে ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার ও বন বিভাগকে বিবাদী করে একটি মামলা করেন। মামলাটি দীর্ঘ ১০ বৎসর চলার পর আদালতে ১৯৯৪ সালে মোঃ আবুল হোসেনের পক্ষে সহকারি জজ মোছাঃ রাশেদা সুলতানা অত্র মোকদ্দমার ১ থেকে ৪নং বিবাদীর বিরুদ্ধে ২তরফা সুত্রে এবং অন্যান্য বিবাদীগণের বিরুদ্ধে ১তরফা সুত্রে খরচ ব্যতিত নালীশি জমির রায় প্রদান করেন। যাহার দাগ নং- ৮১৮, ৮২০ এবং ৮২১ দাগের সম্পূর্ন সম্পত্তি ভেষ্টেট ফরেষ্ট, রিজার্ভ ফরেষ্ট জমি হিসেবে প্রচারিত বিজ্ঞপ্তি বেআইনি ও অকার্যকর মর্মে ঘোষণা করেন। উক্ত জমি সহকারী কমিশনার ভুমি বিরামপুর তার ঐ ক্রয়কৃত সম্পৃত্তি অর্পিত হিসেবে দাবি করলে জমির মালিক গত ২০১৩ সালে জেলা দিনাজপুর অর্পিত অনাগরিক সম্পত্তি প্রর্তাপন অবমুক্তি ট্রাইবুনাল যুগ্ম আদালত- ২ এ মোকদ্দমা করেন। যার মামলা নং- ৫৭১/২০১৩ অর্পিত ট্রাই। সেখানে মামলার জবাব শুনানীর জন্য চলমান রয়েছে।
এদিকে উক্ত মামলা চলমান থাকায় আদালতের আদেশ অমান্য করে বিরামপুর উপজেলার চরকাই গ্রামের পিতা আব্দুল গণির পুত্র মোঃ আব্দুল মান্নান (৫৫) মৃত: নুর ইসলাম এর পুত্র রায়হান (৩৯), মৃত নজরুল ইসলামের পুত্র মোঃ মোমিন উদ্দিন (৪০), মৃত আজহার আলীর পুত্র মোঃ সবুর (৪৫), বকুল তলা গ্রামের মৃত: আফতাব উদ্দিন এর পুত্র মোঃ খোরশেদ আলম (মানিক) (৪৫), মোঃ খাইরুল আলম মুকুট (৩৮), বিরামপুর বিএমপির মোড় গ্রামের আবু তালেব এর পুত্র মোঃ সোহেল আরমান (৪০), চাদপুর এলাকার তোফাজ্জল হোসেন এর পুত্র মোঃ ফারুক হোসেন (৩২) সহ অজ্ঞাত দেড় শতাধিক ব্যক্তি এরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠী সোটা নিয়ে গত ২৬/০৮/২০২১ ইং তারিখে সকাল ১০.০০ টায় তার পৈতিক সম্পত্তিতে গিয়ে জোর পূর্বক জমিতে লাগানো ঘাস ট্র্যাক্টর দিয়ে উপড়ে ফেলে এতে তার ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। সেখানে ২৫০টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নিয়ে যায় যার মুল্য ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঐ জমির উপরে একটি পুকুর ছিল, পুকুর থেকে প্রায় ৪০ মন মাছ জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যায়, যার বাজার মুল্য প্রায় ২লক্ষ ২০ হাজার টাকা। উল্লেখ্য ব্যক্তিদেরকে বাধা দিতে গেলে তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। জীবনের ভয়ে তারা চলে যায়। এই ঘটনায় আবুল হোসেন ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এসব ঘটনার ন্যায় বিচার প্রশাসনের কাছে পাওয়ার আশায় মোঃ আবুল হোসেন ফুলবাড়ী থানা প্রেস ক্লাবে গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় আবুল হোসেন এর ভাইসহ সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।