September 23, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

ঠাকুরগাঁওয়ে করোনার কালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাঠে ধানচাষ

ঠাকুরগাঁওয়ে করোনার কালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাঠে ধানচাষ

ঠাকুরগাঁওয়ে করোনার কালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাঠে ধানচাষ

জসীম উদ্দিন ইতি ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :  চারদিকে ধানের চারাগাছের সবুজ প্রান্তর। মাঝাখানে একটি টিনসেডের প্রতিষ্ঠান। প্রথমে পরিত্যাক্ত মনে হলেও  মহাসড়কের পাশে সরু একটি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পর বোঝা গেলো এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার নাম চন্দন চহট আলহাজ ইমারউদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা এবং এটির প্রতিষ্ঠিত সাল ১৯৯৫। করোনার কারনে সরকার ঘোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বন্ধ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটিও।

করোনার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি  বন্ধ থাকায় বেসরকারি এই মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। তাই মাদরাসা সুপার অফিস সহকারীকে অনুমতি দিয়েছেন মাদ্রাসার মাঠে ধান চাষ করার। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, এই কাজটি ঠিক হয়নি। মাদরাসার মাঠ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্যই রাখতে হবে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে ও দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের চন্দন চহট আলহাজ ইমারউদ্দিন দাখিল মাদ্রাসাতে খেলার মাঠে এখন চাষ হচ্ছে ধান। করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে রোপণ করা হয়েছে ধান। এ কাজে সহায়তা করছেন মাদ্রাসার সুপার মমতাজ আলী নিজেই। অনুমতি দিয়েছেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতিও।

ঠাকুরগাঁওয়ে করোনার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি  বন্ধ থাকায় মাদ্রাসার মাঠে ধানচাষ

এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, দেড় বছর যাবত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ছেলে-মেয়েরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। কিন্তু এই সুযোগে মাদ্রাসার মাঠে ধান চাষ করা কর্তৃপক্ষের ঠিক হয়নি। এতে মাদ্রাসার মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।

মাদ্রাসার সুপার মমতাজ আলী বলেন, মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত সাল থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাদ্রাসার কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন দিতে পারি না। অফিস সহকারী অনুরোধে করোনাকালে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে ধান চাষের অনুমতি দিয়েছি। তাছাড়া মাদ্রাসার বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা তো করে না।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের কাছে ধান রোপণের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদ্রাসটি এমপিও ভুক্ত হয়নি। করোনার জন্য বন্ধও রয়েছে। তাই ফেলে না রেখে অফিস কর্মচারী ধান রোপণ করেছেন। এতে সমস্যা তো দেখছি না।

রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে ধান চাষ করার কোনো বিধান নেই। মাঠটি খেলার জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য উম্মুক্ত থাকবে। এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপারকে ডেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।