September 20, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ কিশোরকে পাচারকালে ২ মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ কিশোরকে পাচারকালে ২ মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ কিশোরকে পাচারকালে ২ মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার

জসীম উদ্দিন ইতি, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকার নিম্ন আয়ের ও অস্বচ্ছল পরিবারের কিশোরদের টার্গেট করে ভারতে পাচার করে তাদের দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার, অস্ত্র পাচারসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজ করাতে বাধ্য করতো একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র।
এতদিন বিষয়টি জানাজানি না হলেও সম্প্রতি এ ধরনের কর্মকাণ্ডেরর খবর জানতে পেরে গোপনে তৎপরতা চালায় জেলা ডিবি পুলিশ। সোমবার (২৩ আগস্ট) ডিবি পুলিশ সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারে একজন মানবপাচারকারী বেশ কয়েকজন কিশোরকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে থ্রি-হুইলারে (পাগলু) করে বালিয়াডাঙ্গী অভিমুখে রওনা হয়েছে।
খবর পেয়েই বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চার রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেয় ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নবিউল ইসলামের নেতৃত্বে একদল চৌকষ ডিবি সদস্য।
বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তায় সন্দেহাতীত একটি পাগলুকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সত্যতা পায় ডিবি। এসময় মানবপাচারকারী সদস্যের মূলহোতা মো. নাঈমকে (২৫) আটকসহ ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা ৯ কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। পরে মানবপাচারকারী নাঈমের দেওয়া তথ্য মোতাবেক ঠাকুরগাঁও শহরের বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে থেকে মো. আতিকুর রহমান (৩৩) নামে মানবপাচারকারী চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ দুইজনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।
আটক নাঈম হরিপুর উপজেলার ঝাড়বাড়ী (ডাবরী ক্যাম্প) নামক এলাকার মো. জবেদ আলীর ছেলে ও আতিকুর রহমান ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আরাজী ঢাঙ্গীপুকুর এলাকার মো. আব্দুল্লাহ’র ছেলে।
মানব পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোররা হলো- হরিপুর উপজেলার রুহিয়া গ্রামের মো. কাশেম এর ছেলে সমিরউদ্দিন(১৩), একই সিরাজুলের ছেলে মো. রুবেল (১৫), আবু হানিফের ছেলে মাহাবুব আলম (১৭), জসরত আলীর ছেলে মো. আশরাফুল (১৬), মো. রহিমউদ্দিনের ছেলে আ: বাকি (১৭), একই উপজেলার পাঁচঘরিয়া নামক এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে শহীদ আলী (২৬), বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিশ্রামপুর গোয়ালটুলি গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে বাবুল হোসেন (২৮), একই এলাকার তাইউদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেন (১৬) ও মো. রব্বানীর ছেলে মো. মোস্তাকিম (২০)।
ডিবি পুলিশের এসআই নবিউল জানান, একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারি চক্র জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের কিশোরদের বিনা খরচে ভারতে ভালো বেতনে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করে আসছে এমন খবর জানতে পেরে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধিসহ পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করে ডিবি পুলিশ। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার গোপনে ডিবি পুলিশ অবগত হয় মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্য পাগলুতে বেশ কয়েকজন কিশোরকে ভারখবর পেয়ে ডিবি পুলিশ বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তায় সিভিলে অবস্থান নেয়। সন্দেহমূলকভাবে হরিপুর থেকে আসা একটি পাগলুকে থামালে ৯ কিশোরসহ মানবপাচার চক্রের মুলহোতা মো. নাঈমকে আটক করা হয়। এসময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে মানবপাচারের বিষয়টি স্বীকার করে এবং এ কাজে জড়িত আরও একজনের নাম জানায় এবং সে ঠাকুরগাঁও শহরের বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে বলে নিশ্চিত করে।পরে তার দেওয়া তথ্য মোতাবেক তাকে সাথে নিয়ে সেখানে অভিযান চালালে মো. আতিকুর রহমান নামে মানব পাচারকারী চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।
এসআই নবিউল আরও বলেন, তারা তদন্ত করে জানতে পেরেছেন এই সমস্ত সহজ-সরল কিশোরদের ভারতে পাচার করার পর তাদের দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্তে মাদক পাচার, অস্ত্র পাচারসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজ করানো হয়।
তিনি বলেন, এটি একটি বিশাল সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক। অনেক বড় বড় রাঘব-বোয়াল এতে জড়িত রয়েছেন। আমরা কাউকেই ছাড় দেব না, সকলকেই আইনের আওতায় আনবো।
এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মো. মোসাব্বেরুল হক।