April 18, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

দক্ষিণখানে টক অফ দ্যা টাউন- কুখ্যাত জাপানি হান্নান

দক্ষিণখানে টক অফ দ্যা টাউন- কুখ্যাত জাপানি হান্নান

দক্ষিণখানে টক অফ দ্যা টাউন- কুখ্যাত জাপানি হান্নান

মোল্লা তানিয়া ইসলাম তমাঃ রাজধানীর দক্ষিণখানে আওয়ামী লীগের কথিত নেতা আমিনুল ইসলাম হান্নান ওরফে ‘জাপানি হান্নান । তিনি আব্দুল রশিদ (৪২) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে । আর এই কারনেই বর্তমানে দক্ষিণখানের টক অফ দ্যা টাউন এ পরিণত হয়েছে কুখ্যাত জাপানি হান্নান । বুধবার (২৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণখানের আইনুশবাগে এ হত্যার ঘটনাটি ঘটে । এরপরই সবার নজরে আসেন আমিনুল ইসলাম হান্নান ওরফে জাপানি হান্নান । দক্ষিণখানে তার বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে টাঙানো বড় একটি ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের প্রয়াত এমপি সাহারা খাতুনের পাশেই হান্নানের ছবি । সেই ব্যানারটির আশপাশে আরও অনেক পোস্টার । এখানে আসার পর যে কেউ বুঝবে, এটা আওয়ামী লীগের বড় কোনও নেতার বাড়ি । অথচ বাস্তবে আওয়ামী লীগে হান্নানের দলীয় কোনও পদপদবী নেই । খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হান্নান ওই এলাকার অনেক জায়গায় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে পোস্টার লাগানোয় এলাকাবাসীর কাছে তিনি ‘পোস্টার হান্নান’ নামেও পরিচিত । কয়েক বছর আগে তিনি একবার জাপানে গিয়েছিলেন । এরপর থেকে এলাকার লোকজন তাকে ‘জাপানি হান্নান’ বলেও জানে । সে আওয়ামী লীগের বড় নেতা ও একটি মানবাধিকার সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন থানায় গিয়ে হুমকি-ধমকি দিতেন বলে পুলিশ জানায় । বুধবার (২৪ মার্চ) যে ব্যক্তিকে হান্নান গুলি করে হত্যা করেন সেই ব্যক্তি রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন । এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হান্নানের সঙ্গে রশিদের বিরোধ ছিল । সর্বশেষ বালু রাখাকে কেন্দ্র করে রশিদের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন হান্নান । চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় এ হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে । নিহত রশিদ ওই এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে । হত্যাকা-ের পর হান্নানসহ ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ । দক্ষিণখান এলাকার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হান্নানের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলার হাইমচর এলাকায় । তিনি রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় চাঁদপুরের লোকদের নিয়ে একটি গ্রুপ গড়ে তুলেছেন । সেই গ্রুপের মাধ্যমেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেন তিনি । এ কারণে দক্ষিণখানে তার বাড়ির সামনের এলাকাকে তিনি ‘চাঁদনগর’ নামকরণ করেন । এমনকি এলাকার প্রতিটি বাসার নামফল ও দোকানের সাইনবোর্ডে আইনুশবাগের পরিবর্তে ‘চাঁদনগর’ লিখতে বাধ্য করতেন হান্নান । এলাকাবাসী জানায়, এলাকায় কেউ নতুন বাড়ি করতে চাইলেই হান্নানকে চাঁদা দিতে হতো । কেউ চাঁদা না দিলে বাড়ির নির্মাণকাজে বাধা এবং ভাড়াটিয়াদের বের করে দেয়া হতো । এমনকি গ্যাস-পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হতো । হান্নানের ওই বাড়ির আশপাশের একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বললে তারা সবাই হান্নানকে ‘ভূমিদস্যু’, ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘মাদক ব্যবসায়ী’ বলে আখ্যায়িত করেন। হান্নানের গুলিতে নিহত আব্দুর রশিদের চাচাতো ভাই মাহমুদুল হাসান সুজন জানিয়েছেন, হান্নান একজন ভূমিদস্যু । সে অন্যের ফাঁকা জমি দেখলেই দখল করতো । অনেকের কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি কিনে নিতো । কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল । এলাকায় কেউ তাকে চাঁদা না দিয়ে কিছু করতে পারতো না । এলাকাবাসী জানায়, এমনকি ওয়াজ মাহফিল বা যেকোনও সামাজিক অনুষ্ঠানেও চাঁদা নিতো হান্নান ।

আওয়ামী লীগে হান্নানের দলীয় কোনও পদ নেই। অথচ তিনি নিজেকে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দাবি করতেন । আর এই পরিচয়ে অবাধে চাঁদাবাজি চালিয়ে যেতেন । পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হান্নান নিজে ‘জাপান-বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস’ নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন তৈরি করেছেন । সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মো. রফিকুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে । হান্নান নিজে সেই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক । সংগঠনটির ওয়েবসাইটে হান্নান নিজেকে ‘মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন সৎ মনোভাবাপন্ন, মানবতার সেবায় নিবেদিত’ বলে দাবি করেন । অথচ এলাকায় যেকোনও দুর্ঘটনা বা মারামারির ঘটনা ঘটলে সেগুলো সমাধানের নামে উভয়পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিতো হান্নান । কথিত এই জাপানি হান্নান ‘ঢাকাস্থ বৃহত্তর কুমিল্লা সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করে নিজেকে সেই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান দাবি করেন । যদিও সেই প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পর্কে কারও কিছু জানা নেই। বুধবার (২৪ মার্চ) সকালে হত্যাকা-ের পরপরই এলাকাবাসী হান্নানের সেই বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং বাড়িতে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে ও হান্নানের ব্যবহৃত গাড়িটি পুড়িয়ে ফেলে । তখন ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেন হান্নান । ওই সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে হান্নানকে আত্মসমর্পণ করতে বলে পুলিশ । দীর্ঘক্ষণ পুলিশের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয় । এক পর্যায়ে নিজেই বাড়ি থেকে বের হয়ে পুলিশের হাতে ধরা দেন । দক্ষিণখান জোনের পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. হাফিজুর রহমান রিয়েল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জাপানি হান্নান, হান্নানের ছেলে ইকরামুল ইসলাম জয়, ভাই শফিকুল ইসলাম ইমরান, চাচাতো ভাই আল আমিন প্রবীণ, জুয়েল ইসলাম রিপন ও খোরশেদ আলমসহ মোট ৭জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হান্নানের বাড়ি থেকে এ হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত শটগানসহ দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ ।