September 18, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

‘দয়া করে গাড়ী ধীরে চালান, এই জায়গায় আমি আমার মাকে হারিয়েছি! দুর্ঘটনায় মাকে হারিয়ে ছেলে আসিফ আহমেদ পাপ্পু আহ্বান সম্বলিত ব্যানারটি গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছেন

‘দয়া করে গাড়ী ধীরে চালান, এই জায়গায় আমি আমার মাকে হারিয়েছি! দুর্ঘটনায় মাকে হারিয়ে ছেলে আসিফ আহমেদ পাপ্পু আহ্বান সম্বলিত ব্যানারটি গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছেন

দুর্ঘটনায় মাকে হারিয়ে ছেলে আসিফ আহমেদ পাপ্পু আহ্বান সম্বলিত ব্যানারটি গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছেন

ঝিনাইদহ-
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ-যশোর মহাসড়কের লাউদিয়া নামক স্থানে রাস্তার পাশে একটি বড় মেহগনি গাছের সাথে কাঠের একটি ফ্রেম ব্যানার লাগানো রয়েছে। সেখানে লাল আর সাদা রং দিয়ে বড় বড় অক্ষরে লেখা, ‘দয়া করে গাড়ী ধীরে চালান, এই জায়গায় আমি আমার মাকে হারিয়েছি। (আসিফ আহমেদ পাপ্পু)।’ দুর্ঘটনায় মাকে হারিয়ে ছেলে আসিফ আহমেদ পাপ্পু আহ্বান সম্বলিত ব্যানারটি গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছেন কোন এক সময়ে। রাত বা দিন, ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় গাছে এ ব্যানারটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পথচারিরা দাঁড়িয়ে দেখছে ও পড়ছে। ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তিন চাকার একটি যান (মাহেন্দ্র) যাত্রী নিয়ে কালীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। লাউদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পেছন থেকে আসা বালিবোঝাই একটি ট্রাক মাহেন্দ্রটিকে ধাক্কা দিয়ে পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এ সংঘর্ষে মাহেন্দ্রের ৩ নারী যাত্রী নিহত হন। সে সময় নিহতদের মধ্যে পলি খাতুন নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অপর দুই নারী অজ্ঞাত থেকে যান। ওই দুর্ঘটনায় আহত হন আরও ৯ যাত্রী। সেখানেই মারা যান তিন যাত্রী। তাদের মধ্যে পরিচয় মেলে গড়িয়ালা গ্রামের আলাউদ্দিনের স্ত্রী পলি খাতুনের। ‘শুনেছি পলির বড় ছেলে ঢাকায় থাকে। ছোট ছেলে নানা বাড়িতে পড়ালেখা করছে। আর তাদের বাবা কাজের জন্য বাইরে বাইরে থাকে। এ সড়কে চলাচল করা সাকিব নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ব্যবসার কাজে আমি সপ্তাহে তিন দিন কালীগঞ্জে যাই এ সড়ক দিয়ে। তবে বেশ কিছু দিন ধরে চোখে পড়ছে এ ব্যানারটি। ব্যানারটি দেখে আমারও মন খারাপ হয়েছে। আমিও এখন এ পথ দিয়ে সতর্কভাবে বাইক চালিয়ে যাই।’ ওই এলাকার মেহেদী নামে এ ব্যক্তি বলেন, ‘ছেলেটি মা হারিয়েছে। সে বুঝতে পারছে মা হারোনোর কী যন্ত্রণা। তাই তো কোনো একসময় এখানে সে ব্যানারটি ঝুলিয়ে দিয়েছে। পাপ্পুর আশা, আর কাউকে যাতে তার মতো কষ্ট পেতে না হয়। ব্যানারটি দেখে চালক-পথচারীরা সচেতন হবে। এ কারণে হয়তো ছেলেটি এটি লিখে ঝুলিয়ে দিয়েছে।