December 2, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

দ্বীনি আলো ছড়াচ্ছে জামতলা মাদরাসা!

দ্বীনি আলো ছড়াচ্ছে জামতলা মাদরাসা!

দ্বীনি আলো ছড়াচ্ছে জামতলা মাদরাসা!

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ
উত্তরাঞ্চলে দ্বীনের (ইসলামী) আলো ছড়াচ্ছে পীরগঞ্জের জামতলা মদিনাতুল উলুম মাদরাসাটি। প্রায় ২ যুগের মাদরাসাটি একটি শক্ত অবকাঠামোর দাঁড়িয়েছে। ১৯৯৪ সালে একটি ছোট্ট ঘর আর ৪ জন শিক্ষক দিয়ে মাদরাসাটির যাত্রা। এখন বিশাল বিশাল আবাসিক বিল্ডিং, মসজিদ, অসংখ্য শিক্ষক-কর্মচারী আর হাজারখানেক ছাত্র নিয়ে পাঠদান চলছে কওমী লাইনের এ মাদরাসায়। প্রতিদিনই শত শত অভিভাবক তাদের সন্তানদের খোঁজ খবর নিতে আসছেন। মাদরাসাটিতে বেসরকারী অনুদানেই চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে।

মামদারাসার মোহতামিম মাওলানা রেজাউল করিমের সুত্রে জানা গেছে, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের উপর পীরগঞ্জ উপজেলার জামতলা কলাহাট। ১৯৯৪ সালে উপজেলা সদর লাগোয়া জামতলা হাটের দেড়শ গজ পুর্বে মহাসড়ক সংলগ্ন জামতলা মদীনাতুল উলুম মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় মোকারত হোসেন নামের এক ব্যক্তি ৫ শতক জমি দান করেন। সেবারই সাবেক সাংসদ ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মন্ডল, প্রয়াত সহকারী অধ্যাপক খালেকুজ্জামানসহ কয়েকজন ব্যক্তি উদ্যোগ নিয়ে একটি টীনের চালাঘর নির্মান করেন। মাদরাসার প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক মোহতামিম মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, হাফেজ রেজাউল করিম ও আবু বক্কর সিদ্দিক ১২/১৩ জন ছাত্র নিয়ে পাঠদান শুরু করেন।

এখন মাদরাসাটির প্রায় সাড়ে ৩ একর জমি। প্রায় ১ হাজার ছেলে শিক্ষার্থী সবাই আবাসিক হলে থাকেন। আর শিক্ষক সংখ্যা ৩২ জন। বর্তমানে মাদরাসাটিতে মক্তব বিভাগ, কিতাব বিভাগ, নাজেরা বিভাগ এবং হেফজ বিভাগে পড়ালেখা চলছে। এর শিক্ষকদের মাসিক বেতন ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা এবং শিক্ষার্থীদের খাবার খরচসহ মাসে প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়। আয় হিসেবে শিক্ষার্থীদের বেতন থেকে ৪/৫ লাখ টাকা, বছরে দুই ঈদে চামড়া, যাকাত ও ফেতরা থেকে ১০ লাখ টাকা এবং প্রায় ১ হাজার মন ধান সংগ্রহ হয়ে থাকে। এ ছাড়াও কয়েকজন দানশীল ব্যক্তির সহযোগিতায় মাদরাসাটি চলছে।

সরেজমিনে মাদরাসায় গিয়ে দেখা গেছে, ৪ তলা ভিত্তি বিশিষ্ট ৫’ফুট দৈর্ঘ্যের ৩ তলা ভবন দুটি এবং ৪ তলা বিশিষ্ট আধুনিক নির্মানশৈলীতে নির্মিত একতলা মসজিদ হয়েছে। মসজিদটির প্রতি তলায় ১ হাজার ২’শ জন করে মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

মাদরাসায় বোখারী শরীফ পাঠদানের জন্য দাওরা হাদিস বিভাগ, ফতোয়া বিভাগ, তাফসির বিভাগ এবং শিক্ষার্থী ও জনসাধারনের জন্য হাসপাতাল নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

মোহতামিম মাওলানা রেজাউল করিম বলেন,​ প্রতিষ্ঠান টি সম্পুর্ন বেসরকারি দান, সদকায় চলে। এ পর্যন্ত ৮ শতাধিক কোরআনে হাফেজ হয়েছেন। প্রতি বছরই ৩৫/৪০ জন হাফেজিয়া সম্পন্ন করেন। তিনি আরও বলেন, এই মাদরাসার অনেক ছাত্র দেশ-বিদেশে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। আমরা সরকারের সাথে সম্পর্ক রেখে মাদরাসায় দ্বীনি শিক্ষা প্রদান করছি। পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি পীরগঞ্জ তথা উত্তরাঞ্চলের ধর্মীয় সম্পদ। তাই পৌরসভার পক্ষ থেকে মাদরাসায় যাতায়াতের জন্য একটি কংক্রিটের রাস্তা নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।