September 20, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

পিঠা বিক্রিতেই সংসার চলে শাহনুরীর!

পিঠা বিক্রিতেই সংসার চলে শাহনুরীর!

পিঠা বিক্রিতেই সংসার চলে শাহনুরীর!

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ
প্রায় সারা বছরই পিঠা বিক্রি করে সংসার চলে বিধবা শাহনুরী বেগমের (৪২)। ৩ ছেলে-মেয়ে রেখে ১৫ বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। বসতভিটে না থাকায় রাস্তার ধারে খাস জমিতে একটি ঘরে গাদাগাদি করে তার বসবাস। উপজেলাটি শতভাগ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচীর (বিধবা, বয়ষ্ক, স্বামী পরিত্যাক্তা, প্রতিবন্ধী ভাতা) আওতায় এলেও শাহনুরীর ভাগ্যে বিধবার ভাতা জোটেনি। ফলে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি। পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিলনপুর গ্রামে তার ঝুপড়ী ঘর।
জানা গেছে, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রোজবাহাপুর গ্রামের হবিবর রহমান প্রায় ২৫ বছর আগে পার্শ্ববতী মিলনপুর গ্রামের শাহনুরী বেগম কে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালই চলছিল। বিয়ের বছর দশেক পরে স্বামী হবিবর রহমান ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে মারা যান। স্বামীর ম”ত্যুর পর শাহনুরীর সংসারে অমানিশার অন্ধকার নেমে আসে। ফলে শাহনুরী তার সন্তানদের নিয়ে তার দরিদ্র বাবার বাড়ী মিলনপুর গ্রামে চলে যান। বাবার বাড়ীতে ঘর না থাকায় তিনি বালুয়াহাট থেকে লালদীঘিগামী রাস্তার ধারে মিলনপুর নামক¯’ানে একটি ঘর করে বসবাস করছেন। তার মত আরও বেশ কয়েকটি পরিবার রাস্তাটির ধারে ঘর করে আছেন।
শাহনুরী তার সংসার চালাতে বালুয়াহাট মোড়ে আখিরা নদীর উপর নির্মিত ‘কফিল উদ্দিন ব্রীজের’ পাশে একটি দোকানঘরের বারান্দায় চিতাই পিঠা বিক্রি করছেন। এছাড়াও তিনি তেল পিঠা, ভাপা পিঠা, রুটিও বিক্রি করেন। তার দোকানের পিঠা খেতে অনেকেই আসেন।
পিঠা বিক্রি করেই শাহনুরী তার ১ ছেলেকে পীরগঞ্জ মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ ও মেয়েকে বালুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেনীতে পড়া”েছন। বড় ছেলে বিয়ে করে সংসার আলাদা করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রোববার রাতে শাহনুরীর দোকানে বেশ কয়েকজন পিঠার ক্রেতা বসে, দাঁড়িয়ে আছেন। কেউবা বেঞ্চে বসেই পিঠা খা”েছন। একজন ক্রেতা মুখে গরম পিঠার ভাব উড়িয়ে মুখটা ঠান্ডা করতে করতেই বলেন, আহা কি সুন্দর সরিষা বাটার ঝাল। বেশ মজা লাগছে। এ সময় সেখানে উপ¯ি’ত অন্যরাও বলছেন, আসলেই সরিষা বাটা, মরিচ বাটা, ঝোলা গুড় দিয়ে গরম চিতাই পিঠা খেতে ভাল লাগে। শাহনুরী বলেন, অনেক মানুষ পিঠা খেতে আসে। আমি প্রতিদিন কমপক্ষে ৫’শ আর উর্ধ্বে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করি। আর এ ব্যবসার লাভ দিয়েই সংসারের খরচ চলে আমার। ছেলে-মেয়েকে পড়ালেখা করা”িছ। কিš’ বিধবাভাতা বা সরকারী কোন সাহায্য পাই না। টাকার অভাবেই ঘাটার বাতাত (রাস্তার ধারে) একটা ঘরোত ৩ জন থাকি। সরকারী একটা ঘর পাইলে ভাল হতো। শাহনুরীর মেয়ে হাবিবা খাতুন জানায়, শীত, ব”ষ্টি, গরমকালে মা পিঠা বিক্রি করে। আর আমরা সেই ব্যবসার লাভের টাকায় খা”িছ, পড়ছি। জানি না এভাবে আমাদেরকে কতদিন কষ্ট করতে হবে!