October 21, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

পিয়নের পকেট যখন সরকারী কোষাগার

পিয়নের পকেট যখন সরকারী কোষাগার

পিয়নের পকেট যখন সরকারী কোষাগার

কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ হাট বাজারের সরকারী রাজস্ব আদায়ের টাকা জমা হয়নি সরকারী কোষাগারে। এমনকি কোন হাটে কত টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে তাও জানেনা দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি তহশিলদারগন। 
এমন অনিয়মের ঘঁটনা ঘটেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ঐহিত্যবাহী গাড়াগ্রাম এবং কিশোরগঞ্জ হাটে। ফলে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। 
উপজেলা নিবার্হী অফিসারের কাযার্লয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে মোট ১৩ টি হাটবাজার রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হাট বাজার হলো গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের গাড়াগ্রাম হাট এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্যে কিশোরগঞ্জ হাট। গত ২৮ -০২-২০২১ ইং তারিখে (বাংলা ১৪২৮ সনের ) ইজারা প্রদানের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি  প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন।  দরপত্র  অনুযায়ী ১১ টি হাটবাজার ২ লাখ ৬০ হাজার ১ শ টাকার বিনিময়ে ইজারা প্রদান করা হয়। 
কিন্তু কিশোরগঞ্জ সদর এবং গাড়াগ্রাম হাট ইজারার মাধ্যমে না দিয়ে স্ব স্ব ইউনিয়ন ভূমি কর্মকতার্দের খাস খাজনা আদায়ের নির্দেশ দেন উপজেলা নিবার্হী অফিসার রোকসানা বেগম। দরপত্রে গাড়াগ্রাম হাটের ইজারা মূল্য ছিল ২০ লাখ ১৪ হাজার ২৫০ এবং কিশোরগঞ্জ সদর হাটের ইজারা মূল্য ছিল ৩১ লাখ ২২ হাজার ৩ শত ৩৯ টাকা। 
গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিক বলেন, গাড়াগ্রাম হাটটি কিশোরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম হাট। প্রতিবছর হাটটির ইজারা বাবদ সরকার ২০ লাখের উপরে রাজস্ব পেয়ে থাকে কিন্তু চলতি বছর একটি সিন্ডিকেট অনিয়মের মাধ্যমে হাটের রাজস্ব আদায় করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করছে। এ বিষয়ে আমি গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এমদাদুল হকের  কাছে হাটের রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানেনা বলে জানান। 
আমি আরো জেনেছি হাটটি থেকে প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয় কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে সরকারী রাজস্ব জমা হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আমি এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলব। 
গাড়াগ্রাম হাটের রাজস্ব আদায় বাবদ কত টাকা আদায় হয়েছে এবং রাজস্ব আদায়ের টাকা কার কাছে জমা রয়েছে প্রশ্ন করলে ওই ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, কত টাকা আদায় হয়েছে তা আমি জানিনা তবে রাজস্ব আদায়ের টাকা সহকারী কমিশনার ভূমি রাকিবুজ্জামান স্যারের কাছে জমা রয়েছে। 
গাড়াগ্রাম হাটের রাজস্ব বাবদ সরকারী কোষাগারে কত টাকা জমা হয়েছে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রাকিবুজ্জামান বলেন, সরকারী কোষাগারে গাড়াগ্রাম ও কিশোরগঞ্জ হাটের রাজস্ব আদায়ের টাকা এখোনো জমা হয়নি। আদায়কৃত রাজস্বের টাকা স্ব স্ব ইউনিয়ন তহশিলদারদের কাছে জমা রয়েছে । কত টাকা জমা রয়েছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তহশিলদারদের কাছ থেকে জেনে আপনাকে জানাবো।
রাজস্বের টাকা কার কাছে রয়েছে সুনির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের তহশিলদার অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে আমার অফিসের পিয়ন দায়িত্ব পালন করেছে । টাকা তার কাছে জমা রয়েছে।  
কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বাবু বলেন, যেভাবে গাড়াগ্রাম এবং কিশোরগঞ্জ হাটের ইজারা প্রদান করা হচ্ছে সেটি বিধি সম্নত নয়। আমি শুনেছি কিশোরগঞ্জ হাটটি সপ্তাহে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকার ডাক হয়েছিল। সেখানে নাকি একমাসে ইজারা দেওয়া হয়েছে ১ লাক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। আমার মনে হয় হাটের ইজারার ক্ষেত্রে বানরের পিঠা ভাগ করা হচ্ছে। 
কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা আফতাব আলম কিশোরগঞ্জ হাট বাজার ইজারার বিষয়ে কোন মন্তব্য না করে বলেন, আপনি এ বিষয়ে হাট বাজার কমিটির সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুল ইসলাম আনিছের সাথে কথা  বলেন। তবে তিনি বলেন, ১লা বৈশাখ থেকে প্রথম একমাসের ইজারা ছিল ৬৮ হাজার, পরের এক সপ্তাহে ৫২ হাজার, তাঁর পরের সপ্তাহে ৫৪ হাজার, তাঁর পরের সপ্তাহে ১ লাখ ৫ হাজার, এবং চলতি মাসে ১লাখ ৪৫ হাজার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন  জানান, কিশোরগঞ্জ হাটের চলতি মাসের ইজারা বাবদ ডাক হয়েছে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। কিন্তু প্রচার করা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বাকিটা সিন্ডিকেটের পকেটে। 
কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং কিশোরগঞ্জ হাট বাজার কমিটির সভাপতি আনিছুল ইসলাম আনিছের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি আমার ইউনিয়নের তহশিলদারকে সাথে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে হাটের ইজারা দিয়েছি। এক সপ্তাহে হাটের ইজারা হল এক লাখ ৫ হাজার সেখানে একমাসে ১ লাক্ষ ৪৫ হাজার কিভাবে ইজারা হল প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ওই সপ্তাহে যে ডেকেছিল সে সঠিকভাবে টাকা দেয়নি। সঠিকভাবে টাকা না দিলে কিভাবে ইজারা দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তুমি সরাসরি এসে কথা বল। 
একলাখ ৫ হাজার টাকায় হাট ইজারা নেওয়া কিশোরগঞ্জ হাটের ইজারার শফি মিয়া বলেন, আমার কাছে পুরোটাকা বুঝে নিয়ে তাঁরপর কালেক শনের অনুমতি দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। 
উপজেলা নিবার্হী অফিসার রোকসানা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী বাংলা ১৪২৮ সনের হাট বাজার ইজারার জন্য পত্রিকায় বিঞ্জপ্তি প্রকাশ করা । বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ১৫ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ওই দুই হাটের জন্য কেউ দরপত্র না কেনায় নিয়ম অনুযায়ী হাট দুটি খাস খাজনা আদায়ের জন্য ইউনিয়ন ভূমি কর্মকতার্দের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। গত তিনমাসে হাটের রাজস্ব বাবদ কত টাকা আদায় হয়েছে এবং আদায়কৃত টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হয়নি। তিনমাসের আদায়কৃত টাকা একসঙ্গে সরকারী কোষাগারে জমা হবে।  
উল্লেখ্য যে, ১৪২৬ খ্রিস্টাব্দে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯ ইউনিয়নের ১৩টি হাট বাজার ইজারা বাবদ রাজস্ব  আয় হয় ২১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮৯১ টাকা।
১৪২৭ খ্রিস্টাব্দে রাজস্ব আয় হয় ৫১ লাখ ২৩ হাজার ৪৯ টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিশোরগঞ্জের এক ব্যবসায়ী জানান, গত সপ্তাহে কিশোরগঞ্জ হাটের নিলাম হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী ৩৬৫ দিনে ৫২ সপ্তাহে ৫২ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আসার কথা । সাথে ছবি আছে হাট বাজারের সরকারী রাজস্ব আদায়ের টাকা জমা হয়নি সরকারী কোষাগারে। এমনকি কোন হাটে কত টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে তাও জানেনা।