December 5, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

পীরগঞ্জের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কন্ঠ শ্রমিক আহাদ আলীর দুর্দিন কাটছে না !

পীরগঞ্জের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কন্ঠ শ্রমিক আহাদ আলীর দুর্দিন কাটছে না !

পীরগঞ্জের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কন্ঠ শ্রমিক আহাদ আলীর দুর্দিন কাটছে না !

পীরগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী প্রচারম্যান হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত আহাদ আলীর এখন বড়ই দুর্দিন। এক সময় নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে হাট-বাজার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কর্মসুচি মাইক যোগে সিংহের কন্ঠের মতো প্রচার করতো বকলম আহাদ আলী। নিজের নাম পর্যন্ত সে লিখতে পারে না। রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন লালদিঘী বাজারে আহাদ আলীর বাড়ি। ওই বাজারে স্থানীয় মাখন মিয়ার একটি মাইক ঘর ছিল। শিশুকাল থেকেই ওই মাইকের দোকানেই ওঠাবসার ফাঁকে ফাঁকে যে খানে যা শোনে তাই অন্তরে গেথে রাখে আহাদ আলী। যে কোন প্রচারের জন্য দুই একবার বলে দিলে তার নিজের কন্ঠদিয়ে প্রচার করে। মানুষ তার প্রচার শুনে মুগ্ধ হয়ে প্রয়োজেন সময় তাকে ডেকে নিয়ে কাজে লাগায়। সুযোগ পেয়ে সেও বিরামহীনভাবে কাজ করে যায়। ১৯৯০ সালে সে কাজ শুরু করে। দিনের পর দিন তার চাহিদা বাড়তে থাকে। এক সময় সুদিন ফিরে আসে তার জীবনে। এমন একব সময় ছিল যখন আহাদ আলীর বেঁধে দেয়া দিনতারিখ অনুযায়ী প্রচার চলতো। কিন্তু বিধি বাম। এক সময় ম্যামোরীকার্ড সিস্টেম চালু হলে আহাদের ভাগ্যে নেমে আসে দুর্দিন। তাকে আর কোন কাজে প্রয়োজন হয় না। লালদিঘী ফতেপুর গ্রামের দরিদ্র নবাব আলীর ঘরে ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করে আহাদ আলী। আহাদ আলী আক্ষেপ করে বলে-এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ সব ধারণের প্রচার রেকর্ডিং এর মাধ্যমে হয়। এ জন্য বাজারে আমার প্রচারের চাহিদা নেই বললেই চলে। চার সদস্য নিয়ে আমার পরিবার সামান্য ভাতার টাকায় অতিকষ্টে দিন চলে। বাড়িতে বসে থাকতে পারে না বলেই সে উপজেলায় এসে এখানে সেখানে শুয়ে বসে অলস সময কাটায়। পরিচিত কেউ দেখে ৫/১০ টাকা দিলে চা খাওয়া হয়, নয়তো তাও সম্ভব হয় না। আর ওই সামান্য টাকা দিয়েই চার সংসার চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। উপজেলা থেকে কোন কিছু সাহায্য সহযোগিতা পেলে এক সময় হয়তো তার এই কষ্ট কমবে বলে সে জানায়।