November 29, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

পীরগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি ক‌য়েক'শ একর জমির ফসল বিনষ্ট হার্ট এট্যার্কে কৃষকের মৃত্যু

পীরগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি ক‌য়েক'শ একর জমির ফসল বিনষ্ট হার্ট এট্যার্কে কৃষকের মৃত্যু

পীরগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি ক‌য়েক’শ একর জমির ফসল বিনষ্ট হার্ট এট্যার্কে কৃষকের মৃত্যু

পীরগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের পীরগঞ্জে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক‌য়েক’শ একর জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষেত দেখে হার্ট এট্যার্ক করে শহিদুল ইসলাম লালু নামে ১ কৃষকের মৃত্যে হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত কৃষক উপজেলার বড়দরগাহ্ ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামের মৃত. আব্দুল খালেক মিয়ার ছেলে শহিদুল ইসলাম লালু (৪৫)। এলাকাবাসী জানায়, নিহত লালু মিয়ার রোপনকৃত প্রায় ৮ শতাধিক কলাসহ কলার গাছ ভেঙ্গে গেছে ওই ঝড়ে। এছাড়াও ২৫ শতাংশ জমির পটল ও প্রায় ২ একর জমির ধান শিলার আঘাতে মাটিতে ঝরে পড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে তিনি এসব ফসলের ক্ষেত দেখে হৃদরোগে আক্রান্ত হন পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেবার পথে তিনি মারা যান। এ দিকে ঝড়ের কারনে ওই গ্রামগুলোতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় আছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গতকাল শুক্রবার শানেরহাট ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম মন্ডল (৫৫) শিলার আঘাতে ঝরে পড়া ধানের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন গরুর খাবার জন্য। একই গ্রামের মৃত. আঃ রহমানের ছেলে কৃষক আঃ গণী মিয়া (৭০) বলেন- আমার জীবনে এত বড়বড় শিলাবৃষ্টি আর দেখি নাই। এই শিলো আঘাতে আমার প্রায় ২ একর জমির ধান ঝরে গেছে মাটিতে আমরা এবার কি খেয়ে বাঁচবো আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না। এ দিকে মেষ্টা গ্রামের মৃত. ছাত্তার মিয়ার ছেলে বর্গাচাষী হাবিবুর (৫২) জানান, মানুষের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে সাড়ে ৩ একর জমিতে ধানের আবাদ করেছি ধানের ফলনও ছিলো আশানুরুপ কিন্ত ভাগ্য খারাপ সেই ফসল আর ঘরে তুলতে পারলাম না। এখন চিন্তায় আছি কিভাবে সার ও কীটানাশকের দোকানের বাকী পরিশোধ করবো। একই কথা বলেন উক্ত গ্রামের কৃষক শরিফুল সর্দার (৩০)। বড়দরগাহ্ ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামের কৃষক জুয়েল (৩৫) জানান- আমার ধান, কুমড়া, পটলসহ সব ফসল শিলা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য,গত বৃহস্পতিবার উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে উঠতি বোরো ফসলসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ঝড়ে বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বড়দরগাহ্, শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের ওপর দিয়ে ওই ঝড় ও শিলাবৃষ্টি বয়ে যায়। এতে ক‌রে শতশত একর জমির বোরোধান, পাট, কচু, পটলসহ সবজীর ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়।  উল্লেখিত গ্রাম গুলোর ৪ শতাধিক ঘরের টিনের চালায় বড় বড় ফুটা হয়ে ঘরে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করছে। রা‌তের বেলা ঘর থে‌কে আকা‌শের চাঁদ দেখা যায়। বসত বাড়ির টিনের চালায় শিলার আঘাতে বড় আকারের ফুটো হওয়াতে ঘরগুলোতে বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। সেসাথে শিলাবৃষ্টি আর ঝড়ের সময় প্রবল বাতাসে উঠতি ফসলসমূহ মাটির সাথে শুয়ে পড়েছে। এ দৃশ্য দেখে সংশ্লিষ্ট কৃষকরা অনেকেই করে কান্নাকাটি করছে। এব্যাপারে বড়দরগাহ্ ইউপি চেয়ারম্যান ্বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক বলেন- আমার ইউনিয়নের গত কয়েকদিন পূর্বেও শিলাবৃষ্টি হয়েছিলো তাতে এতো ক্ষতি হয় নাই। কিন্ত গত বৃহস্পতিবারের কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টির আঘাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং আমার ইউনিয়নের একজন বর্গাচাষী তার ফসলের ক্ষেত দেখে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।