October 28, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

পীরগঞ্জে গরীবের জ্বালানী গোবরের লাকড়ি

পীরগঞ্জে গরীবের জ্বালানী গোবরের লাকড়ি

পীরগঞ্জে গরীবের জ্বালানী গোবরের লাকড়ি

বিশেষ প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ (রংপুর) : গবাদী পশুর গোবর দিয়ে তৈরী এক প্রকারের জ্বালানীর নাম লাকড়ি। এলাকা ভেদে এ লাকড়িকে গরীবের জ্বালানীও বলা হয়। একটা সময় পাড়া গ্রামে বনজঙ্গলের অভাব ছিলনা। আর ওইসব বন-জঙ্গল থেকে সংগৃহীত ডাল পালা বা খড়ি সংগ্রহ করে হাট-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা চালাতো দরিদ্র জনগোষ্ঠির অনেকেই। সেখান থেকে বিভিন্ন গাছের শুকনো ডাল পালা, পাতা সংগ্রহ করে নিম্ন আয়ভুক্ত পরিবারের গৃহবধুরা রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহার করতো। এ সব সংগ্রহে পরিবারের ছোট-ছোট শিশুরা ছাড়াও কর্তারাও সহায়তা করতো। বন জঙ্গল না থাকায় এখন আর সে সুযোগ নেই । দিনে-দিনে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামীণ বন-জঙ্গলগুলো কেটে কৃষি জমিতে পরিনত করার পাশাপাশি জনবসতি গড়ে ওঠায় ধীরে-ধীরে বন-জঙ্গল উজাড় হওয়ায় বর্নিত পরিবারগুলো পারিবারিক জ্বালানী সংকটে পড়ে । ফলে সময় প্রয়োজনে গ্রামীণ জনপদের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের গৃহ বধূরাও নিজেকে বদলে নিতে শুরু করে । তারাও বিকল্প হিসেবে গবাদী পশুর গোবরকে ভিন্ন-ভিন্ন রুপে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। গোবরের এই ভিন্ন রুপ দেয়াকে এলাকা ভেদে লাকড়ী, ঘুটি,গরিবের খড়ি বলা হয়ে থাকে। কেউ-কেউ কাঁচা গোবর রোদে শুকিয়ে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে থাকে । এই শুকনো গোবরকে বলা হয় ঘষি । অতিদরিদ্র পরিবারের লোকজন যাদের গবাদী পশু নেই, তারা রাস্তা ও মাট- ঘাট থেকে গোবর কুড়িয়ে বর্নিত লাকড়ি ও ঘষি তৈরী করে বাড়িতে জ্বালানীর কাজে ব্যবহার ও বিক্রি করে বাড়তি রোজগার করে থাকেন। গ্যাস-বিদ্যুৎ, গাছের খড়ি অপেক্ষা কম খরচে সাস্রয়ী জ্বালানী হিসেবে গবাদী পশুর গোবরের তৈরী লাকড়ি ও ঘষি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার দরিদ্র গরীব মানুষের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হওয়ায় এ জ্বালানীকে গরীবের জ্বালানীও বলা হয়। পীরগঞ্জের প্রত্যন্ত জনপদ চৈত্রকোল ইউপির ভাদুরাঘাট ও শানেরহাট ইউনিয়নের মেষ্টা গ্রামে বেশ ক’জন গৃহবধূকে রাস্তা সংলগ্ন বাড়ির খুলিতে গোবরের ওই জ্বালানী তৈরী করতে দেখা যায়। এ সময় কথা হয় লাকড়ি তৈরীতে ব্যস্ত থাকা গৃহবধু শান্তী রানী,সাধনা রানী ও গোলাপী রানীর সাথে। তাঁরা জানান, বাড়িতে কারেন্ট আছে , রান্না করলে বিল বেশী আসে, গ্যাস ও খড়ি কেনার মত সামর্থ আমাদের নেই। তাই আমরা গোবর দিয়ে লাকড়ি বানাই। আশ্বিন মাস থেকে জৈষ্ঠ্য মাস পর্যন্ত লাকড়ি বানা (তৈরী) যায়। বর্ষার সময় বানানো হয় না। লাকড়ি তৈরীতে ১ থেকে দেড় হাত লম্বা পাট কাঠি,বাঁশের কঞ্চি, বাতি বা অন্যান্য শলা জাতীয় বস্তু এবং সামান্য খড়ের কুচি বা গাছের শুকনো পাতা ও কাঁচা গোবর লাগে। ওইসব কাঠিতে পরিমান মত গোবর লাগিয়ে রোদে শুকাতে হয়। শুকাতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ দিন। শুকানোর পর রোজদিন রান্নার কাজে ব্যবহারের পাশাপশি বর্ষাকালের জন্য মজুদ করে রাখা হয়। ফলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে জ্বালানী কিনতে হয় না। গৃহবধূ গোলাপী রানী বলেন, বাড়িতে সাংসারিক কাজের ফাকে সকাল-বিকেলে লাকড়ি বানানোয় জ্বালানী কিনতে হয়না । ফলে পরিবারে জ্বালানীর টাকাটা সাশ্রয় হয়। একই গ্রামের নারায়ন চন্দ্র জানান, আমাদের গ্রামে অর্ধশতাধিক পরিবারের সদস্য গোবরের লাকড়ি তৈরী করে। এই কাজটি সাধারন্ত গৃহবধুরাই বেশী করে থাকেন। পীরগঞ্জ উপজেলা সদরের প্রজাপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে গোবরের লাকড়ি তৈরী করা হয় ।