September 22, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

বিরামপুরে গভীর নলকুপ সমিতির নিকট হস্তান্তরের দাবিতে মানববন্ধন

বিরামপুরে গভীর নলকুপ সমিতির নিকট হস্তান্তরের দাবিতে মানববন্ধন

বিরামপুরে গভীর নলকুপ সমিতির নিকট হস্তান্তরের দাবিতে মানববন্ধন

বিরামপুর,দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের প্রয়াগপুর কৃষক সমবায় সমিতির একটি গভীর নলকুল স্থানীয় এক প্রভাবশালী দীর্ঘদিন থেকে জবর দখল করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত ও ইচ্ছেমতো আবাদী জমিতে সেচের পানির দাম নেবার অভিযোগ উঠেছে। সমিতির সদস্যরা ঐ গভীর নলকুপ সমিতির নিকট হস্তান্তর ও ফেরত পাবার দাবিতে মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার রতনপুর বাজারে মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে প্রয়াগপুর কৃষক সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি আব্দুল গফুর ও ম্যানেজার তমেজ উদ্দিন মন্ডল সহ অন্যান্য সদস্যরা জানান, বিরামপুর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের প্রয়াগপুর মৌজার ১১২৭ নং দাগে বিএডিসি (জি-৫১) একটি গভীর নলকুল স্থাপন করে। প্রয়াগপুর কৃষক সমবায় সমিতি ঐ গভীর নলকুপটি পরিচালনা করে আসছিল। এতে কৃষকরা স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধা পেয়ে সুষ্ঠুভাবে চাষাবাদ করে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি ঐ গভীর নলকুপটি রতনপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের কমর উদ্দিনের পুত্র আবুল কাশেম নিজের বলে দাবি করে আসছে। তিনি সমিতির সদস্যদের কোন কথার তোয়াক্কা না করে নির্ধারিত মূল্যের থেকেও উচ্চ মূল্যে সেচের পানির দাম নিয়ে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্থ করে আসছে। এতে কৃষকরা চাষাবাদ বিমূখ হয়ে পড়ছে এবং ঐ গভীর নলকুপের আওতাধীন এলাকায় অনেক জমি অনাবাদী পড়ে থাকছে। এতে স্থানীয় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবার পাশাপাশি কৃষি জমি অনাবাদী থাকায় স্থানীয়ভাবে খাদ্যশস্য আবাদ কম হয়ে আসছে। সমিতির বর্তমান সভাপতি ও ম্যানেজার সহ অন্যান্য সদস্যরা গভীর নলকুপটি সমিতির নিকট ফেরত দেওয়ার জন্য উক্ত আবুল কাশেমকে বহুবার বলা সত্বেও তিনি কোন কর্ণপাত করছেন না। তারা আরো জানান, গভীর নলকুপটি ফেরত পাওয়ার দাবিতে ইতিপূর্বে সমিতির সদস্যরা বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল কুমার সরকার বিষয়টি সমাধানের জন্য বিএডিসি দিনাজপুর রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর অফিসিয়ালি পত্র প্রেরণ করেন বলেও বক্তারা জানান।
কিন্তু দীর্ঘদিনেও বিষয়টির কোন সুরাহা না হওয়ায় ঐ গভীর নলকুপ নিয়ে দখলদারের সাথে কৃষক সমবায় সমিতির সদস্যদের বিরোধ চরমে উঠেছে। আগামী বোরো মৌসুমের আগেই বিষয়টি নিস্পত্তি না হলে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করবে বলে মানববন্ধনে সমিতির সদস্যরা জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল কুমার সরকার জানান, আবেদন পাবার পর বিষয়টি সমাধানের জন্য বিএডিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট অফিসিয়ালি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরবর্তীতে উক্ত সমিতির সদস্যরা বা বিএডিসি থেকে ইউএনও অফিসে কেউ আর যোগাযোগ করেনি। সমিতির সদস্যরা যোগাযোগ করলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হব বলে ইউএনও জানান।
বিএডিসির ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্পের বিরামপুর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম জানান, সরকারি নিয়ম মেনে বিএডিসি থেকে আমি গভীর নলকূপটি কিনে নিয়েছি। প্রয়াগপুর কৃষক সমবায় সমিতির সদস্যদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন।