January 24, 2022

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

মধ্যপাড়ার পাইকপাড়া গ্রামে স্ত্রী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের পর পিবিআই এর তদন্ত শুরু

মধ্যপাড়ার পাইকপাড়া গ্রামে স্ত্রী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের পর পিবিআই এর তদন্ত শুরু

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির রেল সংযোগের নির্মাণ কাজে ৪শ কোটি টাকা ব্যয় হলেও এখন দুটি প্রকল্পের রেলপথ পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে॥


মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দেশের উত্তাঞ্চলের দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির রেল সংযোগের নির্মাণ কাজে ৪শকোটি টাকা ব্যয় হলেও এখন বর্তমানে রেলপথ ব্যবহার হচ্ছে না, পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা যায় যে, ১৯৯৭ সালে দেশের উত্তরাঞ্চলের মধ্যপাড়া কঠিন শিলার পাথর ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা রেলযোগে সরবরাহের জন্য দুটি রেলপথ স্থাপন করা হয়। সেই সময়কালে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। উত্তরাঞ্চলের পার্বতীপুর ও পশ্চিম অঞ্চল রেলের প্রধান প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পার্বতীপুর থেকে দক্ষিণে ৯ কিলোমিটার দুরত্বে ভবানীপুর মিনি রেলষ্টেশন মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রধান খনির প্রকল্প পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন করা হয়। এ জন্য সেই সময়কালে ৯৫দশমিক ৯২একর জমি হুকুম দখল করা হয়। ১৯৮১সালের দিকে অধিগ্রহণকৃত খয়েরপুকুর হাট ৫৪দশমিক ৫৮একর জমিতে ৬ দশমিক ৪১ কিলোমিটার রেল লাইন স্থাপনের জন্য মাটির কাজ, ব্রীজ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। রেল লাইন বসানো এবং পাথর দেয়ার কাজ ও শেষ করা হয়। মাটির কাজের পাশাপাশি ভবানীপুর রেল মধ্যপাড়া নির্মানাধীন রেলপথে সেই সময়কালে ৮টি নতুন ব্রীজ এবং পার্বতীপুর ভবানীপুর রেল লাইন স্থাপনের জন্য ৮টি নতুন ব্রীজের নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ কাজ সমাপ্ত করা হয়। খয়েরপুকুর হাট থেকে মধ্যপাড়া পর্যন্ত বাঁকী ৯দশমিক ৫৯ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৪দশমিক ৩৪একর জমি ঐ সময়কালে অধিগ্রহণ করে ভূমি মন্ত্রনালয়। সেই জমি দিয়ে রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এদিকে মধ্যপাড়া ও বড়পুকুরিয়া খনিতে রেলসংযোগ সমাপ্ত করার জন্যে সেই সময়কালে দ্রুত কাজ চালিয়ে দুটি রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছিল। ভবানীপুর রেলস্টেশন থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি পর্যন্ত ৪কিলোমিটার রেলসংযোগ স্থাপন কাজের জন্য পৃথকভাবে ১৩দশমিক ৬১একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ই জুলাই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির রেললাইন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করেন। এই দুটি প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪শকোটি টাকা। এর মধ্যে ৩শকোটি টাকা খরচ হবে ইঞ্জিন ও বগী ক্রয় করতে , বাঁকী ১শ কোটি টাকা রেললাইন, সিলপার ও পাথর ক্রয় কাজ এবং ব্রীজ নির্মাণ কাজে ব্যয় করা হয়। বর্তমান ২যুগ পার হলেও দুটি প্রকল্পের রেললাইন এখন আর ব্যবহার হচ্ছে না। রেললাইন স্থাপন হলেও ওয়াগানে কোন কয়লা ও পাথর সরবরাহ করা হয় না। বর্তমান রেললাইনের দুই ধারে শুধু লাইন পড়ে রয়েছে, আবর্জনা আর জঙ্গলে ঢেকে গেছে রেল লাইন। মধ্যপাড়া পাথর খনির রেল স্টেশন টি নির্মাণ হলেও সেখানে কোন পয়েন্টসম্যান, স্টেশন মাষ্টার বা দেখভালের জন্য সেখানে কোন জনবল নেই। স্টেশনের দুই ধারে লাগানো শত শত আমগাছ, মাল্টার গাছ ও অন্যান্য ফল মূলের গাছগুলি দেখার মতো হলেও বছরের শেষে রেলওয়ে এখান থেকে কোন সুবিধা পান না। এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা বছরে প্রায় ১০লাখ টাকার আম বিক্রি করে দিয়ে নিজের পকেট ভারী করছেন। পাশাপাশি এখানে কিছু উটতি বয়সের লোকজনেরা নেশার আড়ৎ তৈরী করেছেন। অনেকে রেললাইনের সিলপারসহ অন্যান্য মালামালগুলি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছেন। দেখার কেউ নেই। এতটাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্পের জন্য রেললাইন দুটি নির্মাণ করলেও বর্তমানে প্রকল্পের জন্য কোন কাজে লাগছে না। আর প্রকল্পের টাকা দিয়ে ইঞ্জিন ও বগী কেনা হয়েছে তা কোথায় রয়েছে অনেকে জানে না। আদৌ কেনা হয়েছিল কি না এই নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্নও জেগেছে। এ ব্যাপারে দুটি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের কোন মাথাব্যাথা নেই।