May 17, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

মহাব্যাস্ত ঝিনাইদহের টেইলার্স কারিগররা

মহাব্যাস্ত ঝিনাইদহের টেইলার্স কারিগররা

মহাব্যাস্ত ঝিনাইদহের টেইলার্স কারিগররা

ঝিনাইদহ-
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের বেশির ভাগ টেইলার্সের মালিক ও ক্রেতারা করোনার ভয় বা লগডাইন ঘোষনা থাকলে ও এসব কিছুই মনে করছে না। দোকানের সামনে লেখা আছে নো মাস্ক্র নো সার্ভিস কিন্তু এসব লেখা কোন কাজেই আসছে না। সরেজমিনে দেখা যায়,শহরের ছোট বড় টেইলার্সের কারিগররা অত্যন্ত ব্যাস্ত সময় পার করছেন। ঈদের এখনও প্রায় এক সপ্তাহ বাকি থাকতেই তারা অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেকে ছিট কাপড়ের দোকান থেকে কাপড় কিনে টেইলার্সে টেইলার্সে ঘুরছেন। কিন্তু টেইলার্স মালিকদের হাজার অনুরোধ করেও পাথর গলাতে পারছেন না। ইকবাল হোসেন রহমান নামের একজন কারিগর জানান,তিনি শহরের একটি বড় টেইলার্সে ১১ বছর ধরে কাজ করছেন। বছরের অন্য সময়ে কাজ একটু কম থাকলেও দুই ঈদ এবং দূর্গা পূজার সময় তাদের ব্যস্ততার কমতি থাকে না। এ সময়ে তাদের রোজগারও হয় ভালো। কিন্তু কষ্ট হয় খুব বেশি। কেননা বিশ্রাম নেওয়া তো দুরের কথা সারা রাত জেগে কাজ করতে হয়। এভাবে কাজ করে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবুল কালাম নামের অপর এক কারিগর জানান,কাজের চাপে ৫ দিন হলো বাড়ি যেতে পারেন না। রাতদিন দোকানের কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। সেলাই মেশিন চালাতে চালাতে গভীর রাতে ঘুমের কাছে যখন পরাজিত হচ্ছেন তখন চেয়ার ছেড়ে একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছেন। সেটা বেশি সময়ের জন্য নয়। কারণ দোকানের ঐতিহ্য রক্ষার্থে সময় মত অর্ডারী পোশাক সাপ্লাই দিতেই হবে। শহরের অনিচুর রহমান টেইলার্সের সত্বাধিকারী অনিচ জানান,তার দোকানে মোট ২০ জন কারিগর কাজ করেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর কাজের চাপ বেশি। আজ থেকে ৫ দিন আগে থেকে সকল ধরনের অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। যে অর্ডার নিয়েছেন তাদের পোশাক তৈরী করে দিতে কারিগরদের সাথে তিনি নিজেও সারারাত জেগে কাপড় কাটছেন। তিনি জানান,সব ধরনের পোশাক তৈরীর অর্ডার নিয়েছেন। তবে বিভিন্ন মডেলের পাঞ্জাবীর কাজটাই তিনি বেশি নিয়েছেন। ঈদ সামনে রেখে নিজেদের পছন্দমত পোশাক বানাতে তরুণ-তরুণীদের অনেকেই এবার কিনছেন গজ কাপড়। এরপরেই ছুটছেন দর্জির দোকানে। আর ঈদকে কেন্দ্র করে অর্ডারের চাপে দর্জিপাড়ার ব্যস্ততাও বেড়েছে বেশ। কালীগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেট ও মল-এ দর্জির দোকান ও টেইলারিং প্রতিষ্ঠান গুলোতে তুমুল ব্যস্ততার ছবিই চোখে পড়েছে। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লার দর্জি-দোকান গুলোতে ও কাপড় সেলাইয়ের প্রচন্ড ব্যস্ততা দেখা গেল। নিয়মিত কাস্টমার ছাড়া পোশাক তৈরির অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। দর্জির দোকান গুলোতে রাতদিন চলছে সেলাই মেশিনের চাকা। কর্মীদের কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ সেলাই করছেন,কেউ বোতাম লাগাচ্ছেন, কেউবা কাপড় ইস্ত্রি করছেন। এভাবে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। দর্জি দোকানে অর্ডার দিতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদ এলেই টেইলার্সের মজুরি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ‘অর্ডার নেবে না, নেবে না’ বলে বেশি মজুরির আশায় পরে ঠিকই অর্ডার নেয় তারা। জাহাঙ্গির টেইলার্সের মালিক বলেন, ঈদে সরকারি-বেসরকারি সব চাকুরিজীবী বোনাস ও বাড়তি ভাতা পান। আমাদেরও ঈদে কর্মীদের বেতন বোনাস দিতে হয়। তারা রাতদিন পরিশ্রম করে। এজন্য সেলাইয়ের মজুরি একটু বেশি ধরা হয়। ঈদের সময় সমাজের মধ্যবিত্তরা বেশির ভাগ তাদের দোকানে উপচে পড়া ভীড় করে থাকেন। তারা কাপড় কিনে ইচ্ছে মত নকশা ও ডিজাইনের পোশাক তৈরী করে থাকেন। এ বছর তাদের টেইলার্সে অনেক ভীড়। এখন আর অর্ডার নিচ্ছেন না। তারপরও ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকেকে না করতে পারছেন না। যে কারণে দোকানের কারিগরসহ সকলকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। এমন অবস্থা ঈদের আগের রাত পর্যন্ত চলবে। এ সময়টাতে তাদের কষ্ট হয় বেশি। কিন্তু নিজেদের তৈরী করা নানা ডিজাইনের পোশাক কাষ্টমারদের হাতে তুলে দেয়ার মধ্যে অন্য রকমের এক আনন্দও রয়েছে।