July 30, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

A good teacher is a live long good student. A good teacher must be a good guide director.

A good teacher is a live long good student. A good teacher must be a good guide director.

“যে দেশে জ্ঞানীর কদর নেই, সে দেশ গুণী জন্মাতে পারেনা”।

আব্দুল করিম সরকার পীরগঞ্জ (রংপুর) থেকে: ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে- “ঊফঁপধঃরড়হ রং ঃযব নধপশনড়হব ড়ভ ধ হধঃরড়হ” অর্থ্যাৎ-শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। এটা আমরা সবাই জানি এবং স্বীকারও করি। কিন্তু বাংলাদেশের মত একটা মধ্যম আয়ের দেশে কি আমরা শিক্ষা নামের এই মেরুদন্ডটুকুর গুরুত্ব বুঝিনা? আমরা কেন এই শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছিনা? শিক্ষকদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে তৈরী করেন শিক্ষকরাই। নৈতিকতা সমৃদ্ধ মানুষ গড়ার মূল কারিগর শিক্ষকরাই। তাই সকল বঞ্চনা-বৈষম্য দূরীকরণ এবং যথার্থ সম্মান ও মর্যাদা দিতে হবে শিক্ষকদের। মহান সৃষ্টিকর্তা শিক্ষকের জীবনকে আলাদা বৈচিত্র, সুখময় মাধুর্য দিয়ে সম্মানী করেছেন। যেখানে সুখ আছে, শান্তি আছে, মর্যাদা আছে এবং আছে আনন্দঘন উচ্ছ্বাস ভরা প্রগতিশীলতা। সুতরাং শিক্ষকতা নামক মহান পেশায় পদার্পণকারী ব্যক্তি অবশ্যই সামাজিক ছাঁচে গড়া সুন্দর নৈাতকতা পূর্ণ আদর্শের প্রতীক হবেন। শিক্ষক হবেন সুন্দর মন ও পবিত্র আত্মার শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী প্রজ্ঞাধারী আদর্শ মানুষ। তবে, স্বীকার করতেই হবে- শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। পেশাগত নীতির প্রতি দৃঢ় আস্থা এবং এ সকল নীতি অনুসরণের ক্ষেত্রে অবিচল নিষ্ঠা কেবল একজন শিক্ষকের মর্যাদাকেই বৃদ্ধি করে না, বরং পেশাকেও দৃঢ় আসনে অধিষ্ঠিত করায় আজ এমন একজন শিক্ষকের কথা বলছি। এমনি একজন শিক্ষক ছিলেন আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসেন সরকার। যিনি হাজার হাজার ছাত্র/ছাত্রীদেরকে কথা বলতে শিখিয়েছিলেন। পৃথিবীকে জানতে শিখিয়েছিলেন। ভাল-মন্দ, উচিত, অনুচিত, বিনয়, নম্রতা সর্বোপরী এক একটি শিক্ষার্থীকে জ্ঞানের আলোয় শানিত করেছিলেন। জাতির মেধা আর মননকে, সমাজ থেকে যাবতীয় কু-সংস্কার, কু-প্রথা অন্ধকার দুর করে সমাজকে প্রতিষ্ঠা করার মহান দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় তার হাত ঘুরে জীবন ফিরে পেয়েছিলাম। অনেক গুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পীরগঞ্জ উপজেলার ১২নং মিঠিপুর ইউনিয়নে মন্ডলের বাজার দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করে সুপার হিসেবে বিগত ১৯৮৬ ইং সাল হইতে ২০১৮ইং সাল পর্যন্ত সততা, সুনাম আর দক্ষতার সাথে ৩৩ বৎসর ধরে একাধারে সুপারের দায়িত্ব পালন করে সম্মানের সাথে অবসর গ্রহণ করেছেন। তৎকালীন সময়ে অত্র উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ঘনশ্যামপুর হাজী কলিমুদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা (১৫নং কাবিলপুর), সাহাপুর দাখিল মাদ্রাসা (১১নং পাঁচগাছী), কুমরসই দাখিল মাদ্রাসা (৫নং মদনখালী), ঢোড়াকান্দর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা (৩নং বড়দরগাহ), পরশুরামপুর দাখিল মাদ্রাসা (৮নং রায়পুর), শুকানচৌকি আ: জলিল মাদ্রাসা (৯নং পীরগঞ্জ), আরাজী গঙ্গারামপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা (পীরগঞ্জ পৌরসভা), সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে পীরগঞ্জ সদরে পীরগঞ্জ বালিকা দাখিল মাদ্রাসাটি নারী শিক্ষা প্রসার বিস্তারে প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন। এছাড়াও আরও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড তাকে হয়ত অমর করে রাখবে। এসব কারণেই বিভিন্ন অফিসে-আদালতে অনেক সুনাম আছে। প্রশাসনিক কর্মতৎপরতা এবং প্রজ্ঞা ছিল অটল। তাই তিনি সমাজ সেবকের পাশাপাশি একজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিও বটে। খুব কষ্ট আর পরিশ্রম করে শিক্ষা লাভ করতে হত। তখনকার যূগে যে শিক্ষা, সেই শিক্ষায় সু শিক্ষিত নাগরিক গড়ে তোলার বীজ উপ্ত ছিল। শিক্ষাকে তিনি ব্যবহারিক হিসেবে নিয়েছিলেন বলেই আজ হয়ত এমন একটি পর্যায়ে আসীণ হয়েছেন। পলাশবাড়ী সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসা, গাইবান্ধা থেকে দাখিল পাশ করেন। এরপর আলিম পাশ- সদরা কুতুবপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা, রংপুর থেকে। ফাযিল পাশ করেন সরলিয়া টি.এম. ফাযিল মাদ্রাসা, রংপুর থেকে। কামিল (হাদিস) পাশ- বড় রংপুর কেরামতিয়া কামিল মাদ্রাসা, রংপুর। কামিল (ফিকাহ) পাশ- পাঁচলাইশ ওয়াজেদিয়া কামিল মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম। কামিল (তাফসির) পাশ- মহিমাগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা, গাইবান্ধা। মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সাধারণ শিক্ষায়ও অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। সাধারণ শিক্ষায় এস,এস,সি পাশ করেন মিঠাপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়, রংপুর থেকে। এইচ,এস,সি পাশ- শঠিবাড়ী ডিগ্রী কলেজ, রংপুর এবং বি,এ পাশ- শঠিবাড়ী ডিগ্রী কলেজ, রংপুর। আমরা বিশ্বাস করি, A good teacher is a live long good student. A good teacher must be a good guide director.শিক্ষক সম্পর্কে ভার্কির দেয়া বিখ্যাত এই উক্তিটি এখানে উল্লেখ করতে চাই। ভার্কি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সানি ভার্কি তার এক গবেষণায় বলেছেন, “এই গবেষণায় একটি প্রচলিত বিশ্বাস প্রমাণিত হলো যে, যেসব সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা বেশি, সেখানে শিক্ষার্থীরা ভালো শিক্ষা পায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন- “কোনো সন্দেহ ছাড়াই আমরা এখন বলতে পারি, শিক্ষককে মর্যাদা করা কোনো নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটা কোনো দেশের শিক্ষার মানের জন্য জরুরী।” কিন্তু আজ তার কদর নেই আছে যেন অচল পয়সা। অবাক করা ঘটনা না। দেখলে বিশ্বাসই করবেন না। তার হাতে গড়া পীরগঞ্জ সদরে একমাত্র এলেম শিক্ষা প্রতিষ্ঠা পীরগঞ্জ সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসার বিলবোর্ডে তার নাম পর্যন্ত নেই। অথচ, তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীণ সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করায় যথেষ্ট অবদান রেখেছিলেন। তার সার্টিফিকেট দেখেই জানা যায়।