October 25, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

গাইবান্ধার সাঘাটায় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে বৃদ্ধা নিহত, আহত ১০

গাইবান্ধার সাঘাটায় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে বৃদ্ধা নিহত, আহত ১০

“যৌতুকের বলী” হাতের মেহেদীর রং না শুকাতেই জীবন দিতে হলো গৃহবধূ রত্নাকে

সরকার বেলায়েত, পীরগঞ্জ, রংপুর: নববধূর হাতের মেহেদীর রং না শুকাতেই জীবন প্রদীপ নিভে গেল রত্নার। সে মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে নয়, বিষপান করে। নিহতের স্বজনেরা বলছে স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুরী নির্যাতন করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোস্ট মডেম করে রত্নার বাবার বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা যায় পীরগঞ্জ উপজেলার আব্দুল্যাপুর গ্রামের রঞ্জু মিয়ার কন্যা রত্না বেগম (২০) সাথে গত ৪ঠা এপ্রিল ২০২০ সালে মিঠাপুকুর উপজেলার হেলেনচা গ্রামের ছমির উদ্দিনের পুত্র লিটনের সাথে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। বিয়ের পর জানতে পারে লিটন এর পূর্বেও একটি বিবাহ করেছিল এবং তার দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। রত্নার পরিবারের লোকজন শালীস করে সেখানে লিটন পূর্বের স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে বলে তালাকনামা দেখানোর পর দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে ঘর সংসার করবে বলে জানায়। ক’মাস সুখেই কাটছিল রত্নার দাম্পত্য জীবন। কিন্তু দু:চরিত্র লিটন গোপনে গোপনে পূর্বের স্ত্রীর সাথে পুণরায় মোবাইলে যোগাযোগ করে এবং বিভিন্নখানে তার সাথে মেলামেশা করে। পুরো ঘটনাটি রত্না জানার পর লিটনকে বললে তার উপর নেমে আসে বৈশাখের কালো মেঘ। দু’একদিন পরপরই লিটন রত্নাকে মারধর করতো বলে স্থানীয়রা জানায়। পুনরায় গত ৯ মার্চ দিবাগত রাতে লিটন পূর্বের স্ত্রীর সাথে মোবাইলে কথা বলা নিয়ে বাক-বিতন্ডা হয়। সব ঘটনা রত্না শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীকে খুলে বলে। এই কথা লিটন জানতে পেরে তাকে বেধরক মারধর করে। স্বামী, শ্বশুড়- শ্বাশুড়ীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ১০ মার্চ সকাল ৭ টার সময় রত্না সবার অজান্তে বিষপান করে। বিষয়টি জানার পর লিটনের পরিবারের লোকজন প্রতিবেশিদের কাউকে না জানিয়ে স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা করানো হয়। বেলা ৩ টার সময় রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে রত্নার বিষ খাওয়ার বিষয়টি সারাদিন তার বাবার বাড়িতে জানানো হয়নি। যখন মৃত্যু নিশ্চিত হয় তখন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য রত্নার মৃত্যুর বিষয়টি স্বজনদেরকে জানায়। নিহতের স্বজনেরা লিটনের বাড়িতে গেলে রত্নার লাশ ফেলে ঘরে তালা দিয়ে পরিবারের সকলেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি মিঠাপুকুর পুলিশ অবগত হয়ে লাশের সুরতাল তৈরি করে মর্গে প্রেরন করে। পরে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রত্নার বাবা রঞ্জু মিয়া স্বামী লিটনকে এক নম্বর আসামী করে এবং খেজের উদ্দিনের পুত্র ছদির উদ্দিন (৫৫), ছদির উদ্দিনের স্ত্রী রাশেদা বেগম (৪৭), সাং- হেলেনচা, বগেরবাড়ী গ্রামের আব্দুর রহমানের পুত্র মঞ্জু মিয়া (৩৫), তিলকপাড়া গ্রামের ছফর উদ্দিনের পুত্র ফারুক মিয়া (৩৫) কে হত্যা মামলার আসামী করে মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন লাশ মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে রত্নার স্বজনেরা দাবী করছে রত্নাকে যৌতুকের জন্য মার-ডাং করে মুখে বিষ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।