October 28, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

সাবেক ডিসি মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে এবার হাজার কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি

সাবেক ডিসি মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে এবার হাজার কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি

সাবেক ডিসি মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে এবার হাজার কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি

তিন হাজার বিঘা জমিতে ফলেছে সোনালী ধান॥

ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি
একসময় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৩ হাজার বিঘা জমি জুড়ে ছিলো শুধুই জলাবদ্ধতা। এবছর সেই জমিতে সোনালী ধানের দোলা, হাজার গৃহস্থের মুখে খুশির ঝিলিক। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকরা বলছেন, ওই তিন হাজার বিঘা জমিতে এবার ব্যপক ফলন হওয়ায় প্রায় ৭৫ হাজার মন অতিরিক্ত ধান উৎপন্ন হবে।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খয়েরবাড়ী এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের উত্তরের লালপুর গ্রাম থেকে দক্ষিণে দূর্গাপুর গ্রাম পর্যন্ত তিন হাজার বিঘা ফসলের মাঠ। এই ফসলের মাঠের পশ্চিম প্রান্তে ছোট যমুনা নদী। বারাইপাড়া গ্রাম থেকে ছোট যমুনা নদীতে পানি নিষ্কাষনের ক্যানেল রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাঁধায় ফসলের মাঠ থেকে বারাইপাড়া পানি নিষ্কাশনের ক্যানেল পর্যন্ত ৩’শ মিটারের একটি সংযোগ ক্যানেল না হওয়ায় জলবদ্ধতা দেখা দেয় তিন হাজার বিঘা ফসলি জমিতে। ফলে সব ধরনের চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন প্রায় ১ হাজার কৃষক।
অবশেষে গতবছর ২৪ অক্টোবর তৎকালিন ডিসি বর্তমান শিক্ষামন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল আলম নিজে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে একদিনের ৩০০ মিটার ক্যানেল খনন করেন। এতে নিরসন হয় জলাবদ্ধতার। ফলে দীর্ঘদিন পর এবছর সেই তিন হাজার বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ করেন স্থানীয় কৃষকরা।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো তিন হাজার বিঘার ফসলের মাঠ জুড়ে পাকা আধাপাকা ধানে ভরে রয়েছেন। বেশ কিছু জমিতে কিষান-কিষানিরা ধান কাটায় ব্যস্ত। বারাইপাড়ার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষিকাজই তাঁর একমাত্র পেশা। এবার তিনি ৭ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে তাঁর গড়ে ২৫ মন করে ধান হয়েছে। অথচ গত ৪ বছর ধরে একটি ফসলও তিনি পাননি। গতবছর মাহমুদুল আলম ডিসি ক্যানেল না খুঁড়লে এবছর কোন ফসল আবাদ করতে পারতেন না। ফলে পরিবার নিয়ে তাঁকে পথে বসতে হতো। মাহদিপুরের কৃষক সাইদুর মিয়া জানান,দীর্ঘদিন এসব জমিতে কোন ফসল আবাদ না হওয়ায় এখানকার কৃষকরা দিনে দিনে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছিলো। মাহমুদুল ডিসির কারনে আজ অনেক কৃষক সেই ঋণের জাল থেকে মুক্তি পাবে। গৃহিনী রাবেয়া খাতুন জানান, তাঁদের বাড়িতে ৬ টি গাভী ছিলো। কিন্তু জমিতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যোর সংকট দেখা দেয়। বাজারে গোখাদ্যোর দাম ব্যপক বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁরা গাভীগুলো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। জমির পানি নিষ্কাশনের ফলে এবছর আবাদ শুরু হওয়ায় তাঁরা নতুন করে গাভী পালনের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন জানান, বিভিন্ন মহলে অনেক দেন দরবার করেও দীর্ঘদিনেও ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কোন সূরাহা করা সম্ভব হচ্ছিলোনা। অবশেষে দিনাজপুরে মাহমুদুল আলম ডিসি হিসেবে যোগদান করার পরই ক্যানেলটি খোঁড়ার উদ্যোগ নেন। অবশেষে গতবছর ২৪ অক্টোবর দিনাজপুর-৫ আসনের এমপি সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের সহযোগিতায় তৎকালিন ডিসি মাহমুদুল আলম নিজে এসে কোদাল ধরে ক্যানেল খননের সূচনা করে। সারাদিন থেকে ক্যানেল খননের কাজ শেষ করে পানি নিষ্কাশন শুরু করে যান তিনি। যার ফলে উপজেলার দুই ইউনিয়নে হাজারো কৃষকরে মুখে খুশির বন্যা।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, সরকারের ডেল্টা প্রকল্পের আওতায় সরকার ওইসব জমির পনি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিয়েছিলো। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারনে সেই ক্যানেল করা সম্ভব হচ্ছিলোনা। সাবেক ডিসি মাহমুদুল আলমের উদ্যোগের ফলে আজ পানি নিষ্কাশনসহ দুই ইউনিয়নের তিন হাজার বিঘা জমিতে ব্যপক ধান উৎপাদ সম্ভব হয়েছে। ক্যানেলটি পাকা করনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
সাবেক ডিসি ও বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিলো এক ইঞ্চি জমিও যেনো অনাবাদী না থাকে। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা মোতাবেক ওই এলাকার হাজারো কৃষকের দুর্দশা লাঘবে তিনি ওই ক্যানেল খনন সম্পন্ন করেন। যার সুফল আজ শুধু হাজারো কৃষক নয় পুরো উপজেলা, দেশ পাচ্ছে।