January 21, 2022

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

বীরগঞ্জের শামীমা'র ঘাস চাষে ভাগ্য বদল

বীরগঞ্জের শামীমা'র ঘাস চাষে ভাগ্য বদল

বীরগঞ্জের শামীমা’র ঘাস চাষে ভাগ্য বদল

খায়রুন নাহার বহ্নি, বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধি ঃ শামীমা বেগম (৩৮) চার বছর আগের জীবনের সঙ্গে এখন কোনো মিল নেই। ওই সময় তাঁর বসতভিটা ছাড়া কোনো জমি ছিল না। অন্যের জমিতে কামলা খেটে কোনোরকমে সংসার চালাতেন তার স্বামী। একবেলা খাবার জুটলেও আরেক বেলা জুটত না। স্বামী-সন্তানদের নিয়ে প্রায় উপোস থাকতে হতো। আর আজ তিনি সফল ঘাসচাষি। সুন্দর বাড়ি, বিশ শতক জমির মালিক।

বীরগঞ্জের পল্টাপুর ইউনিয়নের কুসুমতৈড় গ্রামের শামীমা বেগমের ভাগ্যের চাকা বদলে গেছে ঘাস চাষে। এখন এলাকার অনেক ঘাসচাষির পথপ্রদর্শক তিনি।

উপজেলার পৌর শহরে থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে পাল্টাপুর ইউনিয়নের কুসুমতৈড় গ্রাম। এই গ্রামে শামীমা বেগমের বাড়ি। গ্রামটিতে ঢুকেই চোখে পড়ে সবুজের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ ঘাসের খেত। কেউ ঘাস কাটছেন, কেউ আঁটি বেঁধে অটো ভ্যান করে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। শামীমার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি বাড়ির পাশে লাগানো জমির ঘাস কাটছেন। সাংবাদিক পরিচয় শুনে আইলে উঠে আসেন। এরপর ঘাস চাষের গল্প শোনান।

শামীমার ঘাস চাষের গল্প:
পীরগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মেয়ে শামীমা বেগম। ২০০৫ সালে পাল্টাপুর ইউনিয়নের কুসুমতৈড় গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মঞ্জু আলী (৪৫) শামীমাকে বিয়ে করেন। স্বামী সন্তান নিয়ে শাীমমার ছোট্ট পরিাবার। দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন তার স্বামী। কাজ পেলে খাবার জুটত, না পেলে অনাহারে থাকতে হতো। তাদের এই কষ্ট দেখে বীরগঞ্জ এপি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সার্বিক সহযোগীতা করে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে ঘাষ চাষের জন্য পরামর্শ ও সাহায্য প্রদান করেন।

কুসুমতৈড় গ্রামটি দেখতে দেখতে ঘাসের খেত সবুজে ভরে ওঠে। ৫০ দিনের মাথায় ঘাস বিক্রি করে খরচ বাদে পাঁচ হাজার টাকা আয় আসে। স্বামীও ঘাষ চাষে তাঁর সঙ্গে কাজে হাত লাগায় ।

এভাবে একপর্যায়ে শামীমা বেগম হয়ে ওঠেন সফল ঘাসচাষি। শুধু যে ঘাষ চাষ করেন তা না বীরগঞ্জ এপি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ থেকে গাভি পেয়েছেন। সেই গাভী থেকেও দুধ পায় সেই দুধ বাজার জাত করে এবং পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। ঘাস চাষ করে শামীমা শুধু নিজের ভাগ্যই বদল করেননি। গ্রামের অনেককেই পরামর্শ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন।