September 22, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

বীরগঞ্জে বৃষ্টির অভাবে কৃষকেরা বিপাকে

বীরগঞ্জে বৃষ্টির অভাবে কৃষকেরা বিপাকে

বীরগঞ্জে বৃষ্টির অভাবে কৃষকেরা বিপাকে

খায়রুন নাহার বহ্নি, বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ আষাঢ-শ্রাবণ মাস বর্ষাকাল। অথচ আষাঢ পেরিয়ে শ্রাবণ মাসে বর্ষার ভরা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। তবে কখনও কখনও আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। কিন্তু হতাশার কালো মেঘে নেই কোন কান্নার ঢেউ। আবহাওয়ার এই বৈরীতার মাঝে বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের আমন চাষীরা। কাঙ্খিত বৃষ্টির অভাবে বিঘিন্ন হচ্ছে তাদের আমন ধানের চারা রোপন। প্রকৃতির বৈরী আচরণে শ্যালো মেশিন এখন তাদের একমাত্র ভরসা।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমান ৩২হাজার হেক্টর। এরমধ্যে ২৯হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। আমন চাষের জন্য প্রয়োজন ৩৬০মিলি মিটার হতে ৪০০মিলি মিটার বৃষ্টিপাতের। কিন্তু জুলাই মাসে এই উপজেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমান মাত্র ২৫০মিলি মিটার। আর এই বৈরী আবাহওয়ার কারণে বর্ষার ভরা মৌসুমে কাঙ্খিত বৃষ্টির অভাবে বিপাকে পড়েছে উপজেলার কৃষক। কোন উপায় না দেখে শ্যালো বসিয়ে পানি সেচের মাধ্যমে বেশির ভাগ জমিতে আমনের চারা রোপন শুরু করেছে কৃষকেরা।
এ ব্যাপারে মোহনপুর ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামের মোঃ মজিবর রহমান জানান, আমন চারা রোপনের জন্য বিঘা প্রতি ১৫ হাজার টাকায় ৭বিঘা জমি বর্গা নিয়েছি। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ার কারণে জমিতে চারা রোপন করা সম্ভব হচ্ছে না। পরে শ্যালো ভাড়া করে নিয়ে এসে পানি সেচ দিয়ে চারা রোপন করতে হয়েছে। এতে করে ধান বীজ,্রশ্রমিক এবং শ্যালো ভাড়া মিলে খরচ বেড়ে গেছে।
সুজালপুর ইউনিয়নের কমোরপুর গ্রামের রশিদুল জানান, বৃষ্টি দেখা নেই। তাই বাধ্য হয়ে লোকজন ভাড়া করে জমিতে আবার শ্যালো মেশিন বসাতে হয়েছে। প্রতিদিন মেশিন নিয়ে যাওয়া আর নিয়ে নিয়ে আসায় যেমন ঝামেলা তেমনি খরচ বেড়ে গেছে। যদি আবহাওয়া না বদলায় যদি প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হয় তাহলে নানান মুখী সমস্যায় পড়বে আমন চাষ। আর এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবুরেজা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আকাশে বৃষ্টির দেখা নেই। কৃষিতে এর প্রভাব পড়েছে। তবে বৃষ্টি শুরু হলে এ সমস্যা কেটে যাবে। আমরা মাঠে গিয়ে এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের করনীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রেখেছি।