October 18, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

গাড়ি কেনার টাকা স্বাস্থ্যসেবায় দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গাড়ি কেনার টাকা স্বাস্থ্যসেবায় দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জনগণকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসে নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশের জনগণকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার গণভবনে গুণীজনদের হাতে স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামারি করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। এর ফলে মানুষের যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, তা ব্যাহত হচ্ছে। সমাজের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষ সমস্যায় ভুগছে। এমন অবস্থার মধ্যেও আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কাজ যাতে অব্যাহত থাকে, তার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আমাদের ৫০ বছর পূর্তিতে আমরা স্বীকৃতিটা পেয়েছি। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা যখন উদযাপন করছি তখন এই স্বীকৃতিটা পেলাম। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যে স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি, সেটুকু ধরে রেখে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সেদিন জাতির পিতার ডাকে যারা যুদ্ধ করেছিলেন, তারা যদি সেদিন সে সাহসটা না দেখাতেন, তাহলে কি আমরা স্বাধীনতা পেতাম? যদিও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ব্যর্থ করে দিতে বহুবার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল। মুছে ফেলা হয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধের গানগুলো থেকেও, যেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম আছে, আমাদের স্বাধীনতার কথা বলা আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি না একটা স্বাধীন জাতি বা স্বাধীন দেশের নাগরিক, যারা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে তারা কীভাবে আবার পরাজিত শক্তির পদলেহন করতে পারে। এটা আমি ভাবতেও পারি না। তবে আজ এটুকু বলতে পারি, আমরা স্বাধীন জাতি, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। কাজেই আমরা সর্বদা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবো, কারো কাছে হাত পাতবো না, করুণা ভিক্ষা করবো না।

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে (বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল) ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২১’ দেয়া হয়। যারা মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন তাদের স্বজনদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পদকপ্রাপ্তদের দেখে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম দেশের জন্য অবদান রাখবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। এই ইতিহাস আর কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।

এ বছর স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে প্রয়াত আহসানউল্লাহ মাস্টার, প্রয়াত আখতারুজ্জামান বাবু, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা একেএম বজলুর রহমান, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ, সাহিত্যে কবি মহাদেব সাহা, সংস্কৃতিতে চলচ্চিত্রকার-গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও নাট্যজন আতাউর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী, সমাজসেবা বা জনসেবায় অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন।

এছাড়া গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয় সরকার।