October 19, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটি এখন প্রমাণিত হয়েছে যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রদর্শিত উন্নয়নের পথেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেলেও তিনি এই সময়ের মধ্যে যে কাজগুলো করে গেছেন শুধু সেগুলোকে অনুসরণ করলেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ এটা প্রমাণিত সত্য যে, আমরা যা কিছুই করছি, যে পথ ধরেই আমরা এগোচ্ছি, তা জাতির পিতা দেখিয়ে গেছেন। তিনি যা যা করতে চেয়েছিলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সেই কাজগুলোকেই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে। এবং এর সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ।

রোববার অপরাহ্ণে জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ’র দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্ম না হতো, তাহলে আমরা বাঙালিরা জাতি হিসেবে কখনো বিশ্বে মর্যাদা পেতাম না, সম্মান পেতাম না। এমনকি একটা রাষ্ট্রও পেতাম না। তিনি তাঁর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত কৌশলের সঙ্গে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং ধীরে ধীরে এদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদেরকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানগুলো করার সুযোগ পাচ্ছি জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল বলেই। অথচ ’৭৫ এর পরে ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নামটি পর্যন্ত মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নাম আর আজকে কেউ মুছতে পারবে না।

তিনি এ সময় কারো নাম উল্লেখ না করে সাবেক সেনাশাসক জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বানানোর জন্যে বিএনপি-জামায়াত এর ষড়যন্ত্রের কঠোর সমালোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাকে মিথ্যা ঘোষক বানানোর চেষ্টা হয়েছিল, আজ আন্তর্জাতিকভাবেও সেই ঘোষকের আর কোনো ঠিকানা থাকবে না। কারণ, আজকে বিশ্ব নেতারাই প্রচার করছেন এবং রেজুলেশনও হচ্ছে যে, ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ জাতির পিতাই প্রথম এদেশে ভাষা আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। সেদিনই প্রথম ভাষার দাবিতে ধর্মঘট পালন করা হয়। এই মার্চ মাসটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কেননা ১৯৭১ সালের এই মাসেই তিনি ৭ মার্চের ভাষণ প্রদান করেন, যেটি বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তিনি জন্মগ্রহণ করেন আর ’৭১-এর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে তিনি দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন।

এ সময় দল ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমি বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ ও আমার দলের নেতাকর্মীদের কাছেও কৃতজ্ঞ। কারণ, তারা ভোট দিয়েছে বলেই আমরা আজ ক্ষমতায়। ফলে আজ আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে পারছি নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। এই উপলক্ষে বহু দেশি-বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এসেছেন, আসছেন এবং অনেকেই বার্তা পাঠাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ থেকে ’৯৬ পর্যন্ত একটা কালো অধ্যায় ছিল। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৬ ছিল আরেকটি কালো অধ্যায়। আমরা সেখান থেকে নিজেদের উত্তরণ ঘটিয়েছি; জাতির পিতার দেখানো পথে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এখন আমরা ’৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ করছি।

তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের বলব, আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষ হবে। পরে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রত্যেকটা সহযোগী সংগঠনকে নিজস্ব কর্মসূচি নিতে হবে। সেটি ঢাকা বা মহানগর পর্যায়ে শুধু নয়, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যন্ত করতে হবে। শুধু আলোচনা, সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ থাকলেই হবে না, দরিদ্রদের সহযোগিতা করতে হবে। করোনায় অর্থনৈতিকভাবে মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা সেটা নিশ্চিত করছি, এ বিষয়গুলো দলের পক্ষ থেকেও দেখতে হবে।

এ সময় ‘শস্যক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু’ তৈরি করে গিনেস বুকে নাম ওঠায় কৃষি ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশেষ করে ওই কৃষককে ধন্যবাদ জানাই, যিনি এ কাজটি করেছেন। তিনিই আমাদের পথ দেখিয়েছেন। কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে জাতির পিতার রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। আর সেটা আন্তরিকতা দিয়ে করতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা পারব।

সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম ও আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।