December 9, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

বহুমূল্যেই বাঙালির প্রতিটি অর্জন, সেধে কেউ কিছু দেয়নি: প্রধানমন্ত্রী

বহুমূল্যেই বাঙালির প্রতিটি অর্জন, সেধে কেউ কিছু দেয়নি: প্রধানমন্ত্রী

বহুমূল্যেই বাঙালির প্রতিটি অর্জন, সেধে কেউ কিছু দেয়নি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষার পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা কথাটি পুনরায় সকলকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, সবকিছু বহুমূল্যেই বাঙালিকে অর্জন করতে হয়েছে। সেধে কেউ কিছুই দেয়নি।

তিনি বলেন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাকিস্তানিরা আমাদের ওপর একটি বিজাতীয় ভাষা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ভাষার অধিকার এবং স্বাধীনতাসহ সবকিছু অর্জন করতে হয়েছে আমাদের। কেউ সেধে কিছু দেয়নি।

শেখ হাসিনা শনিবার সকালে একুশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবল ভাষাভিত্তিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এ আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।

শেখ হাসিনা একুশে পদক প্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকে অমর ভাষা দিবসের যে স্বীকৃতি আপনারা পেয়েছেন, তা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্যই পেয়েছেন। কাজেই আপনাদের কাছ থেকেই আগামী প্রজন্ম অনেক শিক্ষা নিতে পারবে।

তিনি বলেন, দেশের শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা, সংস্কৃতি চর্চা ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন কাজে অবদানের জন্যই এই সম্মাননা। সেজন্য আমি মনে করি এটা শুধু আপনাদের সম্মাননা নয়, গোটা জাতির জন্য সম্মাননা। দেশের মানুষের জন্য সম্মাননা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২১ জন বিজয়ীর হাতে এ পদক তুলে দেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন।

জাতীয় ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে এবার একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।

পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণ পদক, সনদপত্র এবং চার লাখ টাকার নগদ অর্থের চেক প্রদান করা হয়। এবারের ২১ জনসহ এযাবত মোট ৫২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক প্রদান করা হয়েছে। আর ২০১৮ সাল থেকে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২১-এ উন্নীত করা হয়।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন এবং পুরস্কার বিতরণ পর্বটি সঞ্চালনা করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন স্বাগত বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, দেশ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, লেখকসহ বুদ্ধিজীবী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই পুরস্কারকে কোনো ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়, বরং সমগ্র জাতির জন্যই সম্মাননা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাসে একুশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা রক্ত দিয়ে শুধু মাতৃভাষার দাবি প্রতিষ্ঠা নয়, স্বাধীনতা অর্জনের পথ করে দিয়েছিলেন আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানাই।

তিনি এ সময় দেশব্যাপী কোভিড-১৯ টিকা দেয়া চলতে থাকলেও মাস্ক ব্যবহার এবং কিছুক্ষণ পর পর হাত ধোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন।