September 18, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

অষ্ট ধাতুর মাদুলী পঞ্চ ধাতুর ঘর’’

অষ্ট ধাতুর মাদুলী পঞ্চ ধাতুর ঘর’’

অষ্ট ধাতুর মাদুলী পঞ্চ ধাতুর ঘর’’

এস এ মন্ডলঃ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মানুষ অসুখ বিসুখ,জ্বিন,পরী, দেও -দানোর বিপদ বা প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকতে, এক সময় ঝাড় ফুক এর পাশাপাশি “অষ্টধাতুর মাদুলী” গলায়, হাতে এবং কোমরে বাধতেন। তাতে আদৌ কোন উপকার হতো কিনা জানিনা কিন্তু এটা সাধারন মাদুলীর চাইতে বেশ দামী মাদুলী ছিল। কারণ এই মাদুলী সোনা, রুপাসহ অষ্ট ধাতু দিয়ে তৈরী করা হতো বলে, বানিয়ারা অষ্টধাতুর মাদুলী চড়া দামে বিক্রী করতেন; সাধারন মানুষও অনেকটা বেশী দাম দিয়ে কিনতেন এই মাদুলী। আজো এলাকার প্রবীণ লোকজন অষ্টধাতুর মাদুলীর অলৌকিক গুণের কথা অহংকারের সাথে উচ্চারণ করে থাকেন।
আমার ধারনা, আপনারা সকলেই অষ্টধাতুর মাদুলীর বিষয়ে অবগত আছেন। তবে কেউ কী “পঞ্চধাতুর ঘর ” এর কথা শুনেছেন ? মনে হয় শুনেন নাই-
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নে এই “পঞ্চধাতুর ঘর” নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচলা শুরু হয়েছে! আমি মনে করেছিলাম নিশ্চয় “পঞ্চধাতুর ঘর” মানে আশ্চার্যজনক কোন স্থাপনা হতে পারে। অথবা এমন কোন ঘর এটি, যেখানে গেলে বা মানত করলে মানুষের মনস কামনা পূরণ হয়। এমন ধারনা থেকে ক’দিন আগে কৌতুহল নিয়েই দেখতে গিয়েছিলাম “পঞ্চধতুর ঘর”। শুনে ছিলাম ঘরটি শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহারপুর গ্রামে, ওই ইউনিয়নের সন্মানিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মন্টু সাহেবের মুরগীর খামার সংলগ্ন পুকুরের পাড়ে, ছোট পাহাড়পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের পূর্ব-দক্ষিণ কোনে অবস্থিত। যেমন ভাবা তেমন কাজ, আমরা কাঠফাঁটা রোদে উল্লেখিত ঠিকানায় ঘরটি দেখতে যাত্রা করেছিলাম এবং এলাকাবাসীর উদারতা ও সহযোগীতায় পঞ্চধাতুর ঘরটি আবিস্কার করতে সক্ষম হয়ে ছিলাম। এ জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ছবিতে যে ঘরটি দেখছেন তার দৈর্ঘ্য এবং প্রস্ত আনুমানিক ১২ ফুট করে হতে পারে, যে ঘরের সামনে প্লাষ্টার করা থাকলেও পিছনে লাল ইট দাত বের করে হাসছে। এটিই সেই “পঞ্চধাতুর ঘর”।
এই ঘরকে কেন লোকে পঞ্চধাতুর ঘর বলছে ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে,এই ছোট্ট ঘরটি নির্মান করা হয়েছে সরকারী টাকায়। এই ঘর নির্মানে বরাদ্দ ছিল ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৬০১ টাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগ ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে এলজিএসপি-০৩ প্রকল্পের আওতায় এই ছোট্ট ঘরটি তৈরীর নামে সরকারী অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। জানা গেছে এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাবরে অভিযোগ করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে এলাকার মানুষ এই ঘরটিকে “পঞ্চধাতুর ঘর ” মানে সব চেয়ে ব্যয়বহুল ঘর হিসেবে বিদ্রুপ করছেন