July 30, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

গাইবান্ধায় কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় সংসার ভাঙল গৃহবধূর

গাইবান্ধায় কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় সংসার ভাঙল গৃহবধূর

গাইবান্ধায় কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় সংসার ভাঙল গৃহবধূর

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় সংসার ভেঙেছে রোকসানা খাতুন নামে এক গৃহবধূর। স্বামীর বাড়ি থেকে তালাকনামা হাতে ধরিয়ে দিয়ে পাঁচদিন বয়সী শিশুসহ তাকে বিতাড়িত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রোকসানা আক্তার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের ধনিয়ারকুড়া গ্রামের লুৎফর মিয়ার মেয়ে।

জানা গেছে, রোকসানার স্বামী সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামের রাজু মিয়া ও তার পরিবারের আশা ছিল পুত্র সন্তান হবে, কিন্তু হয়েছে কন্যা সন্তান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রোকসানাকে তালাক দিয়েছেন স্বামী রাজু। এরপর কন্যা সন্তানসহ তাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন

রোকসানা আক্তার জানান, রাজু মিয়া সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা সুরভী বেগমকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের সাড়ে তিন বছরেও গর্ভধারণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন রাজু। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন সুরভী। এরপর গত বছর রোকসানা আক্তারকে বিয়ে করেন রেস্টুরেন্ট কর্মচারী রাজু মিয়া। তার স্বপ্ন ছিল পুত্র সন্তানের বাবা হবেন। এ কারণে আড়াই মাস আগে স্ত্রীর পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম করান তিনি। ওই রিপোর্টে রোকসানার পেটে কন্যা সন্তানের উপস্থিতি দেখা যায়। এ খবর জানার পর থেকেই তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কারণে-অকারণে অযত্ন-অবহেলাসহ স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ির শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি।

ভুক্তভোগী বলেন, আমার শ্বশুরবাড়ির সবাই বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে পানি তুলে ব্যবহার করে, কিন্তু আমাকে সেই পানি ধরতে দেয়া হয় না। পেটে সন্তান নিয়ে আমি টিউবওয়েল চেপে পানি তুলে ব্যবহার করতাম। আমার স্বামী ঢাকায় চলে যাওয়ার পর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। ৮ মার্চ প্রসব বেদনা শুরু হলেও শ্বশুরবাড়ির কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ থেকে আমার মা এসে আমাকে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করান। সেখানেই আমার মেয়ের জন্ম হয়।

রোকসানার মা বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার মেয়ে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র পেয়ে সন্তানসহ স্বামীর বাড়িতে যায়। ওইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে ঘরে ঢুকতে দেয়নি তার শ্বশুর-শাশুড়ি। শিশু সন্তান কোলে নিয়ে সে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। পরে তাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি। এ ঘটনা থানায় জানানোর পর পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে দেখে বাড়ির লোকজন পলাতক।

এ বিষয়ে রোকসানার শাশুড়ি আসমা বেগম বলেন, আমার ছেলে তিন মাস আগেই তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে। এ কারণে আমরা তাকে ঘরে উঠতে দেইনি।

সাদুল্লাপুর থানার ওসি মাসুদ রানা জানান, পুলিশ পাঠিয়ে নবজাতকসহ রোকসানাকে উদ্ধার করে তার বাবার বাড়িতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।