August 4, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

ঝিনাইদহব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধইট ভাটার কাগজ বিহীন ট্রাক্টর!

ঝিনাইদহব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধইট ভাটার কাগজ বিহীন ট্রাক্টর!

ঝিনাইদহব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধইট ভাটার কাগজ বিহীন ট্রাক্টর!

ঝিনাইদহ-
একেতো অবৈধ, তারপর কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। সারা জেলা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ মাটি টানা ট্রাক্টর। এ পর্যন্ত ট্রাক্টরের নিচে পড়ে মারা গেছেন অন্তত ৩ জন। বহু আহত হওয়ার খবর রয়েছে। শনিবারও মহিদুল নামে এক ব্যক্তি মাটি টানা ট্রাক্টরের নিচে পড়ে নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ঝিনাইদহ ট্রাফিক পুলিশের কোন মাথা ব্যাথা নেই। নেই প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা। আইনের প্রয়োগ না থাকায় মনে হচ্ছে দেশটা মগেরমুল্লুকে পরিণত হয়েছে। তথ্যনিয়ে জানা গেছে, সারা জেলায় শাতাধীক মাটি টানা ট্রাক্টর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পাশ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা ও যশোর থেকে ভাড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে এ সব মরণঘাতক যানবাহন। ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত এ সব ট্রাক্টরগুলোর নেই কোন বৈধ কাগচপত্র। সবচে ভয়ংকর বিষয় শিশু ও কিশোররা এ সব ট্রাক্টর চালাচ্ছে। তাদের কোন লাইসেন্স নেই। নেই দক্ষভাবে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা। বেপরোয়া গতিতে ট্রাক্টরগুলো গ্রামীন রাস্তাঘাট দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সারা জেলার বৈধ অবৈধ ইটভাটার মাটি টানা হচ্ছে এই টাক্টর দিয়ে। ফলে ৬ উপজেলায় এলজিইডির গ্রামীন রাস্তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পাকা রাস্তায় মাটি পড়ে বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে রাস্তা রক্ষার জন্য ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর ১৯৫২ সালের বিল্ডিং কনষ্ট্রাকশন এ্যক্টের ৩ ধারা মতে একটি পরিপত্র জারী করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের (উন্নয়ন-২) উপ-সচিব জেসমিন পারভিন। ওই আইনের দন্ডবিধির ১৮৬০ এর ধারা ৪৩১ মোতাবেক সরকারী রাস্তার ক্ষতি সাধন ফৌজদারী দন্ডনীয় অপরাধ। এই আইনে ৫ বছরের কারাদন্ড, জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে সরকারী রাস্তার ক্ষতি সাধন হয় এমন কাজ করা যাবে না। অথচ রহস্যজনক কারণে উদাসিন জেলা প্রশাসন। ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক সালাহউদ্দীন জানান, ইটভাটার মাটি টানা ট্রাক্টরের উপরে তাম্বু ফেলে মাটি টানার কথা। যাতে মাটি পাকা রাস্তার উপর না পড়ে। তিনি বলেন বিষয়টি জেলা ইটভাটা মালিক সমিতিকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। তারা যদি ব্যবস্থা গ্রহন না করেন তবে আমরা আইনী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো। বিষয়টি নিয়ে জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম ফোটন জানান, সব ভাটা মালিকদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা মানছে না। তিনি বলেন, আগে কিন্তু রাস্তায় মাটি পড়তো না। কারণ তখন ওভারলোড করতো না। এখন অধিক মুনাফা কারার জন্য ড্রাইভাররা ওভারলোড দিচ্ছে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, চাকলাপাড়া থেকে হরিণাকুন্ডু সড়ক এবং ঝিনাইদহ থেক চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কালীগঞ্জের বারোবাজার, মহেশপুর, শৈলকুপা, কোটচাধপুর ও হরিণাকুন্ডুর গ্রামীন রাস্তাগুলো চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই। নেই ভ্রাম্যমান আদালত। ফলে দিনকে দিন পথচারিদের কাছে সড়ক মহাড়ক অসহনীয় হয়ে উঠছে। এদিকে শনিবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের আড়–মুখী গ্রামের স্কুলপাড়ায় মাটি টানা ট্রাক্টরের চাপায় মহিদুল বিশ্বাস (৫৫) নামের এক কৃষক নিহত হন। মহিদুল বিশ্বাস সদর উপজেলার আড়মুখী গ্রামের হুরমত বিশ্বাসের ছেলে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খবরের সত্যতা স্বীকার করেন। এর আগে মহেশপুর ও হরিণাকুন্ডুর তেলটুপি নামক স্থানে মাটি টানা পরিবহনের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছিলেন।