July 30, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

ঝিনাইদহে কোরবানির জন্য প্রস্তুত এক লাখ ৩১ হাজার গরু ছাগল

দাম নিয়ে শংকায় হাজারো খামারী


ঝিনাইদহ-
ঝিনাইদহে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার গবাদিপশু। এবারের কোরবানিতে কোন পশু সংকট দেখছে না প্রাণী সম্পদ বিভাগ। তবে ভালো দাম পাওয়া নিয়ে শংকায় রয়েছে খামারিরা। জানা গেছে, এ বছর ঝিনাইদহ জেলার ৬ উপজেলায় ৭৯ হাজার ১৭৫টি গরু ও ৫২ হাজার ৩২৮টি ছাগল কোরবানির জন্য তৈরী করা হয়েছে। করোনাকালে অনেকে চাকরি ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে এসে বানিজ্যিক ভাবে খামার করেছেন। সে সব খামারে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা মুল্যের এসব কোরবানির পশু। প্রানী সম্পদ বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, ঝিনাইদহ জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০২টি। গত বছর জেলায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০২টি কোরবানি করা হয়। গতবারের সংখ্যাাটিই কোরবানির চাহিদা হিসাবে ধরা হয়েছে। পশু কোরবানি দিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজারের মত পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। যা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হবে। শহরের নতুন কোটপাড়ার মহিউদ্দীন নামে এক খামারি জানান, সাধারণত ঝিনাইদহে অন্য জেলা থেকে কোরবানির গরু ছাগল আসে না। কিছু সৌখিন মানুষ আছেন যারা মহিষ, ভেড়া, দুম্বা ও উট কিনে আনেন। গত বছর ঝিনাইদহে গরু ও ছাগল ছাড়াও এমন ৬৪২টি পশু কোরবানি হয়েছিল। হরিণাকুন্ডুর হাফিজুর রহমান জানান, ২০২০ সালের মার্চ থেকে দেশে করোনা কারণে লকডাউন শুরু হলে প্রভাব পড়ে মানুষের ব্যবসা ও চাকরির উপর। অনেকেই চাকরি হারিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসে পশু পালন শুরু করেন। তিনিও চারটি পশু কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। বাজার ঠিক থাকলে লাভবান হবেন। তিনি বলেন পশু খাবারের দাম বেশি হওয়ায় ঋণ ও ধার দেনা করে খামার করেছেন। কোরবানির ঈদকে সামনে করে পশুর বাজার ঠিক থাকবে কিনা এ নিয়ে আমরা শংকায় আছি।

দাম নিয়ে শংকায় হাজারো খামারী

বাজার পড়ে গেলে ঝিনাইদহের শত শত খামারী পথে বসবে বলে তিনি মনে করেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের বেতাই গ্রামের সানা মুসল্লীর ছেলে রুবেল মুসল্লী ঈদের বাজার টার্গেট করে গরু মোটাতাজা করেছেন। একটি গরু ইতোমধ্যে ব্যেশ ভালো দামে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখনো তার খামারে একাধিক গরু রয়েছে। চলমান লকডাউন ও ঈদে পশুর হাট বন্ধ থাকলে পশু কেনাবেচা নিয়ে তার মতো অনেকেই শংকিত। গান্না বাজারের ইজারাদার নিলুয়ার জোয়ার্দার জানান, কোরবানির ঈদের আগে সবারই কম বেশি টার্গেট থাকে। কন্তু এবছর লকডাউনের কারণে হাট বসছে না। বাইরে থেকে ক্রেতা বা ব্যাপারীরা আসছে না। যার কারণে হাট ইজারা নিয়ে আমরা বিপদে আছি। নারিকেলবাড়িয়া বাজারের ইজারাদার অলিম্পিক হোসেন জানান, ঈদ সামনে করে পশুর হাট স্বাস্থ্যবিধি মেনে উন্মুক্ত খোলা স্থানে বসানো যায় কিনা তা বেবে দেখা দরকার। ঝিনাইদহ জেলা প্রণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, ঝিনাইদহ জেলায় কোরবানিতে যে পশুর চাহিদা রয়েছে তা পুরণ করে প্রায় সাড়ে ১২ হাজারের মত গরু ও ছাগল উদ্বৃত্ত থাকবে। সেইগুলো ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তবে আশা করা যায় ঈদের আগে খামারীরা এবং বাজারের ইজারাদারেরা যাতে বাজার ধরতে পারে সে বিষয়ে কার্যকরি সিদ্ধান্ত গ্রহন করবে সরকার। আমারাও সে রকম পরামর্শ দিয়েছি।