October 19, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর নির্বাচন: প্রতীক নয় লড়াই হবে ব্যক্তি ইমেজে !

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর নির্বাচন: প্রতীক নয় লড়াই হবে ব্যক্তি ইমেজে !

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর নির্বাচন: প্রতীক নয় লড়াই হবে ব্যক্তি ইমেজে !

জে, ইতি ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীদের নির্ঘুম প্রচার প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌরসভা নির্বাচন। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। তবে ভোটাররা বলছেন ভিন্ন কথা, এবারের নির্বাচনের চিত্র চলছে একেবারেই ভিন্ন মাত্রায়। এই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নই, প্রার্থীদের ব্যক্তি ইমেজের উপরেই পড়বে ভোটারদের ভোট। এই নির্বাচনের লড়াইটা হবে ব্যক্তি ইমেজের উপর।
পৌর নির্বাচনের ৪র্থ ধাপে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি রাণীশংকৈল পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৭০২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৩শ ৯০ ও নারী ভোটার ৭ হাজার ৩শত ১২জন।
২০১৬ সালে ২০ দল মনোনীত প্রার্থী মোকাররম হোসাইনকে পরাজিত করে এ পৌরসভার মেয়র হোন আ’লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলমগীর সরকার।এবারে নৌকা প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন। আ’লীগের আরো ৬জন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
রাণীশংকৈল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১২জন প্রার্থী। এরা হলেন- আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান(নৌকা)আ’লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বর্তমান মেয়র আলমগীর সরকার(ক্যারাম বোর্ড) অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল খালেক(জগ) উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নওরোজ কাউসার কানন(চামুচ)পৌর আ’লীগের সম্পাদক সাবেক ভিপি রফিউল ইসলাম(কম্পিউটার) আ’লীগ নেতা ইসতেখার আলী(মোবাইল ফোন)পৌর আ’লীগের সদস্য উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক সাধন বসাক (নারিকেল গাছ) রুকুনুল ইসলাম ডলার(রেল ইঞ্জিন) প্রতীক নিয়ে । এরমধ্যে ইসতেখার আলী আ’লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নিজেকে নির্বাচন থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।
অপরদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুন নবী পান্না বিশ্বাস(ধানের শীষ) বিদ্রোহীপ্রার্থী পৌর বিএনপির সদস্য মোখলেসুর রহমান(হ্যাঙ্গার) জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আলমগীর হোসেন(লাঙ্গল) নির্দলীয় প্রার্থী মোকাররম হোসাইন(ইস্ত্রি) প্রতিকে নির্বাচনী প্রচারণা করছেন। এদের মধ্যে মোখলেসুর রহমান নিজেকে নির্বাচন থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। নির্বাচনে মেয়র পদের পাশাপাশি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই পৌরসভার বাজারঘাট শহরের অলিগলি জুড়ে ঝুলছে প্রার্থীদের প্রতীক সম্বলিত পোষ্টার। পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো শহর ও পাড়া মহল্লা। সেইসাথে তাল মিলিয়ে চলছে উচ্চ শব্দে ভোটের মাইকিং। প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাইছেন ভোট, ভোটারদের কাছ থেকে নিচ্ছেন দোয়া ও আর্শিবাদ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনার পাশাপাশি চলছে ভোটের হিসেব-নিকেশ।
অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সাধারণ ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। প্রার্থীরা উঠান-বৈঠক, পথসভা, গণসংযোগসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ।
ভোটাররা বলছেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নই, মেয়র প্রার্থীদের দোষ-গুণ, ব্যক্তি ইমেজ এসবের বিশ্লেষণেই হবে ভোটের মাঠের লড়াই। এখন বড় আলোচনা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যক্তি ইমেজে। তবে এবার পৌরসভা নির্বাচনে আ.লীগ ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকায় ব্যক্তি ইমেজের প্রভাব থাকছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আ’লীগের ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে বর্তমান মেয়র আলমগীর সরকার। এছাড়াও পৌর আ’লীগের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (বহিস্কৃত) তিনি একবার কাউন্সিলর ছিলেন, ছাত্রজীবন থেকেই আ’লীগের রাজনীতি করে আসছেন পৌর সমাজে তারও বেশ গ্রহণ্যযোগ্যতা রয়েছে। তাছাড়াও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক সাধন বসাক (বহিস্কৃত আ’লীগ নেতা) তারও হিন্দু সম্প্রদায়ে বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এদিকে আ’লীগের প্রয়াত নেতা উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুকুনুল ইসলাম ডলার ও প্রয়াত উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কাশেমের ছেলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নওরোজ কাওসার কানন তাদের পিতার ব্যাক্তিগত জনপ্রিয়তাও ভোটের মাঠে ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে নৌকার প্রার্থীর। পাশাপাশি নৌকার আরেক বাধা তাদের জোট সঙ্গী জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকায়।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নৌকার জয় মানেই উন্নয়ন। তাই ভোটাররা পৌরসভার উন্নয়নের কথা চিন্তা করে নৌকা মার্কায় ভোট দিবে। আমি আশাবাদী বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় নিশ্চিত হবে। আমি নির্বাচিত হলে পৌরসভাকে একটি জবাবদিহিতা মুলক আধুনিক মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করবো।
বিএনপি মনোনীত মাহমুদুন নবী বলেন, এখানে ভোট কারচুপির একটা শঙ্কা তো রয়েছেই। তারপর বিগত সময়গুলোতে পৌরবাসী বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে, তাই এবারও আশা রাখছি পৌরবাসী আমাকেই জয়ী করবে।
আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র আলমগীর সরকার বলেন,বিগত ৫ বছর আমি পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়নসহ মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাড়িয়েছি। তাই আমি বিশ্বাস করি জনগণ আমাকে পূররায় নির্বাচিত করবে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকাররম হোসাইন বলেন, ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছি তাতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। প্রশাসনিক কোন বাধা বিপত্তি বা ভোটে কোন অনিয়ম না হলে আমি জয়ী হবো বলে বিশ্বাস করি।
আব্দুল খালেক স্বতন্ত্র প্রার্থী জগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন আমি নির্বাচনে জয়ের ব্যপারে আশাবাদী।
অফিসার ইনর্চাজ এস এম জাহিদ ইকবাল বলেন, এ যাবত পৌর নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটের মাঠে যেকোন বিঙ্খলা ঠেকাত পুলিশ বাহিনী সর্বদা মাঠে রয়েছে। সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠিত করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
এদিকে কোন প্রার্থী যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন না করতে পারেন, সেদিকে সার্বিক বিষয়ে নজরদারি রাখছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আখিঁ সরকার।