October 19, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

থাকির জায়গা আসিলো না, আজ থাকি পাঁকা ঘরত থাকিম মুই

থাকির জায়গা আসিলো না, আজ থাকি পাঁকা ঘরত থাকিম মুই

থাকির জায়গা আসিলো না, আজ থাকি পাঁকা ঘরত থাকিম মুই

মাফি মহিউদ্দিন , কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
হ্যামার মাকে (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) আল্লাহ সুস্থ্য রাখুক। হ্যামার মা নিজ হাতে হ্যামাক থাকিবার পাঁকা ঘর দেল ব্যাহে।
থাকির জায়গা আসিলো না, আজ থাকি পাঁকা ঘরত থাকিম মুই। ইউএনও’ক কঙ কুদদিন দেবেন ঘর। খালি কয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হ্যামাক অনুষ্ঠান করি ঘর দিবে বেলে। বিশ্বাস কর নাই। গতকাল (শনিবার) যখন বড় পর্দাদ মোর মাক (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) দেখছু আর মা কইছে হ্যামাক ঘর আর জমি কোনা দিয়ে দেল। শুনিয়া মোর বুক ভরি গেইছে। মোর জীবনোত আর কোন চাওয়া নাই। সারা জীবন মার (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) জন্য দোয়া করি কাটে দেম। নিজ হাতে তৈরি বড় তসবী হাতোত নিয়ে দোয়া করতে করতে “মুজিব শতবর্ষ কাছারীপাড়া আশ্রয়ণ পল্লী” গ্রামে ঘর পাওয়া রহমত আলী আবেগে আপ্লীত হয়ে পড়ে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প হতে নির্মিত ঘর প্রদানের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে অনুষ্ঠানটি উপজেলা পরিষদ হলরুমে বড় পর্দায় দেখানো হয়। সে অনুষ্ঠানটি তিনি নিজে দেখেছেন। পরে ঘরের চাবী, জমির দলিল, খতিয়ান, ডিসিআর ও সনদপত্রের কপি পাওয়ার পর রহমত আলী এভাবে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি ঘরের তালিকায় নাম দেখে তসবী তৈরি করা শুরু করেন। দোয়া করার জন্য প্রায় ১০ ফুট লম্বা তসবী তৈরি করেছেন। সব সময় তসবী হাতে দোয়াও করছেন।
অসহায় এসব উপকারভোগীদের কাছে এক একটি ঘর যেন “স্বপ্ন নীড়”। স্বপ্ন নীড়ে উঠতে উদগ্রীব ও অধীর অপেক্ষায় ছিল এসব গৃহহীন উপকারভোগীরা। সে স্বপ্নের অবসান হয় গতকাল শনিবার। তাই উপকারভোগীদের মাঝে উৎসব আর আনন্দের বন্যা বইছে।
শনিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘর প্রদানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রতি উপকারভোগীকে ঘর ও ২ শতাংশ করে জমি প্রদান করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ উপজেলার উপকারভোগীদের মাঝে স্থানীয়ভাবে ঘরের চাবী ও একটি ফ্লোডারে জমির দলিল, খতিয়ান, ডিসিআর ও সনদপত্র তুলে দেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ মোঃ আবুল কালাম বারী পাইলট, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, শাপলা বেগম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মজিদুল ইসলাম, বাহাগিলী ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শাহ্, নিতাই ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক উজ জামান ফারুক, চাঁদখানা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান হাফি, পুটিমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সায়েম লিটন প্রমুখ।
পরে “মুজিব শতবর্ষ কাছারীপাড়া আশ্রয়ণ পল্লী” গ্রামেও জাঁক জমকভাবে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে প্রতিটি উপকারভোগীদের ঘরের চাবি ও ফ্লোডারে জমির দলিল, খমিয়ান, ডিসিআর, সনদপত্র তুলে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, “আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার” স্লোগান নিয়ে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ১ শ’ ৪০ ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নিমার্ণ করা হয়। এ উপজেলার ১ শ’ ৪০ টি পরিবারকে ঘর ও প্রতিটি পরিবারকে ২ শতাংশ করে জমি প্রদান করা হয়। প্রতিবন্ধী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, বিধাব, স্বামী পরিত্যক্তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে এ উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহীনদের তালিকা করে প্রথম পর্যায় এসব ঘর প্রদান করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প হতে এ ঘরগুলো নির্মিত হয়। প্রতিটি ঘর নিমার্ণে ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা। ১ শ’ ৪০ টি ঘর নিমার্ণে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৩৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।