July 29, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

পীরগঞ্জে এক গ্রামে ৭ বীর

পীরগঞ্জে এক গ্রামে ৭ বীর

পীরগঞ্জে এক গ্রামে ৭ বীর

কাজী লুমুম্বা লুমু ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া

রংপুর সদর থেকে আনুমানিক ২৮ কিলোমিটার দক্ষিনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে বড়দরগাহ্ বাসস্ট্যান্ড।ওই বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঠিক উত্তর-পশ্চিম দিকে পীরগঞ্জ(রংপুর) উপজেলার যুদ্ধবিধ্বস্ত গ্রাম ছোটো মির্জাপুর।৭১-এ পাকবাহিনি প্রায় গোটা গ্রাম পুড়ে ছারখার করে দেয়।ওই গ্রামে ৭ বীর- বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. নুরুল ইসলাম মুক্তিবার্তা(লাল)-০৩১৩০৬০০৩৮, নুরুল হক মুক্তিবার্তা (লাল) ০৩১৩০৬০০৩৯,জিল্লুর রহমান সরকার মুক্তিবার্তা(লাল) ০৩১৩০৬০০২২, আনছার আলী মুক্তিবার্তা(লাল)০৩১৩০৬০০৪৫,মশিউর রহমান মুক্তিবার্তা(লাল)০৩১৩০৬০০৪৬, সেকেন্দার আলী মুক্তিবার্তা(লাল)০৩১৩০৬০০৩৭ ও নুরুল ইসলাম মুক্তিবার্তা(লাল)০৩১৩০৬০০৪৪
এক.বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. নুরুল ইসলাম: ড. নুরুল ইসলাম ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২ জানুয়ারি ছোটো মির্জাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর বাবা ওসমান গনি সরকার ও মাতা উম্মে কুলসুম সুখী।তিনি ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে শঠিবাড়ী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি ও রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে এইচ এস সি পাস করেন।এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন গনিত বিভাগে।স্নাতক ও এম এস সিতে ১ম শ্রেণিতে প্রথম নুরুল ইসলাম কলেজ জীবনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধকালিন বৃহত্তর রংপুর জেলার মুজিববাহিনির অন্যতম সংগঠক নুরুল ইসলাম ভারতে প্রশিক্ষণ নেন ও ৬ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।তিনি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।এরপর ওই বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন।২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ১২ অক্টোবর ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ড. নুরুল ইসলাম ইহলোক ত্যাগ করেন। তাকে মীরপুর বুদ্ধিজীবি গোরস্তানে দাফন করা হয়।
দুই.বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.নুরুল হক: নুরুল হক ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৯ জানুয়ারি একই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর বাবা ডা.আব্দুস সামাদ ও মাতা মেহের আবজান।তিনি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে মির্জাপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি ও ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে এইচ এস সি পাস করেন শঠিবাড়ী মহাবিদ্যালয় থেকে।নুরুল হক ছাত্রলীগে যোগ দেন ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে। তিনি ভারতে প্রশিক্ষণ নেন ও যুদ্ধ করেন ৬ন সেক্টরে। স্বাধীনতার পর তিনি জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং কারাভোগ করেন।পরে আওয়ামীলীগে যোগ দেন।এরপর দুইদফায় ৩নং বড়দরগাহ্ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।বর্তমানে তিনি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিন.বীর মু্ক্তিযোদ্ধা মো.জিল্লুর রহমান সরকার: জিল্লুর রহমান ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ৫ জুলাই একই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর বাবা কলিম উদ্দিন সরকার ও মাতা জমিলা খাতুন।তিনি ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে শঠিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি ও রংপুর কলেজ থেকে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে এইচ এস সি পাস করেন।এরপর পলাশবাড়ি মহাবিদ্যালয় থেকে বি এ পাস করেন ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে।।ষষ্ঠশ্রেণিতে পড়াকালিন জিল্লুর ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। এরপর ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমানের সংস্পর্শে আসেন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগে যোগ দেন।জিল্লুর ভারতে প্রশিক্ষণ নেন ও ৬নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।স্বাধীনতার পর তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জাসদ)-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।পরে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি আওয়ামীলীগে যোগ দেন।
চার.বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.আনছার আলী: ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ৫ জানুয়ারি একই গ্রামে আনছার আলী জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর বাবা আজগার আলী ও মাতা জোহরা বেগম।তিনি মিঠাপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে এস এস সি ও ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে শঠিবাড়ি মহাবিদ্যালয় থেকে এইচ এস সি পাস করেন।তিনি স্কুলজীবনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগে যোগ দেন।এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ভারতে প্রশিক্ষণ নেন ও ৬ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
পাঁচ.বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মশিউর রহমান: মশিউর রহমান ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগষ্ট ওই ছোটো মির্জাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পিতা মশর উদ্দিন ও মাতা আফিয়া বেগম।তিনি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে মির্জাপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাস করেন।পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগে যোগ দেন স্কুলজীবনে।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে প্রশিক্ষণ নেন ও ৬ নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
ছয়.বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলী: সেকেন্দার আলী ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে একই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর বাবা ইসমাইল হোসেন ও মাতা ছকিনা বেগম।তিনি শঠিবাড়ী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে এস এস সি ও ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে এইচ এস সি পাস করেন পলাশবাড়ি মহাবিদ্যালয় থেকে।স্কুল জীবনে তিনি ৩ নং বড়দরগাহ ইউনিয়নের ন্যাপনেতা আব্দুস সোবহান দরবেশের সংস্পর্শে আসেন এবং ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন।পরে কলেজজীবনে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হন।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সেকেন্দার ভারতে প্রশিক্ষণ নেন ও ৬ নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন।তিনি ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ জুন ইহলোক ত্যাগ করেন।
সাত.বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম: একই গ্রামে ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন নুরুল ইসলাম।তিনি শঠিবাড়ি বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাস করেন ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে।তাঁর বাবা ইউসুফ উদ্দিন আকন্দ ও মাতা কুলসুমা বেগম।নুরুল ইসলাম স্কুল জীবনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হন।মুক্তিযু্দ্ধ শুরু হলে কমবয়সী নুরুল ভারতে যান ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।তিনি ৬ নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন।